ধানের যন্ত্রণা ও রাষ্ট্রের আরাম


প্রকাশিত : মে ৩১, ২০১৯ ||

পাভেল পার্থ
গলে পড়ছে তাতানো ঘাম। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় ওঠি। বোঝা যায় চালক এ শহরে নতুন। ঘাড়ের লালডোরা গামছাটির মতই। জানা যায়, এ পেশাতেও নতুন। সেনপাড়া গ্রাম থেকে ‘মনের জ্বালায়’ পালিয়ে এসেছেন ঢাকায়। ‘কেন পালাতে হলো?’ গন্তব্যে পৌঁছতে পৌঁছতে শুনি চালকের গ্রাম-পালানোর সেই নির্দয় কাহিনি। বেহায়া কিছু গাড়ির হর্ণ মাঝেমাঝে কাহিনির কোনো শব্দ গিলে ফেললেও এই কাহিনি আমার কানের পর্দার মুখস্থ হয়ে গেছে। চালকের গল্পটি আগাপাছতলা ঠাহর করতে পারি। গত দুই মাসে থেকে গত কয়েকবছর ঢাকায় পালিয়ে আসা রিকশাচালকদের কাছ থেকে এই একই কাহিনিগুলো শুনে চলেছি আমরা। বিসময়করভাবে এরা কেউই একই এলাকা থেকে আসেনি। কেউ এসেছে হাওর থেকে, কেউ চলনবিল, কেউ সমুদ্র উপকূল, কেউ সুন্দরবন, কেউ মেঘালয়ের পাদদেশ, কেউ বরেন্দ্র, কেউ তিস্তা-যমুনা অববাহিকা কেউ বা চরাঞ্চল কী দূর দ্বীপ থেকে। তো, এই চালকের নাম মিল্লাত আলী। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নে বাস। চালক জানালেন, গত কয়েকবছর বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিক্ষেত্রে কাজ কমেছে। মানুষও পাওয়া যায় না। এ বছর বোরো মওসুমে ধানের দাম মেলেনি। গত কয়েকবছর টেনেটুনে টিকে থাকতে পেরেছিলেন। এবার আর দম ফেলতে পারেননি। এক মণ ধান ফলাতে কেবল টাকাই খরচ গেছে ৭০০ টাকার উপর। এই হিসাব কেবল উফশী বীজ, রাসায়নিক সার, বিষ, সেচ আর ডিজেল খরচ। রক্ত আর মগজ পানি করা পরিশ্রমের হিসাব তো বাদই রইলো। সেই ধান কীভাবে সাতশ টাকার নিচে বেঁচবেন? আর বেচবেনই বা কোথায়? কত মাস্তান, মহাজনেরা দখল করে রেখেছে হাটবাজার। ‘‘সরকার তো প্রতি মণ ধানের দাম ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, সরকারের বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে ধান বিক্রি করবেন, অনিয়ম হলে প্রতিবাদ করবেন। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে বিচার চাইবেন। আপনারা কৃষকরা প্রতিবাদ করেন না বলেই এই দুরাবস্থা। আপনি তেভাগা সংগ্রামের মানুষ। সরকার কৃষকের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে কতকিছু করছে, কিন্তু সব অনিয়ম তো আর সরকার একা সামাল দিতে পারে না। আপনারা কৃষি ছাড়লে আমরা বাঁচবো কাদের নিয়ে?’’ চালক আমার দিকে ‘ঢাকা শহর আইস্যা আমার আশা ফুরাইছে’ গানের ভঙ্গিতে তাকান। যাওয়ার সময় বলে যান, কলে মা মার খায়, না কলে মা কুত্তা কামড়ায়’। গন্তব্যে নেমে যাই, দেখি লাল নীল রঙের ঢাকা শহরে নিদারুণভাবে হারিয়ে যাচ্ছেন একজন কৃষক। বাংলাদেশের কৃষক। রিকশা নয়, দেখি সুরমা রঙের তাগড়া মহিষ নিয়ে কাসেম আলী লাঙল কাঁধে নেমেছেন বরেন্দ্রর ধাপখেলানো জমিনে। ঝিঙাশাইল ধানের ভাত, আলুর তরকারি আর তেঁতুলের খাটা গামছায় বেঁধে নানার সাথে হাঁটছেন শিশু মিল্লাত আলী। পরিবার থেকে কৃষির বর্ণমালা শিখে শিখে শিশু মিল্লাত আলী একদিন কৃষক যুবক হয়ে ওঠেন। দাদী-নানীর আমলের রাধুনীপাগল, মালশিরা, রঘুশাইল, মাগুরশাইল, দাদখানি, কালিবোরো, ষাইটাবোরো, তুলসীবোরো, সাদাবোরো, লাইড়াবোরো, শনি কী কালামানিক ধানেদের অনেকের মৃত্যু নিজের চোখে দেখেছেন। পরিবারে শুনেছেন এইসব ধানের হারিয়ে যাওয়ার নৃশংস কাহিনি। বরেন্দ্র সেচপ্রকল্প থেকে শুরু করে গ্রামের রাস্তায় সার-বিষের দোকানের খবরদারি কী ধান বীজ কেনার জন্য নানা কিসিমের ‘ভিলেজ পলিটিক্স’ মিল্লত আলীর যৌবন বয়সে শেখা। মিল্লাত আলী একজন কৃষকই হতে চেয়েছিলেন। হয়তো অন্য কোনো পেশা বা পরিচয়ের জীবন বেছে নেয়ার জায়গাও সেখানে ছিল না। গ্রামে কষ্ট ছিল, এই ধানে চিটা তো এবার সারের দাম বেশি। বেশি দামে বীজ কিনেও দানা আসেনি, আবার ফলন হয়েছে দেদার কিন্তু ফসলের দাম নেই কোনো। কিন্তু কষ্টের জীবনে গ্রামে তাঁর একটা পরিচয় ছিল, ঠিকানা ছিল, একটা খোয়াব ছিল। নতুন এই অচিন শহরে তাঁর কিছুই নেই। এখানে প্রতিদিন মিল্লাত আলীরা হারিয়ে যান। আর এই মিল্লাত আলীদের হারানোর গল্প পেটবোঝাই করেই ঢাকা আরো ‘প্রাণহীন’ শহর হয়ে ওঠে। কারণ এখানে কেউ কাউকে চেনে না, এখানে কোনো সমাজ নেই, কারোর সাথে কারোর যেন কোনো দরবার বা সোহাগ নেই।
২.
আর এই শহরের মানুষের সাথে ধানের সম্পর্কটি ভিন্নধাঁচের। বোরো মওসুমে পাহাড়ি ঢল নামলে হাওরভাটির মানুষের মতোন এদের বুক কাঁপে না। দীর্ঘ খরায় ধান পুড়লে বরেন্দ্রবাসীর মতোন এখানে কারো কলিজা তরপায় না। শহরের এক একটি পরিবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবচে কম খরচ করে চালের পেছনে। পিৎজাহাটের একটি পিৎজার দাম এক মণ ধানের চেয়ে বেশি। এক প্যাকেট চিপসের দাম এক কেজি ধানের চেয়ে বেশি। যে শহরের মানুষের সাথে ধানজীবনের কোনো আগাপাছতলা সম্পর্ক নেই, সেই শহরেই দেশের ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারিত হয়। দেশের কৃষিনীতি তৈরি হয়। আসলে চলতি লেখাটি বাংলাদেশের ধানের দাম চলমান তর্ককে ঘিরে। বলা ভাল বোরো মওসুমে উৎপাদিত উফশী ও হাইব্রিড ধানের দাম। স্মরণে রাখা জরুরি এখনো দেশে আমন, আউশ, বোরো মওসুমে কিছু স্থানীয় জাতের ধানের আবাদ হয়। জুম ধানের আবাদ হয়। স্মরণ রাখা জরুরি ধানের দামের চলমান সংকটটি কিন্তু জটিল হয়েছে ‘বোরো মওসুমের উৎপাদন ঘিরে’। এটিও স্মরণ করা জরুরি এই মওসুমে ব্যাপকহারে ধান আবাদ কীভাবে শুরু হল? কীভাবে? তথাকথিত ‘সবুজ বিপ্লবের’ মাধ্যমে। এই মওসুমে এখন ধানের ব্যাপক চাষ হয় এবং দানার উৎপাদন সবচে’ বেশি হয়। এটিও মনে রাখতে হবে এই মওসুমেই সবচে বেশি কর্পোরেট কোম্পানির সার-বীজ-যন্ত্রপাতি-জ্বালানি ও বিষের বাণিজ্য হয়। যত বেশি ধান, তত বেশি মনস্যান্টো বা সিনজেনটা কোম্পানির মুনাফা। কর্পোরেট কোম্পানির ব্যবসা চাঙ্গা করে কৃষক যে ধান ফলাতে বাধ্য হচ্ছে সেই ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়েই আজ প্রশ্ন ওঠেছে। তাহলে এই ধানের ন্যায্যমূল্যের যাবতীয় দায়ভার কেন সরকার নেবে? কেন দুনিয়াকাঁপানো কৃষি কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে এই প্রশ্ন করা হবে না? যদিও চলতি আলাপটি কৃষির এই কর্পোরেট দখল নিয়ে বিস্তর তর্ক তুলতে চাইছে না। চলতি আলাপখানি ধান ঘিরে এই জনপদের এক মৌলিক মনস্তত্ত্ব ও নি¤œবর্গের দর্শনকে হাজির করতে চায়। ধান কি কোক-পেপসি বা মোবাইল-ল্যাপটপের মতো কোনো ‘বাজারি পণ্য’? কেবলমাত্র বাজারনির্ভর দরদাম আর নানাস্তরের মুনাফার মূদ্রার হিসাব দিয়ে কি ধানের দাম যাচাই হতে পারে? যদিও নিদারুণভাবে এই নয়াউদারবাদী বিশ্বায়িত বাজারে ‘ধানকেও’ এখন এক ‘বাজারি পণ্য’ করে ফেলা হয়েছে। তো মূদ্রামানে ধানের ন্যায্যমূল্য আসলেই কত হতে পারে? রাষ্ট্র এ বছর এক মণ ধানের দাম নির্ধারণ করেছে ১০৪০ টাকা। একজন কৃষকের কাছ থেকে এক টন করে ধান কিনছে সরকার। অথচ এই বোরো মওসুমে ধান ফলেছে অনেক। প্রায় দুই কোটি টন। এমনকি গত আমন মওসুমের অনেক ধান রয়ে গেছে চাতালে। বেড়েছে চালের উৎপাদন ৭.২%। সব কৃষক সরকারের বিক্রয়কেন্দ্রে ধান বেচতে পারছে না। কৃষককে এলাকাভেদে ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে প্রতিমণ ধান বেচার জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ধানসহ কৃষিউৎপাদনগুলো এমন যে, এসবের সাথে এক একটি পরিবার প্রতিবেশী এবং একটি গ্রামের নানামুখী সম্পর্কের সূত্র থাকে। সামাজিক ইতিহাস ও বাস্তুতন্ত্রের জটিল অবদান থাকে। তাহলে এই নয়াউদারবাদী বাজারে একটি বারবি পুতুলের দাম ও কৃষকসমাজের উৎপাদন কি একই নিরিখে মাপা হবে? একই মূদ্রানির্ভর ব্যবস্থার চশমায়? এ নিয়ে কী কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না? ধানসহ কৃষিউৎপাদন নিয়ে রাষ্ট্রকে মনোযোগী হতে হবে। এক্ষেত্রে এক কৃষিপ্রধান রাষ্ট্রের দর্শন স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বোরো, আমন ও আউশ মওসুমের ধানের দর কেমন হবে? দেশের ত্রিশটি কৃষিপ্রতিবেশ অঞ্চলের ধানের দর কি একইরকম হবে? যেসব অঞ্চল পাহাড়ি ঢল, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, খরা, শৈত্যপ্রবাহ সামাল দিয়েছে? রাসায়নিক পদ্ধতি ও প্রাকৃতিক জৈব উপায়ে উৎপাদিত ধানের দরে কি ভিন্নতা থাকবে না?
৩.
ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে তর্ক চলছে। মনে পড়ছে ২০১০ সনে করা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে একটি প্রতিবেশগত সমীক্ষা কাজের কথা। দহগ্রাম-আঙুরপোতা ছিটমহলের কৃষকেরা বলেছিলেন, যাতে উৎপাদন খরচ থেকে বিক্রির পর একটা লাভ থাকে তাই ন্যায্যমূল্য। ২০০৯ সনে দহগ্রাম ছিটমহলের কৃষকেরা বোরো মওসুমে উৎপাদিত ধান সরকারের কাছে প্রতি মণ বিক্রি করেন ৫৬০ টাকা এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন ৩৫০-৪০০ টাকায়। কিন্তু এক মণ ধান চাষ করতে তখন তাদের খরচ পড়ে প্রায় ৬০০ টাকা। ছিটমহল সমস্যার সমাধান হলেও সেখানকার কৃষকের ধানের মূল্যসংকট কাটেনি এখনো। রাষ্ট্রের কৃষিনীতি আছে, কৃষিবিষয়ক নানাস্তরের কাঠামো আছে। কিন্তু বছর বছর ধানসহ কৃষি উৎপাদনের এই মূল্যসংকট কেউ গভীরভাবে তলিয়ে দেখেনি। কৃষিমন্ত্রণালয় চাষ ও ধান সংগ্রহের কাজটি করে। ধান ও চাল গুদামে গেলেই এই খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে যায়। আবার চাল আমদানি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিবছর রাষ্ট্র উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এটি তো এমন নয় যে, চট করেই এ বছর বোরো মওসুমে ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এটি তো অবশ্যই রাষ্ট্রের নজরে আছে, নথিতে আছে। তাহলে উৎপাদন বেশি বা কম হলে রাষ্ট্রের করণীয় কি হবে? উৎপাদন বেশি হলে রাষ্ট্র তার নাগরিকের উৎপাদনের সুরক্ষা কিভাবে দেবে? হয় রাষ্ট্র এই উৎপাদন কিনবে বা মজুতকরণের কোনো বন্দোবস্ত করবে বা এই উৎপাদন বহুমুখীকরণের ব্যবস্থা করবে এবং হয়তো দেশের সামগ্রিক চাহিদা মিটিয়ে রফতানি করবে। রাষ্ট্র যখন দেখলো নিজ দেশেই ব্যাপক শস্য উৎপাদিত হচ্ছে তবে কেন রাষ্ট্র চাল আমদানির অনুমোদন দিল? কেন ধান কেনাবেচা নিয়ে ধানকল ও চাতাল ব্যবসায়ীরা বাহাদুরি করে? রক্তজল করা ফসল বিক্রি করতে এসে কেন এখনো কৃষক হয়রানি হয়? রাষ্ট্রকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ধানের সাথে জড়িত সকল মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কলিজায় ধানের প্রতি দরদ ছলকাতে হবে। ধানসহ কৃষি উৎপাদন নিয়ে চলমান সংকট সুরাহায় রাষ্ট্রের প্রশ্নহীন ঘুম ভাঙতে হবে। রাষ্ট্রকে বাংলাদেশের ধানের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৪.
মনে আছে, সেই যে গণি মিয়া ছিল একজন গরিব চাষী। নিজের জমি ছিল না বলে পরের জমি চাষ করতো। গণি মিয়ারই ছেলে মিল্লাত আলী। গণি মিয়ার কাছ থেকে মিল্লাত আলী শুনেছেন বরেন্দ্র অঞ্চলে ধানের আবাদ হয়নি বলে অনেক আকাল হয়েছিল। বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৮৭১ সালে মোটা চালের মূল্য ছিল এক হন্দরের জন্য ৫ শিলিং ৭.৫ পেন্স (১০ টাকায় এক পাউন্ড)। ১৮৫৪ সালে চালের মূল্য ঐ দরের অর্ধেক ছিল। ১৮৬৬ সালে দুর্যোগের ফলে ফসল নষ্ট হওয়ায় বরেন্দ্র অঞ্চলে দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তখন চালের মূল্য প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। ১৮৭৪ সালে আবার বরেন্দ্র অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ১৮৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর চালের দাম এক টাকয় ১২ সেরে স্থায়ী থাকে কিছুকাল। সাম্প্রতিক সময়ে হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলে ধানের জমিন সব তলিয়ে যাওয়ার পরও চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল। ধান এখনও আমাদের গ্রামীণ সমাজের বেঁচে থাকার কেন্দ্রবিন্দু। ধানের ফলন বিপর্যয় বা ধান থেকে কৃষকের উদ্বাস্তুকরণ কোনোভাবেই কোনো শুভলক্ষণ নয়। এটি বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় এক নয়া সংকট ও সন্ধিক্ষণকে চিহ্নিত করছে। একে সার্বিকভাবে আমলে নেয়া জরুরি। দেশের প্রতিজন নাগরিককেই ধানের এই চলমান যন্ত্রণা বোঝা জরুরি।
৫.
ফসল আবাদ ও উত্তোলন মওসুমে বছর বছর কৃষক সংকট দেখা দিচ্ছে। বলা হচ্ছে ‘শ্রমিক সংকট’। কেন হচ্ছে? এই দেশে তো কৃষি গড়ে ওঠেছে পরিবারের যৌথ কাজের এক সমন্বিত রূপ হিসেবে। কিন্তু গ্রামীণ সেই যৌথ পরিবার ও কৃষিজমি গুলো ভেঙেচুরে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। এখন কেবল কৃষিকাজ নয়, গ্রামীণ মানুষ যুক্ত হচ্ছে নানামুখী আয়মূলককাজে। মেয়েরা চলে যাচ্ছে গার্মেন্টসে, পুরুষদের অভিবাসন ঘটছে বড় শহরগুলোতে। গ্রামের কৃষিকাজ ধরে রাখছেন মুলত পরিবারের প্রবীণজন আর শিশুরা। কৃষি মওসুমে তাই পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাওয়া যাচ্ছে না। কে তাহলে বুনবে বীজ, কারা তুলবে ঘরে ফসল? এ বছর ফসল কাটার মওসুমে কৃষক সংকট তীব্র হওয়ায় জেলা প্রশাসক থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী তরুণ থেকে সাংস্কৃতিককর্মী অনেক ‘অকৃষক’ মানুষই জমিনে নেমেছেন। কিন্তু এভাবে তো এই সংকট সুরাহা হবে না। হওয়ার কথাও নয়। মানছি দেশ এক উন্নয়নের ক্রান্তিকালের যাত্রায় আছে। এই ক্রান্তিকালে নিদারুণ সংকটে পড়েছে দেশের কৃষি। রাষ্ট্রকে এখই মজবুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামীর কৃষির চেহারা বিষয়ে। অবহেলা অনাদর নয় বা কেবলমাত্র গ্রামীণ কিছু কৃষক পরিবারের উপর দেশের কৃষির যাবতীয় দায়ভার না চাপিয়ে রেখে দেশের সকলকেই কৃষি সংকট মোকাবেলায় অগ্রণী হওয়া জরুরি। আর এখনি। লেখক: গবেষক, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ