মরেও শান্তি পেলেন না শিক্ষক পতœী লাশ হলেন গৃহবধূ, মার খেলেন স¦জনরা


প্রকাশিত : মে ২৯, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: মরেও শান্তির এতোটুকু পরশ পেলেন না আশাশুনির গৃহবধূ শিখা রাণী বাছাড়। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় তার মরদেহ নিয়ে শুরু হলো টানা হেচড়া। অবশেষে হাসপাতাল কর্মচারিদের হাতেই বেধড়ক মার খেয়েও তার প্রতিকার পেলেন না স্বজনরা।
ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে আশাশুনি উপজেলার পুঁইজালা গ্রামের শিখা রাণী (৪৮) গত ২৬ মে ভর্তি হন সাতক্ষীরা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার হাসপাতালে। মঙ্গলবার বিকালে মারা যান তিনি। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার ফয়সাল বলেছেন তার অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনরা বলেন, ডাক্তার কখনও বলেন নি তার অবস্থা খারাপ। চিকিৎসায় অবহেলা অথবা ভ্রান্ত চিকিৎসার কারণে মৃত্যু হয়েছে তার।
এদিকে মৃত্যুর পরপরই তার দেহ দ্রুত নিচে নামানোর চেষ্টা করে কর্মচারিরা। কিন্তু স্বজনরা এতে বাধা দিয়ে বলেন, তাদের লোকজন আসছেন। অ্যাম্বুলেন্সও আসছে। একটু অপেক্ষা করুন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের কর্মচারিরা স্বজনদের মারপিট শুরু করে দেন। তারা কিল চড় ঘুষি মেরে তাদের ধরাশায়ী করে ফেলেন। নিজেদের দোষ ঢাকতে দ্রুত দেহ নামানোর চেষ্টায় এই তান্ডব শুরু করে তারা। তাদের হামলায় আহত হন রোগীর স্বামী স্কুল শিক্ষক সন্তোষ বাছাড়, সুরঞ্জন বাছাড়, প্রণব সরকার, বিধান সরকার, গোরা সরকারসহ বেশ কয়েকজন। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আল আমিন, মনিরুল ইসলাম, শচিন ও সাদিকসহ কয়েকজন পান্ডা লাঠিয়ালের ভূমিকায় সবাইকে মারপিট করে ওপরতলা থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে ঠেলে নিচে পাঠায়। সেই সাথে শিখার দেহও নিচে রেখে পালিয়ে যায়। এই নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। পরে বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ছাড়াও স্থানীয়রা ওয়ার্ড বয় ও কর্মচারিদের খুঁজতে থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ। তার সম্মুখে ওয়ার্ড বয় ও কর্মচারিরা অপরাধ স্বীকার করে মৃতের স্বজনদের কাছে ক্ষমা চায়। তবে তাদের পরিবারের সদস্যরা বলেন তারা এই অভিযোগ নিয়ে থানায় যাবেন। নালিশ দেবেন। রাত ৮ টায় ডেথ সার্টিফিকেট ও ছাড়পত্রসহ গৃহবধূ শিখা বাছাড়কে নিয়ে স্বজনরা অদৃষ্টের দোষ দিয়ে ফিরে যান নিজেদের বাড়িঘরে।