শ্যামনগরে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মাণ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা মোকাবেলায় বরাদ্দের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান


প্রকাশিত : মে ৩০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগরে স্থায়ী বেঁড়িবাধ নির্মাণসহ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় বরাদ্দের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলার সিএসআরএল সম্মেলন কক্ষে উক্ত সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার ১২টি ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভুমি) এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৃথক পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বিপর্যস্ত জনপদগুলোর একটি হচ্ছে শ্যামনগর উপজেলা। গত দশ বছরে এখানে সিডর, আইলাসহ ১০টি বড় ঘূর্ণিঝড় আঘাত এনেছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দিন গুলোতে এর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রভাব তীব্র হবে। নদী ভাঙনের ফলে এ উপজেলার পদ্মপুকুর, আটুলিয়া, গাবুরা, মুনিাসগঞ্জ, বুগিগোয়ালিনী, কাশিমাড়ি ও কৈখালী ইউনিয়নে মাইগ্রেশনের সংখ্যাও বেশি। পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের তথ্য অনুযায়ী জেলায় আইলা ও সিডর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধির কারনে আগামী পঞ্চাশ বছরের মধ্যে উপকুলীয় জেলা গুলোর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলা আগে তলিয়ে যাবে। পরিবেশবীদদের এমন আশঙ্কায় এ জনপদ থেকে নীরব অভিবাসন শুরু হয়েছে। আর লবনাক্ততা এই উপজেলার অন্যতম প্রধান অভিঘাত। সমুদ্র উপকুলবর্তী হওয়ায় এ উপজেলার মূল জলাধারা সমুহ লোনাপানির। প্রধান নদী ইছামতি, কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, কালিন্দি, মাদার , যমুনা ও রায়মঙ্গল নদীসহ ১২৬টি খাল ও জলমহল রয়েছে। নদী থেকে কুষি জমি ও চিংড়ি ঘেরে লোনা পানি আনা ও বের করে দেয়ার কাজে এই খাল গুলো ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে খাল গুলো অবৈধভাবে দখল ও ভরাট হওয়ায় কারনে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্যামনগরসহ জেলার ৭টি উপজেলার বিস্তির্ণ এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপকুলীয় উপজেলা শ্যামনগরকে বাঁচাতে তারা এ সময় ১২ দফা দাবি উপস্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উপকূলীয় বাঁধের নতুন ডিজাইন করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট জোয়ারের উচ্চতা প্রতিরোধে সক্ষম বেঁড়িবাধ দ্রুত নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান, প্রত্যেক ইউনিয়নে জলববায়ু তহবিল গঠনে বরাদ্দ দেয়া, উপকূলবর্তী প্রত্যেক গ্রামে কমপক্ষে দুটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসনে আরও পানির প্লান্ট তৈরিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, নুরনগর ইউপি চেয়ারম্যান বখতিয়ার আহমেদ, কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মুসুদুল হকসহ ১২ ইউপি চেয়ারম্যান।