গরীব হলে মামলার ব্যয় বহন করবে সরকার: জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান


প্রকাশিত : মে ২৬, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান বলেছেন, শুধু বিচার করলে হবে না, ন্যায় বিচার দেখাতে হবে। আমাদের কাজ ও চলাফেরার মাধ্যমে সারা জেলার মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে হবে। বিচার বিভাগকে সকলের চেষ্টায় মজবুত করতে হবে। তিনি বলেন, আপনি গরীব হলে সরকার আপনার মামলার ব্যয় বহন করবে। অর্থ নেই বলে আইনী সহায়তা পাবেন না এটা বর্তমান সরকার হতে দেবে না। যে কোন বিষয়ে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে আইনী পরামর্শ বা সহায়তা পেতে সাতক্ষীরায় লিগ্যাল এইড সব সময় খোলা থাকে। প্রয়োজনে সেখানে যোগাযোগ করলে সহযোগিতা করা হবে।
শনিবার সকালে সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদে ‘বঙ্গ বন্ধুর সোনার বাংলায় শেখ হাসিনার অবদান বিনামূল্যে লিগ্যাল এইডে আইনি সহায়তা প্রদান স্লোগানকে সামনে রেখে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা ও দায়রা জজ বলেন, সরকার বিনামূল্যে দেশের দরিদ্র জনগণকে আইনগত সহায়তা দিচ্ছে। দেশের সুবিধা বঞ্চিত অসচ্ছল দরিদ্র জনগণকে আইনগত সহায়তা দেয়ার জন্য সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০’ নামক একটি আইন প্রনয়ন করেছে। এ লক্ষ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নে একটি আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ও দায়রা জজ এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পরিষদের চেয়ারম্যান দরিদ্র জনগণের মধ্যে বাদী-বিবাদী উভয়ই ও কার্যক্রমের আওতায় বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পেতে পারেন।
প্রধান অতিথি বলেন, অসচ্ছল বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তি বলতে এমন ব্যক্তিকে বুঝাবে যার বার্ষিক গড় আয় ১ লক্ষ টাকার বেশি নয়। সুপ্রীম কোর্টে আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে কোন ব্যক্তি যার বার্ষিক গড় আয় ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকার উর্দ্ধে নয় এবং শ্রমিক (শ্রম আদালতের ক্ষেত্রে ) যার বার্ষিক গড় আয় ১ লক্ষ টাকার উর্দ্ধেব নয় সেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল বলে বিবেচিত হবে। প্রধান অতিথি আরো বলেন, এদেশ গন্ত্রান্ত্রিক সরকার, কল্যাণকর সরকার। বাংলাদেশকে উন্নত ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। অনেক মানুষই জানেনা এ আইন সহায়তা সম্পর্কে। দেশের বহু জায়গায় এখনো এ আইন সঠিকভাবে প্রচার হয়নি। রাষ্ট্রে ও সমাজে আইনের শাসনে সুপ্রতিষ্ঠা করতে হলে লিগ্যাল এইডের সহায়তার কথা সর্বস্তরে প্রচার করতে হবে। দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক, জেল আপীলসহ যে কোন মামলায় দায়েরের পূর্বে কিংবা চলমান মামলার বাদী-বিবাদী, ফরিয়াদি বা আসামি যে কেউ আইনগত সহায়তা পেতে পারেন। আইনী পরামর্শ প্রদান, আইনী তথ্য প্রদান, মামলা দায়ের করতে সরকারি লিগ্যাল এইড তহবিল থেকে ব্যয় বহন করা হয়। সরকারি খরচে মামলা পরিচালনা এবং মামলা দায়েরের জন্য আইনজীবীর ফি ও মামলা সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয় বলেও প্রধান অতিথি বলেন।
কল্যাণ কর বাংলাদেশ ও জাতি গঠনে লিগ্যাল এইডের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভায় ফিংড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বাবু, সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সালমা আক্তার, জেলা তথ্য অফিসার মো. মোজাম্মেল।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা, অগ্রগতি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সবুর বিশ্বাস, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্যামুয়েল ফেরদৌস পলাশ, ব্যাংদহা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোনায়েম হোসেন, সদর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ হোসেন, ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান, আফছার উদ্দীন সরদার, মহাদেব কুমার ঘোষ, আব্দুর রকিব ঢালী, সুকুমার সরদার, আশরাফ হোসেন, মহিলা সদস্য আছিয়া খাতুন, নাছিমা পারভীন, রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।