সদর উপজেলা এলজিইডি অফিসে টেন্ডার ছাড়াই সেই দেড় কোটি টাকার কার্যাদেশ নিয়ে এবার নতুন আয়োজন


প্রকাশিত : মে ৩০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩০টি প্রাইমারী স্কুলের সংস্কার কাজে বিনা টেন্ডারে প্রায় দেড় কোটি টাকার কার্যাদেশ দেয়ার ঘটনায় খবর প্রকাশের পর তোলপাড় শুরু হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার শহরব্যাপী ছিল এনিয়ে মুখোরচক খবর। অবশেষে কর্তৃপক্ষ দৌড় ঝাপ করে এবার পুনরায় টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আয়োজন চলছে। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিগত কাজ পাওয়া ঠিকাদার ও তাদের পক্ষের কিছু পদস্থ কর্মকর্তা এক রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থাকা চামচাদের নিয়ে এ আয়োজন চলছে। ইতোমধ্যে কিছু কাজ আংশিক ও কিছু কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায় একটু বেকায়দায়ও আছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বিগত টেন্ডারের সময় এলজিইডি সদর উপজেলার উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহানারা খাতুন ও হিসাবরক্ষণ কর্মচারি কাজী আরিফ্জ্জুামানের নেতৃত্বে সদর উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আলম বিগত দিনে কার্যাদেশ প্রদত্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর নিকট হতে টেন্ডার সিকিউরিটির কোন পে-অর্ডার বা স্ট্যাম্পে চুক্তি সম্পাদন ছাড়াই কার্যাদেশ প্রদান কারেন। এখন অবস্থা বেগতিক দেখে বিগত তারিখ দেখিয়ে এসব কাগজপত্র সম্পন্ন করার আয়োজন চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডি সদর উপজেলা অফিসের হিসাবরক্ষণ কর্মচারি কাজী আরিফুজ্জামান নিজেই এক রাজনৈতিক নেতার বাসায় যেয়ে এসব অকাজের দফারফা করে থাকেন। এছাড়াও ১০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ৪জন ব্যক্তির নিকট থেকে ৩০টি কার্যাদেশ প্রদানের জন্য ২০ লাখেরও অধিক টাকা গ্রহণ করেন। একই সাথে এই টাকার অংশ বিশেষ পৌছে দেন ওই রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে। ফলে অফিসের প্রকৌশলী জানান, উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি টেন্ডার ছাড়াই কার্যাদেশ প্রদান করেছেন।
এদিকে হিসাবরক্ষণ কর্মচারি কাজী আরিফুজ্জামান, উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহানারা খাতুন দুজনে মিলেই নানা অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। ঠিকাদারদের বিল দেয়া, চুক্তিপত্র তৈরি করা, বিভিন্ন ভূয়া ভাউচারে বিল তৈরি করাসহ নানাভাবে সারাদিন অফিসে বসে শুধু কালেকশান আর কালেকশান। পাশাপাশি উপ-সহকারি প্রকৌশলী জাহানারা খাতুন এক দশকের অধিক সময় সদর উপজেলা এলজিইডি অফিসে চাকুরি করছেন। সরকারের সকল নিয়ম কানুন উপেক্ষা করে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে বহালতবিয়াতে এভাবে চাকুরি করে যাওয়ায় তিনি এখন আরও বেপরোয়া। কথায় কথায় ঠিকাদারদের হুমকী দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিল আটকে দেবো এবং কাজের সাইডে যেয়ে নানাভাবে হয়রানির ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন। ভয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোর স্বত্তাধিকারিরা মুখ খুলতে সাহস পায়না।