সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নিয়ে বহিরাগতদের গভীর ষড়যন্ত্র সাংবাদিকদের জানমালের নিরাপত্তা হুমকীর মুখে

গতকাল রবিবার ২৬ মে ২০১৯ সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সুপ্রভাত সাতক্ষীরার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সংবাদ সম্মেলনে ইউনাইটেড ক্লাবের দাবী, দিঘীর পাড়ের তৎকালীন পাবলিক লাইব্রেরীর ছাদ তাদের ৯৯ বছরের লীজ নেওয়া’ শীর্ষক প্রকাশিত খবরসহ আরো ২/১টি পত্রিকায় প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্বলিত খবরের প্রতি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের দৃৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। উক্ত খবরে নিজেকে সাতক্ষীরা ইউনাইটেড ক্লাবের সভাপতি দাবী করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি একেএম আনিসুর রহমান যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা মিথ্যা ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর। উক্ত খবরে ২৩ মে থানায় বসার কথা ছিল বলে যে তথ্য উত্থাপন করা হয়েছে তাও সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কোন পত্র থানা থেকে প্রেসক্লাবে পৌছায়নি।
প্রকৃত পক্ষে ১৯৬৯ সালে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কস্থ দিঘীর পাড়ে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর তৎকালীন এসডিও জনাব শফিউর রহমান উক্ত লাইব্রেরীর মধ্যেই সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব উদ্বোধন করেন। এসময় থেকে দুটি প্রতিষ্ঠান একই সাথে ঐ ভবনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। পরবর্তিতে ১৯৮১ সালে সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরী নবনির্মিত নিজস্ব ভবন পৌরসভার অডিটরিয়ামের নিজতলায় চলে যায়। সে সময় থেকে দিঘীরপাড়ের উক্ত ভবনটি এককভাবে প্রেসক্লাব ব্যবহার করা শুরু করে। পরবর্তিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার মাননীয় মেয়র শেখ আশরাফুল হক খতিয়ান নং ২/২, জে.এল. নং-৯৪, ১২২৮২, ১২২৮৩ নং রেজিস্ট্রি দানপত্র দলিলমূলে উক্ত ভবনসহ মোট ১০ শতক জমি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অনুকূলে হস্থান্তর করেন। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অনুকূলে উক্ত জমির মিউটেশন সম্পন্নের পর বর্তমান ১৪২৬ সন পর্যন্ত খাজনাদিও পরিশোধ করা হয়েছে।
প্রকাশিত খবরে একেএম আনিসুর রহমান সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পুরাতন ভবনের দোতলায় অবস্থিত পরিত্যক্ত ঘরটি তাদের ৯৯ বছর লীজ নেওয়া বলে দাবী করলেও লীজ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেননি। একজন পৌর চেয়ারম্যানের দেয়া প্রত্যায়নপত্রকে তিনি মালিকানার দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে জনমনের বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছেন।
বর্তমানে প্রেসক্লাবের পুরাতন ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। এমতবস্থায় উক্ত ভবনের উপরে যে কোন নির্মাণ/সংস্কার কাজ সেটির ঝুঁিককে আরো বাড়িয়ে দেবে।
তাছাড়া একেএম আনিছুর রহমান বেশ কিছুদিন যাবৎ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে নানা ধরণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি উক্ত সংগঠনের কথিত সভাপতি সেজে প্রেসক্লাবের নিজস্ব জমিতে অনধিকার প্রবেশ করার চেষ্টা করছেন। এরফলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা যে কোন মুহূর্তে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করার চেষ্টা করছেন তিনি।
আমরা প্রকাশিত খবরের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রেসক্লাবের সম্পদ রক্ষায় ও সাংবাদিকদের জান মালের নিরাপত্তার বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনসহ সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শতাধিক হিজড়া ও অসহায় মানুষের ইফতার করালেন পুলিশ সুপার সদর সার্কেল

২০ রমজান, রবিবার সন্ধায় কুখরালীর মোড় সংগ্রাম টাওয়ারে শতাধিক হিজড়া ও অসহায় মানুষের ইফতার করালেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মেরিনা আক্তারের আয়োজনে ও নিজস্ব উদ্যোগে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। জেলার ৪৫ জন হিজড়াসহ শতাধিক অসহায় গরীব মানুষের ইফতারির আয়োজন করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইটাগাছা ফাঁড়ির ইনর্চাজ মো. ই¯্রাফিল হোসেন প্রমূখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: রবিবার শ্যামনগর উপজেলার দেবীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে বিআরডিবির অংশীদারিত্বমূলক পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (পিআরডিপি-৩) এর সহযোগিতায় ক্লিনিকের কমিউনিটি গ্রুপ ও সাপোট গ্রুপের সদস্যদেরকে স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি বিষয়ক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ক্লিনিকের সিএইচসিপি অনিরুদ্ধ কর্মকারের সঞ্চালনায় ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার এসএম এ সোহেল রানার সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণটি প্রদান করেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান। প্রশিক্ষণে নিরাপদ পানি পানের প্রয়োজনীয়তা, নিরাপদ পানির উৎস, নিরাপদ পানি পান করার উপায় সমূহ, পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষার নিয়ম, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা কি, স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানার ব্যবহার, হাত ধোয়ার নিয়মসমূহ সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

গরমে বেড়েছে তাল শাঁসের চাহিদা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র গরমে তাল শাঁসের চাহিদা বেড়েছে। তবে রোজার মধ্যে বিক্রি কিছুটা কমেছে। প্রতিদিন গ্রামের হাট বাজারে প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম অঞ্চল থেকে তাল জেলা শহর ও রাজধানী ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। পাইকগাছা থেকে প্রতি সপ্তাহে ২/৩ ট্রাক তাল ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা কারওয়ান বাজারে পাইকারী বিক্রয় করছে।
তালের শাঁস পানি শূন্যতা দূর করে। দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। খাবারে রুচি বাড়িয়ে দেয়। তাল শাঁসে থাকা উপকারী উপাদান লিভার সমস্যা ও রক্ত শূন্যতা দূরিকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তি উন্নতি করে। তাল শাঁস বমিভাব আর বিস্বাদ দূর করতে ভূমিকা রাখে। তাল শাঁস জেলীর মত হওয়ায় খেতে খুব মুখোরোচক এবং শিশুদের কাছে খুব প্রিয়। পাঁকা তালের মজা বের করে রান্না করে খাওয়া যায়। তালের বড়া , হালুয়া সহ নানা ধরনর খাবার তৈরী করা যায়। তাছাড়া তালের আটি কেঁটে আটির ভীতর থেকে সাদা রঙ্গের শাঁস বের করে খাওয়া যায়। যা খেতে খুব সুস্বাধু।
এ বছর পাইকগাছা অঞ্চলে তালের প্রচুর ফলন হয়েছে। তাল গাছের পাতার প্রতিটি গোড়ায় তালের কাঁদিতে ভরে গেছে। ছোট-বড় কাঁদি হিসাবে ১০/৪০ টি পর্যন্ত তাল একটি কাঁদিতে ধরেছে। এ এলাকায় দুই রকম তালের জাত দেখা যায়। একটি কালছে রঙ্গের আর একটি ধুষর হলদে বর্ণের। স্থানীয় বাজারে এক একটি তাল দুই থেকে চার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে দুই থেকে চারটে আটি হয়। প্রতিটি আটির ভিতরে শাঁস। তাল ছোট-বড় হিসেবে বিভিন্ন দামে বিক্রয় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাল গাছের মালিকের কাছ থেকে গাছ চুক্তি ২শত থেকে ৫শত টাকায় তাল ক্রয় করছে। উপজেলার সিলেমানপুর গ্রামের তাল ব্যাবসায়ী মুজিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন তিনি ফেরি করে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার তাল বিক্রি করেন। ভ্যানে করে স্থানীয় বাজারসহ পাইকগাছা বাজারে তাল বিক্রি করেন। রোজার মধ্যেও প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রয় সহ জেলা ও ঢাকা শহরে তাল সরবরাহ করছে। বড় সাইজের তাল গুলো অধিক দামে বিক্রয়ের জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। পাইকগাছার নতুন বাজার থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ ট্রাক তাল ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী প্রহল্লাদ মন্ডল জানান, প্রতি সপ্তাহে তিনি ১ ট্রাক তাল ঢাকার কারওয়ান বাজারে পাইকারী বিক্রয়ের জন্য পাঠায়। এক ট্রাকে প্রায় ২০ হাজার তাল ধরে। কারওয়ান বাজারে এক ট্রাক তাল প্রায় ১ লক্ষ টাকায় বিক্রয় হয়। ট্রাক ভাড়া ২০ হাজার এবং শ্রমিক ও গাছিদের খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়।
তাল গাছের সব কিছু মানুষের উপকারে আসে। তাল কাছের গুড়ি থেকে ঘরের কড়ে ও বর্গা তৈরী হয়। তালের পাতা ঘরের ছাউনী ও জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। তা ছাড়া তাল গাছ প্রাকৃতিক ঝড় প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। তাল গাছ ক্ষেতের আইলে, বাগান ও অনাবাদী জায়গায় অবহেলা ও অনাদরে বেড়ে ওঠে। তাল গাছ মানুষের এতো উপকারে আসার পরও প্রতি বছর এলাকা থেকে শত শত তাল গাছ কেঁটে ফেলা হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তালের আটি রোপন করা হচ্ছে। তাল গাছ মানুষের উপকারী বন্ধু। তাল গাছ প্রাকৃতিক ঝড় ও ভূমি ক্ষয়ে রোধ করে। তাই কৃষক ও এলাকাবাসীকে তাল গাছ না কেঁটে আরো গাছ লাগানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

শহরের মিনি মার্কেট ব্যবসায়ীদের ইফতার

সাতক্ষীরা মিনি মার্কেট ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার মিনি মাকের্ট চত্বরে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে মার্কেটের সকল ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করে দেশ ও জাতির মঙ্গলকামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজত করেন। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিলেন, ঈষিকা আর্ট, ফুলশয্যা, আনিছ থাই, বাবুল প্রিন্টিং প্রেস, আরিফ আর্ট, সান স্টুডিও, হৃদয় প্রিন্টিং প্রেস, রং তুলি আর্ট, শাপলা মিডিয়া সেন্টার, মামুন কম্পিউটার, সোনালি আর্ট সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন, মো. মাসুদ রানা মনা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আইসিটি বিষয়ে সেমিনারে অংশ নিতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক এমপি সিঙ্গাপুরে

উন্নয়নশীল ডিজিটাল সরকারের আইসিটি বিষয়ে আন্তর্জাতিক ই-গভর্নেন্স পরিসংখ্যান সেমিনারে অংশ নিতে সরকারি সফরে সিঙ্গাপুর পৌছেছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি।
আজ সোমবার সকাল ৯টা থেকে সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘উবাবষড়ঢ়রহম উরমরঃধষ এড়াবৎহসবহঃ ঝঃৎধঃবমরবং : অহ ঙৎরবহঃধঃরড়হ ড়হ ব-এড়াবৎহধহপব’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার। সিংগাপুর সময় সকাল ৯টা থেকে ৩০ মে বিকাল পর্যন্ত চলবে এই সেমিনার। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী আজ সকাল ৯ টায় সেমিনারের উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ থেকে ডা. রুহুল হক এমপি ছাড়াও আরও ৭ জন সংসদ সদস্য আন্তর্জাতিক এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন।
তারা হলেন মোহাম্মদ ইসরাফিল আলম এমপি, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি, আশেক উল্লাহ এমপি, মিসেস আয়শা ফেরদাউস এমপি, ওয়াসিকা আয়েশা খান এমপি, অরমা দত্ত এমপি, নাহিদ ইজহার খান এমপি। এছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের ৮ জন অতিরিক্ত সেক্রেটারি, ডেপুটি সেক্রেটারি, ডিরেক্টর, ডেপুটি ডিরেক্টর, সহকারি ডিরেক্টর সেমিনারে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করবেন।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ২০২১ ভিশন বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ এর মধ্যে উন্নত এবং সমৃদ্ধশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আইসিটি বিষয়ে এই ই-গভর্নেন্স পরিসংখ্যান সেমিনার অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আগামী ৩১ মে সিঙ্গাপুরের সেমিনার শেষে দেশে ফিরবেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে মাটির নিচে সরকারি ওষুধ: পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বিপুল পরিমান ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি এবং সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উভয় কমিটি সাতদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রবিবার সকালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ওষুধ চুরির ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বদিউজ্জান। এছাড়া কমিটির সদস্যরা হলেন পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের প্রতিনিধি এবং ইউএনও সদর দেবাশীষ চৌধুরী। জেলা প্রশাসক বলেন, আগামি সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শাহজাহান আলি জানান, তার নির্দেশে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রবিবার দুপুরে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন ইউরোলজি বিভাগের ডা. রুহুল কুদ্দুস। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন ডা. প্রবীর কুমার বিশ^াস ও ডা. আক্তারুজ্জামান। এ কমিটিও আগামি সাতদিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেবে বলে কথা রয়েছে।
এদিকে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনের পেছনে সেপটিক ট্যাংকের কাছে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ওষুধের নমুনা পুলিশ সংগ্রহ করলেও রবিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় সব ওষুধই সেখানে পড়ে ছিল। কয়েকজন আনসার সদস্য এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন।
এ প্রসঙ্গে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওষুধ চুরির ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যেয়ে তা প্রত্যক্ষ করার পর সেসব ওষুধ পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তত্ত্ব¡াবধায়ক ডা. শাহজাহান আলি জানান, উদ্ধার হওয়া কোনো ওষুধের গায়ে সরকারি সিল নেই। এতে লাল সবুজ চিহ্নও নেই। এ ওষুধ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোরের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যে গজ ব্যান্ডেজ ব্যবহার করি তা থান কাপড়ের তৈরি। অথচ যা পাওয়া গেছে তা কাগজের। তাছাড়া স্টোরে থাকা কোনো ওষুধ খোয়া যায়নি বলে আমি স্টোর কীপার আহসান হাবিব ও স্টোর অফিসার বিভাস চন্দ্রর কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, ওষুধ ক্রয় বা গ্রহণের পর তা সার্ভে কমিটি দিয়ে পর্যবেক্ষন করানো হয়। সেসব তালিকা অনুসরন করলে পরিস্কার হবে যে এ ওষুধ সরকারি নয়। এমনকি তার স্টোর থেকে তা খোয়া যায়নি। তিনি বলেন, ঘটনা যে বা যারাই ঘটাক তা ঘটেছে তিনি সাতক্ষীরায় যোগদানের আগে। তিনি বলেন, আমি এখানে যোগ দান করেছি ২০১৭ এর ১৪ অক্টোবর।
এদিকে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত সবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল ওষুধ চুরির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন অতি দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইন আমলে আনতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ওষুধ দেয় বিনামূল্যে রোগীদের মাঝে বিতরনের জন্য। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ এ ওষুধ বিক্রি করে খায়। তিনি তাদের দেশের শত্রু বলে সমালোচনা করেন। এদিকে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের আহবায়ক এড. ফাহিমুল হক কিসলু বলেন, ‘ওষুধ চোরদের যে কোনো মূল্যে ধরে জনগনের সামনে আনতে হবে। তাদের তুলতে হবে বিচারের কাঠগড়ায়’। তিনি এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্তরের সেপটিক ট্যাংকের কাছ থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় প্রথমে ১০ বস্তা ওষুধ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও ৫ বস্তা সরকারি ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এদিন বৃষ্টির পানিতে ওষুধ ভর্তি বস্তাগুলি বেরিয়ে পড়লে তা সবার নজরে আসে। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় এসব ওষুধ, ক্যানোলা, জিপসোনা, গজ ব্যান্ডেজ ও চিকিৎসা সামগ্রী। বেরিয়ে পড়া এসব ওষুধ ফের মাটি চাপা দেওয়ার জন্য শ্রমিকদের সাথে দরকষাকষির সময় তা জানাজানি হয়।

তালার প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুর রহমান বাঁচতে চায়!

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের নওয়াব আলী ফকিরের আড়াই বছর বয়সী প্রতিবন্ধী শিশুপুত্র মো. আব্দুর রহমান ফকির বাঁচতে চায়। মস্তিস্কে পানি জমার পাশাপাশি শিরা ও পাজরের হাড়ে সমস্যা হয়ে সে এখন মৃত্যুপথ যাত্রী। চিকিৎসকরা বলেছেন, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু হতদরিদ্র পিতার পক্ষে এত টাকা যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। একমাত্র আয়ের উৎস ইঞ্জিনভ্যানটি বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসার পিছনে খরচ করে এখন তিনি নিঃস্ব। ছেলের চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হতভাগ্য পিতা নওয়াব আলী ফকির। তিনি তার ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিকাশ মোবাইল নম্বর ০১৭৬৭-৯০৫১৪৭।

অসহায় ভ্যান চালকের কন্যা বিথির চিকিৎসায় মানবিক আবেদন

মানুষ মানুষের জন্য। জীবন জীবনের জন্য। সকলের সামান্য সহযোগিতায় বেঁচে যেতে পারে একটি শিশুর জীবন। ফিরে পেতে পারে নির্মল হাঁসি। গরিব অসহায় ভ্যান চালকের কন্যা বিথি (১৫) শহরের চালতেতলা এলাকার কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। তার পিতা ভ্যান চালক হাফিজুল ইসলাম। পিতার সামান্য আয়ের তাদের সংসারই ঠিকমত চলে না। যে কারণে তার মাতাকেও অন্যের বাড়িতে কাজ করতে হয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিথি হার্ট লিক হয়ে যায়। বহু কষ্টে অর্থ উপার্জন করে এ পর্যন্ত তার চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু দ্রুত হার্ড অপারেশন করতে না পারলে তাকে আর বাঁচানো যাবে না। অপারেশন করতে প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার প্রয়োজন। যা তার গরিব পিতা-মাতার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই অসহায় পরিবারটি কন্যার সুচিকিৎসার জন্য তাকিয়ে আছেন সমাজের দানবীর মানুষের দিকে। সকলের সামান্য সহযোগিতা পেলে হয়তো বিথি আবারো সকলের মত হেঁসে খেলে সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবে। তাকে সাহায্য পাঠাতে-শাহানারা খাতুন (মাতা) বিকাশ নং- ০১৯১৭ ৮৬৮২৩৩ অনুরোধ জানানো হয়েছে । প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মামলা করলেন না অথচ বাদী হলেন!

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসল অভিযোগকারীর পরিবর্তে লোক সাজিয়ে এবং সহি স্বাক্ষর জাল করে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ উঠেছে। আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। বাদী না হয়েও মিথ্যা অভিযোগে আদালতে মামলা হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতিতে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন সাতক্ষীরার পলাশপোল এলাকার মরহুম নুরুল ইসলাম খানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম খান। সিরাজুল ইসলাম খান জানান, গত ১৪ মে সাতক্ষীরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১ এ আইনজীবী এড. মো. মুজিবর রহমান আমার নাম এবং জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামের শেখ আব্দুস সাত্তারের ছেলে শেখ সালাউদ্দীনকে আসামী শ্রেণিভূক্ত করে সিআরপি ১২৮/১৯ (সাত) নং মামলা দাখিল করেন। ওই মামলা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা, আমি কোন আদালতে হাজির হয়নি এবং কোন স্বাক্ষর প্রদান করিনি। আমার পিতার নামসহ বিভিন্ন তথ্য ভুল লেখা আছে। এর পরেও থেমে থাকেনি ষড়যন্ত্রকারীরা আমার ঠিকানায় মামলার ফটো কপি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠালে আমি আশ্চর্য হয়েছি। আমি মামলা করলাম না অথচ মামলার বাদী হয়ে গেলাম। পরবর্তীতে আমি প্রতিকার চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতি বরাবর আবেদন জানিয়েছি। এব্যাপারে আইনজীবী এড. মো. মুজিবর রহমান বলেন, এড. আশরাফুল আলমের মুহুরী বাবু ভুঁয়া লোক উপস্থিত করে আমার দিয়ে এ মিথ্যা মামলা করিয়েছে। সিরাজুল ইসলাম খান এ মামলার বাদী নয় মর্মে প্রত্যয়ন দিয়েছেন। অনেক নিরীহ জনগণ এধরনের মিথ্যা অভিযোগের কারণে সম্মানহানীসহ হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তাই এ ব্যাপারে ভূক্তভোগি ও সচেতন মহলের দাবি দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

রূপসী বাংলা সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত সাতক্ষীরার মেয়ে শিমুল

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ পেলেন সাতক্ষীরার মেয়ে শিমুল পারভীন। গত ১৪ মে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জীবনানন্দ কমিটি আয়োজিত সাহিত্য পুরস্কার অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক রূপসী বাংলা পুরস্কারে ভূষিত হন শিমুল পারভীন। বাংলাদেশ ও ভারত থেকে এ যাবত ৪০টি বই প্রকাশিত হয়েছে তার।
জীবনানন্দ উৎসব কমিটি ২০০৭ সাল থেকে এ পুরস্কার প্রদান করে আসছে। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য এ বছর সাহিত্যকৃতির জন্য বাংলাদেশ থেকে লেখিকা হিসেবে তিনি এ পুরস্কার পেলেন।

জেলায় সুবিধা বঞ্চিত নারীদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে প্রেরণা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সমাজের অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের ভাগ্য বদল হয়েছে ব্যাগ তৈরি কাজ করে। আর এই ব্যাগ তৈরির কাজে সহযোগিতা করছে সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত ‘প্রেরণা’ নামের একটি নারী সংগঠন। এখানে কাজ করে হয়েছে শতাধিক নারী স্বাবলম্বী। তাদের ছেলে মেয়েরা লেখা পড়ার পাশাপাশি সব ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। প্রেরণার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নিজেরাই ব্যাগ তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। তাদের তৈরি ব্যাগ সাতক্ষীরা শহরসহ জেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রি হচ্ছে ।
জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার স্কুল শিক্ষিকা শম্পা গোস্বামী সমাজের সুবিধা বঞ্চিত নারীদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করেন। এই কাজের জন্য তিনি ২০১৫ সালে কালিগঞ্জ উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর থেকে অনুমতিপত্র নেন। প্রথমে তিনজন নারীকে নিয়ে কাগজের ব্যাগ তৈরির কাজ করতেন। আর এই সংগঠনের নাম দেয় হয় প্রেরণা। চার বছরের ব্যবধানে এই প্রেরণার সদস্য সংখ্যা এখন শতাধিক। তাদের তৈরী কাপড়ের ব্যাগ বিক্রি হয় জেলার সব দোকানে। সাতক্ষীরা শহরের লেক ভিউ, ভাগ্যকুল, আল-বারাকা, প্রিয় গোপাল, মাওয়া চাইনিজ, নুসরাত ফ্যাশান, জায়হুন, আদি ঘোষ, সাগর সুইটসসহ ৩০ নাম করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রেরণার তৈরি ব্যাগে পন্য বিক্রি করছে। এই সব দোকানের লেভেল লাগিয়ে তারা ব্যাগ তৈরি করা। প্রতিটি ব্যাগ ৩ টাকা থেকে শুরু করে ১২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রতি মাসে ১ থেকে দেড় লাখ পিচ ব্যাগ তৈরি করে প্রেরণার নারীরা। তারা কালিগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রেরণা কার্যালয়ে অথবা বাড়িতে বসে কাজ করে ।
প্রেরণার অফিসে যেয়ে দেখা যায় ভীষণ ব্যস্ত তারা। কাপড় কাটা, লেভেল লাগানো, মেশিনে সেলাই কাজে হিমশিম খাচ্ছে সবাই। দম ফেলার সময় নেই তাদের। কাজের ব্যস্ততার মধ্যে রেহানা পারভীর জানান, ছয় বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হন তিনি। সেই থেকে আর স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না। কাজ করার ক্ষমতা হারায়। এখন তার দিন বদল গেছে। প্রেরণায় তাকে কাজ দিয়েছে।এসময় ফতেমা পারভীন জানান, স্বামী তিন বছর আগে তালাক দিয়েছে। একটি বাচ্ছা আছে। প্রেরণায় কাজ করে তিনি সংসার চালান। আর প্রেরণার দিদি তাকে আইনি সহয়তা দিয়ে থাকেন।
কথা হয় মহিমা পারভীনের সাথে। সে বলল তার পিতা মাতা গবীর মানুষ। লেখা পড়া করতে পারছিল না। তার শিক্ষিকা শম্পা গোস্বামীর কথামত অবসর সময় এখানে কাজ করেন। এখন পড়াশুনা চলছে আবার পিতা মাতাকে সহযোগিতা করছে সে। তার পাশে বসা নাছিমা খাতুন জানালেন তার স্বামী সামান্য কাজ করে। সামান্য উপার্জন দিয়ে আগে সংসার চলতো না। প্রেরণায় কাজ পেয়ে সে তার স্বামীকে সহযোগিতা করছে। উপজেলার বাজার গ্রাম রহিমপুরের মঞ্জুয়ার রহমান জানান, পরিবারের লোকজন বাড়িতে বসে ব্যাগ তৈরি করে। এজন্য তিনি এসেছেন ব্যাগ তৈরির সরঞ্জাম নিতে ।
প্রেরণার ব্যবস্থাপক মেহেরুন নেছা জুথি জানান, তাদের তৈরি ব্যাগ ৩ টাকা থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। জেলার বিপনি দোকান গুলো তাদের নিকট থেকে ব্যাগ ক্রয়ের জন্য আগেই অর্ডার দেন ।
প্রেরণার পরিচালক শম্পা গোস্বামী জানান, যাদের বাহিরে কাজ করার সুযোগ নেই তারা এখানে কাজ করে। প্রেরণা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। সুিবধা বঞ্চিত এসব নারীরা প্রেরণায় কাজ করে টিকে আছে। তাদের বাচিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি সহযোহিতা প্রয়োজন। তবেই হাজার হাজার নারীর কর্মসংস্থান করা সম্ভব।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, প্রেরণা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সমাজের সুবিধা বঞ্চিত নারীরা এখানে কাজ করে। অসহায় নারীদের বেচে থাকার একটি অবলম্বন করে দিয়েছে প্রেরণা ।

আশাশুনিতে ছাত্রলীগ সভাপতির চাঁদাবাজির প্রতিবাদে দলিল লেখকদের কর্মবিরতি

নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতির চাঁদাবাজির প্রতিবাদে দলিল লেখকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। তারা এ ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলেও জানান।
রবিবার আশাশুনি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে চাঁদাবাজির এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরপরই দলিল লেখকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। রবিবার কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। তারা আরও বলেন, আজ ১১০ টি দলিল লেখা হলেও কোনোটিই রেজিস্ট্রি হয়নি। এতে সরকার কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা ভূমি হস্তান্তর কর থেকে বঞ্চিত হলো। দলিল লেখকরা বলেছেন, আমরা থানার ওসিকে বলেছি আসমাউলকে গ্রেফতার না করা হলে সোমবার মানববন্ধন করা হবে। এ নিয়ে তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সোমবার তারা আশাশুনিতে মানববন্ধন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আশাশুনির ওসি আবদুস সালাম বলেন, চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ আমার কাছে এখনও আসেনি।
দলিল লেখক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুজিবর রহমান ও সম্পাদক বদরুজ্জামান জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসমাউল হুসাইন আজ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এসে তোলপাড় শুরু করেন। তিনি সাব রেজিস্ট্রারের কাছে চাঁদা দাবি করেন। তিনি বলেন, চাঁদা না দিলে এই অফিসে বসতে দেওয়া হবে না। তিনি তাকে অপমানসূচক ভাষায় শাসিয়ে বলেন তুই এ কয়দিন অফিসে আসিস নাই কেনো। দলিল লেখক সমিতির কোষাধ্যক্ষ বলেছেন তার কাছেও আসমাউল হুসাইন ৩০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছেন। দলিল লেখকরা বলেন সপ্তাহের রবিবার ও সোমবার এই দুই দিন এখানে দলিল লেখার কাজ হয়।
তবে এ ব্যাপারে সাব রেজিস্ট্রার পার্থ প্রতিম মুখার্জীর সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তাকে ফোন করা হলেও তিনি তার ফোনটি রিসিভ করেন নি।
চাঁদাবাজি সম্পর্কে জানতে ফোন করা হলে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসমাউল হুসাইন বলেন, আমি চাঁদা চাইনি। এই অফিসে প্রতিদিন দুটি করে জাল দলিল হয়। বয়স ২৫ বছর হলেও এনআইডি ছাড়াই জন্ম নিবন্ধন কার্ড দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি হয়। এছাড়া ৬ ভাই বোনের দুইজন কিভাবে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে আমি সাব রেজিস্ট্র অফিসে গিয়েছিলাম। আমার সাথে ছিলেন সংগঠনের সদস্য জয়নাল আবেদিন। আমি কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি।

আশাশুনিতে ওসি আবদুস সালামের যোগদান

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে থানা অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মুহাম্মদ আবদুস সালাম যোগদান করেছেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে আবদুস সালাম মিয়া যোগদান করেছেন। তিনি বদলিজনিত কারনে বরিশাল বিভাগের বাবুগঞ্জ থানা থেকে সরাসরি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আশাশুনি থানায় যোগদান করেছেন। ইতোপূর্বে তিনি ঝালকাটি সদর থানায় চাকুরিরত ছিলেন। প্রসঙ্গত: সদ্য প্রত্যাহারকৃত ওসি বিপ্লব কুমার দেবনাথকে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে জানাগেছে।

আশাশুনিতে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনিতে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। থানা সূত্রে জানা গেছে, এসআই শেখ বিল্লাল হোসেন ও এএসআই মাহবুব হাসান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শনিবার রাতে গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ওই গ্রামের মৃত রজব আলীর পুত্র পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবক শাহিনুর রহমান (৪০)কে ও তার সহযোগী পার্শ্ববর্তী কাদাকাটি ইউনিয়নের মোকামখালি গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন সরদারের পুত্র আব্দুল কাদেরকে আটক করে। তাদের দেহ তল্লাসি করে ২০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আশাশুনি থানায় ২৯(০৫)১৯ নং মামলা দায়ের করে রোববার সকালে কোট হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।