আছমা’র বাল্যবিবাহ: ৬ মাসের মধ্যে স্বামীর বাড়ি থেকে বিদায়!


প্রকাশিত : মে ২৬, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বেশ সোচ্চার জেলার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রার মনজুর কাদীর। তারই নিষেধ অমান্য করে রাতের আঁধারে স্থানীয় হুজুর দিয়ে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয় আছমার। মানিকহার গ্রামের শাহিন মল্লিক প্রায় সব হারিয়ে প্রবাস ফেরত। এরই মধ্য স্থানীয় মানিকহার মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সাড়ে ১৩ বছর বয়সী কন্যার বিয়ের প্রস্তাব পান তিনি! বিভিন্ন জনের পরামর্শ নিয়ে সর্বশেষ স্থানীয় বিবাহ রেজিস্ট্রার প্রভাষক মনজুর কাদীরের দ্বারস্থ হলে তিনি বিবাহ দিতে নিষেধ করেন। কে শোেেন কার কথা! ছেলে পক্ষের এক আত্মীয় পুলিশে চাকরি করায় ও কিছু আইন ভঙ্গকারী ফৌজদারি অপরাধী ব্যক্তির সহায়তায় স্থানীয় মানিকহার মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী আছমা খাতুনের বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয় গত বছর ২ নভেম্বর গভীর রাতে। ওই রাতেই শিশু আছমাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। স্বামী রুহুল আমীন সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের মাছখোলা হাটখোলা এলাকার মৃত দিদার ঢালীর পুত্র। সে শহরের সুলতানপুর বড়বাজারে একটি মাছের কাটাতে মুহুরীর কাজ করে। আছমা একমাত্র কন্যা হওয়ার বিবাহ জীবনের শুরুতেই স্বামীর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়। চার পাঁচ বার স্বামীর বাড়িতে গেলেও সর্বশেষ ১৫দিন পূর্বে আছমাকে এক কাপড়ে বিদায় করে দিয়েছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এদিকে বিবাহ কোনো ধরনের লিখিত কাগজপত্র না থাকায় রুহুল আমীন বেশ মেজাজেই আছে। বিভিন্ন জন ও মানবাধিকারকর্মী দিয়ে বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির একটি টিম ২৫ মে বিকেলে শাহিন মল্লিকের বাড়িতে যায় এবং তাদেরকে অনেক কথা বলে বোঝানোর পর একটি সাদা কাগজে ছেলের নাম ঠিকানা, বিবাহে নিযুক্ত উকিল, পার্শ্ববর্তী পাঁচপাড়া গ্রামের সেকেন্দার খাঁ, দুজন সাক্ষী, পুরাতন সাতক্ষীরার মৃত মোকাম সানার পুত্র শফিকুল ও পাঁচপাড়া গ্রামের মজিদ খাঁ’র পুত্র সিরাজুল লেখা দেখায়। তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে রুহুল আমীন ঢালী এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সত্যতা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটি প্রশাসনে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।