সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছায় কারাবরণের দাবিতে সদর থানায় সাংবাদিকদের অবস্থান

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের ২১ জন সিনিয়র সাংবাদিকের নামে মিথ্যা মামলা হওয়ায় মামলার আসামীরা সদর থানায় অবস্থান করছেন।
সাংবাদিকরা স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার গ্রেপ্তারের দাবি নিয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় অবস্থান ধর্মঘট করছেন। সোমবার (৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদের নেতৃত্বে সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ চৌধূরী, আনিসুর রহিম, সহ-সভাপতি আশেক ই এলাহী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কারুজ্জামান, ইয়ারব হোসেন, আব্দুস সামাদ, আব্দুল জলিল, আমিরুজ্জামান বাবু, এম জিললুর রহমান, আব্দুল গফুর, আসাদুজ্জামান সরদারসহ ২১ জন সাংবাদিক তাদের নামে দীর্ঘ নাটকীয়তা শেষে সাতক্ষীরা সদর থানায় সাজানো মামলা হওয়ায় সাংবাদিকরা স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার হওয়ার দাবি নিয়ে সদর থানায় অবস্থান ধর্মঘট করছেন। তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন সাতক্ষীরা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি জিএম নূর ইসলাম, দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, প্রথম আলো সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিকগণ।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদ বলেন, গত ৩০ মে দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সশস্ত্র হামালা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপি বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৯নং মামলা করেন। এরপর জামায়াতের অর্থদাতা মনিরুজ্জামান তুহিন নামের এক সন্ত্রাসী এবং মামলার আসামী সোমবার (৩ জুন) সাতক্ষীরা সদর থানায় ৫ নং মামলা করেন। এ মামলায় আসামী করা হয় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ চৌধূরী, আনিসুর রহিম, সহ-সভাপতি আশেক ই এলাহী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কারুজ্জামান, ইয়ারব হোসেন, আব্দুস সামাদ, আব্দুল জলিল, আমিরুজ্জামান বাবু, এম জিললুর রহমান, আব্দুল গফুর, আসাদুজ্জামান সরদারসহ ২১ জন সাংবাদিককে। মামলাটি রেকর্ড হওয়ার পর সাংবাদিকরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর থানা চত্তরে অবস্থান ধর্মঘট করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।
একই কথা বলেন, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সুভাষ চৌধুরী, আনিসুর রহিম, এম কামরুজজ্জামান, আশেক ই এলাহী, কল্যাণ ব্যানার্জী, জিএম নূর ইসলাম, হাবিবুর রহমান সহ প্রমুখ। বক্তারা এসময় স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির নাম
উচ্চারণ করে বলেন, তিনি সাতক্ষীরায় নব্য জয়নাল হাজারী সেজে সাংবাকিদের লেখনি বন্ধ করতে চান। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখল করতে তিনি নানা ষড়যন্ত্র
চালিয়ে আসছেন। সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায়। সাংবাদিকরা নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নেই।
পুলিশ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নাটক করছে। বক্তারা বিষয়টি সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্পীকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন

ভাঙতে হবে কিশোরী অপুষ্টির দুর্বল চক্র

মো. আবদুর রহমান
ডলি (১৪) ও পলি (১২) দু’বোন। ওরা গ্রামের এক হাই স্কুলে পড়ে। ওদের বাবা একজন কৃষক। আর মা গৃহিনী। ওদের বাবা-মা’র দুঃখ যে, জন্মের পর থেকেই ওরা দু’বোন প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে। একারণে ডলি ও পলির স্বাস্থ্য খুব খারাপ এবং প্রায়ই অসুস্থ থাকে। তাই ওরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না, পড়াশুনায় মন বসে না এবং পড়া সহজে শিখতে ও তা মনে রাখতে পারে না। এজন্য ডলি ও পলি পরীক্ষায়ও ভাল ফলাফল লাভ করতে পারে না।
এ সম্পর্কে খুলনা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপ দেবনাথ এর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, ডলি ও পলির মতো বাংলাদেশের অসংখ্য কিশোরী নানা কারণে জন্ম থেকেই পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। তিনি আরও জানান, পুষ্টিহীনতার কারণে কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্যের গুণগত পরিবর্তন সাধিত হয় না, বয়স অনুযায়ী তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে না এবং মেধারও যথাযথ বিকাশ হয় না। এমনকি বয়স অনুযায়ী কিশোরীদের ওজন ও উচ্চতা যতটা হওয়া উচিত, অপুষ্টিতে আক্রান্ত কিশোরীদের ক্ষেত্রে তাও হয় না। কিশোরী মেয়েদের শরীরের এ অবস্থা তার নিজের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানব জীবনের ১০-১৯ বছর পর্যন্ত বয়সকে বলা হয় কৈশোরকাল। জীবনের এসময়টি মেয়েদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় দেড় কোটিই হলো কিশোরী। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অসচেতনতা এবং আরও নানা বৈষম্য ও অবহেলার কারণে আমাদের দেশে একজন কিশোরী কন্যা সন্তান তার সমবয়সী একজন কিশোর ছেলে-সন্তানের চেয়ে কম পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার এবং স্বাস্থ্য সেবা ও যতœ পেয়ে থাকে। অথচ এ সময়েই মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ পরিপূর্ণতা লাভ করে। তাই জীবনের এই বয়ঃসন্ধিক্ষণে কিশোরীদের বাড়ন্ত শরীরের জন্য প্রয়োজন সঠিক ও পরিমাণমতো পুষ্টিকর খাবার। তাছাড়া আজকের স্বাস্থ্যবান কিশোরী মেয়েটি হবে আগামী দিনের সুস্থ ও পুষ্ট সন্তান জন্মদাত্রী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পুষ্টি নির্ভর করছে আজকের কিশোরী মেয়ের পুষ্টির ওপর। কিন্তু আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য থেকে বঞ্চিত কন্যা শিশুরাই বড় হয়ে অপুষ্ট কিশোরীতে পরিণত হয়। যারা আবার পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠে বঞ্চিত নারী ও মা। প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে গর্ভকালীন সময়ে আরও একবার বৃদ্ধি পায় তাদের অপুষ্টির মাত্রা। এই অপুষ্ট ও দুর্বল মায়েরাই আবার জন্ম দেয় স্বল্প ওজনের অপুষ্ট শিশু। এই শিশুরা নানা রোগে ভুগে এবং অপুষ্টির শিকার হয়। বাংলাদেশের এই দুর্বল পুষ্টি চক্র বংশ পরম্পরায় চলতে থাকে। অপুষ্টির এই দুর্বল চক্রটি ভেঙ্গে দেয়ার লক্ষ্যে জন্মের পর থেকেই প্রতিটি কন্যা সন্তানকে মায়ের বুকের দুধসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে। আর তাই বলা যায়-‘কন্যা শিশুর পুষ্টি, আসবে জাতির মুক্তি।’
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, কিশোরীর স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে সঠিক ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রয়োজন। বিশেষ করে কৈশোরকালীন অবস্থায় শরীর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। দেহের কাঠামোগত বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন প্রোটিন জাতীয় পুষ্টি উপাদান। প্রোটিন ছাড়া দেহের বৃদ্ধি হয় না। আর উদ্ভিদ থেকে যে সমস্ত প্রোটিন পাওয়া যায় তাকে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বলা হয়। দুধ, দই, ছানা, মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি হলো প্রাণিজ প্রোটিন। বিভিন্ন প্রকার ডাল, মটরশুঁটি, বরবটি, সিম, সিমের বীচি, চীনাবাদাম ইত্যাদি হলো উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। দেহের বৃদ্ধির জন্য এ দু’প্রকার প্রোটিনই প্রয়োজন হয়। কম খরচের প্রোটিন হিসেবে আমরা ডালকে গ্রহণ করতে পারি। মাছ অথবা মাংসের দাম বেশি বলে সব সময় তা খাওয়া যায় না। তবুও যদি সপ্তাহে দু’দিন অল্প পরিমাণে ছোট মাছ খাওয়া যায়, তবে প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হয়। চালের প্রোটিন ও ডালের প্রোটিন একত্রিত হয়ে উন্নতমানের প্রোটিন তৈরি হয়। তাই ভাত ও ডাল একত্রে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল। প্রতিদিন ভাতের সাথে প্রচুল ডাল খাওয়ার অভ্যাস করলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং দেহের বৃদ্ধি পাবে।
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের সাথে প্রয়োজনীয় ভিটামিন না পেলে কিশোরীরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যায়। কিশোরীদের শরীরে ভিটামিন ‘এ’র অভাব যাতে না হয় সেজন্য প্রচুর পরিমানে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, কলিজা, মাখন এবং গাঢ় সবুজ ও হলুদ রঙের শাক-সবজি ও ফলমূল বিশেষ করে পাকা আম, পেঁপে, কাঁঠাল, কলা, পেয়ারা, আনারস, কচুশাক, পুঁইশাক, ডাঁটাশাক, লালশাক, বাঁধাকপি, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি খেতে দিতে হবে। কৈশোর বয়সে বিভিন্ন রকম খনিজ লবণের প্রয়োজন হয়। এর ভেতরে ক্যালসিয়াম ও লৌহ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গুড়, ডিম, দুধ, দই, শুঁটকি মাছ, ডাল, কাঁটাসহ ছোট মাছ ইত্যাদিতে বেশি ক্যালসিয়াম আছে। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে মেয়েদের কোমরের হাড় ঠিকমত বড় হয় না। হাত পায়ের হাড়ও ঠিকমতো বড় হয় না। এর ফলে কিশোরী মেয়েরা বেশি লম্বা হয় না। যে সব মেয়েরা পাঁচ ফুটের বেশি লম্বা হয় না তাদের সন্তান প্রসবে কষ্ট হয়। অনেক সময় মা ও শিশু উভয়ই মারা যেতে পারে। এজন্য মেয়েদের কমপক্ষে ৫ ফুটের বেশি লম্বা হওয়া প্রয়োজন। কৈশোর বয়সে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে মেয়েরা লম্বা হয়। গুড় একটি খুব ভাল ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। প্রত্যেকদিন গুড় দিয়ে রুটি, মুড়ি, চিড়া অথবা অন্য যে কোন খাবার খাওয়া খুব ভাল। এক গ¬াস দুধে যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম আছে, এক চামচ ঝোলা গুড়ে সেই পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে। প্রতিদিন এক চা চামচ করে ঝোলা গুড় তিনবার করে খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হয় না।
সাধারণতঃ ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের রক্তের হিমোগে¬াবিন পরিমাণ কম থাকে। আমাদের দেশের অধিকাংশ কিশোরীই ঋতুচক্র শুরু হলে রক্ত স্বল্পতায় ভোগে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য কচুশাক, লাউশাক, লাল শাক, পালংশাক, ডাঁটাশাক, পুঁইশাক ইত্যাদি সকল প্রকার সবুজ শাক-সবজিতে প্রচুর লৌহ আছে। গুড়, কলিজা, ডিম, শুঁটকি মাছ ইত্যাদিতেও প্রচুর লৌহ জাতীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। লৌহ সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরে রক্ত তৈরি হয়। রক্ত কম থাকলে দেহের বৃদ্ধি হয় না। দেহের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্যনিয়মিত প্রতিদিন সবুজ শাক-সবজি খাওয়া প্রয়োজন। ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার লৌহকে দেহের ভেতরে যেতে সাহায্য করে। তাই কিশোরীরা যদি প্রতিদিন নিয়মিত একটু ভিটামিন ‘সি’ বা টক জাতীয় খাবার যথা- আমলকি, পেয়ারা, লেবু, আমড়া, কামরাঙ্গা, কুল ইত্যাদি খায় তবে রক্তস্বল্পতা খুব সহজেই দূর করতে পারবে। পানি পরিপাক ক্রিয়ার একটি উলে¬খযোগ্য উপকরণ। স্বাভাবিক হজমের জন্য প্রচুর পানি পান করা উচিত। এছাড়া পূর্ণ বয়স্কদের তুলনায় কিশোরীরা ছুটাছুটি বেশি করে বলে তাদের শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম নির্গত হয়। দেহে পানির সমতা ঠিক রাখার জন্য কিশোরীদের প্রতিদিন অন্ততঃ ৭-৮ গ¬াস আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করা উচিত।
এদেশে অনেক মেয়েদের কিশোরী অবস্থায় বিয়ে হয়, যা মোটেও কাম্য নয়। ফলে একজন কিশোরী যৌবন প্রাপ্ত হবার আগেই হন ‘কিশোরী মা’। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কিশোরী মা একজন অপুষ্ট মা। এই অপুষ্ট মায়ের কোল জুড়ে যে সন্তান আসে সেই সন্তানও হয় অপুষ্ট। ফলশ্রুতিতে মা এবং শিশু উভয়ের জীবন হয় বিপন্ন। এভাবে কিশোরী মা ও শিশুর মৃত্যু হার বেড়ে যায়। তাই কিশোরী অবস্থায় কোন মেয়ের বিয়ে দেয়াও ঠিক নয়। আঠারো বছরের পর বিয়ে দিলে মা এবং সন্তানের অপুষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
সর্বোপরি, পুষ্ট এবং সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সকল প্রকার বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করে কিশেরী কন্যা সন্তানকে তার সমবয়সী একজন কিশোর ছেলে সন্তানের ন্যায় একই পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার ও আদর-যতœ দিয়ে তাদের লালন-পালনের প্রতি সকল মা-বাবারই আরও সচেষ্ট ও সচেতন হতে হবে। নইলে, ডলি ও পলির মতো দেশের কন্যা সন্তানেরা জন্ম থেকে অপুষ্টিতে ভুগতেই থাকবে। লেখক: উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস রূপসা, খুলনা

দেবহাটায় রতন হত্যা প্রচেষ্টার আসামী তাঁতী লীগের সদস্য সচিব!

পত্রদূত রিপোর্ট: দেবহাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতনকে গুলি করে হত্যা প্রচেষ্টা মামলার এজাহার নামীয় আসামী সখিপুরের সাবেক শিবির নেতা মো. ওলিউল্লাহকে সখিপুর ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সদস্য সচিব করে দলীয় ভাবমুর্তি ক্ষুণেœর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন। রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলার পারুলিয়া শহীদ আবু রায়হান চত্তরে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবর রহমান, সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন, যুবলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মিন্নুর, সাধারণ সম্পাদক বিজয় ঘোষ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এএইচ সোহাগ হোসেন প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এক ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। সেই সংগঠনের নিবেদিত সৈনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতনকে যারা গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম শিবির নেতা মো. ওলিউল্লাহকে যারা ইউনিয়ন তাঁতী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেছে তারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেনা এবং জামায়ত শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী। তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই শিবির নেতাদের আওয়ামী লীগের পদে বসিয়ে দলকে কলুষিত করছে। রতন হত্যা প্রচেষ্টা মামলার এজাহার নামীয় আসামী সাবেক শিবির নেতা ওলিউল্লাহর বিরুদ্ধে সহিংসতাকালীন নাশকতায় অংশগ্রহণসহ নেতৃত্বের অভিযোগ থাকা স্বত্তেও তাকে ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সদস্য সচিব কিভাবে করা হলো সেই প্রশ্ন তুলে ধরেন বক্তারা। অবিলম্বে সখিপুর ইউনিয়ন ও উপজেলা তাঁতী লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণাসহ শিবির নেতাকে পদে বসানো নেতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জেলা আওয়ামী লীগ ও তাঁতী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে দাবী জানান বক্তারা।
এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোনায়েম হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রউপ, পারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, কুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক বিধান বর্মন, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহমুদুল হক লাভলু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সাহেব আলী, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শেখ তাজুল ইসলাম, পারুলিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব লোকমান কবির, কুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহম্মেদ, সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহীন সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হালিম মোস্তফা, সখিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সুইটসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি সখিপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতনকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয় । এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এজাহার নামীয় আসামী তালিকায় রয়েছে উক্ত ওলিউল্লাহ।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দেবহাটায় মানববন্ধন

দেবহাটা ব্যুরো: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষেভ সমাবেশ করেছে দেবহাটা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাওনের নেতৃত্বে উপজেলার পারুলিয়া শহীদ আবু রায়হান চত্তরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্সক্লাবসহ অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশটিতে বক্তব্যকালে সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়ে প্রেসক্লাবের সাতবারের নির্বাচিত সভাপতি, দৈনিক কালেরচিত্র পত্রিকার সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, পত্রদূত পত্রিকার সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক ও সময় টিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি মমতাজ আহমেদ বাপী, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, মোহনা টিভির আব্দুল জলিলসহ ১০ জন সিনিয়র সাংবাদিককে আহতের ঘটনা সাতক্ষীরার ইতিহাসে কলঙ্কজনক। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের আবাসস্থল। যারা সাংবাদিকদের আবাসস্থলে ঢুকে প্রকাশে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে অবিলম্বে তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় জেলার সকল সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরো কঠোর আন্দোলন কর্মসুচীতে নামবে বলেও হুশিয়ার করেন সাংবাদিকরা। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক দৃষ্টিপাতের নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্যা, দৈনিক পত্রদূতের প্রভাষক রাজু আহমেদ, দৃষ্টিপাত পত্রিকার দেবহাটা প্রতিনিধি সুমন বাবু, দেবহাটা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রশীদুল আলম রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মোমিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্যাহ আল মাসুদ, সাংষ্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ডা. অহিদুজ্জামান, সদস্য এসএম নাসির উদ্দীন, রিয়াজুল ইসলাম, রমজান মোড়ল, আবীর হোসেন লিয়ন, উত্তম কুমার, মুজাহিদ হুসাইন, রবিউল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, আমিনুর রহমান বাবু, লিটন ঘোষ বাপী, সজল ইসলাম, রিপোটার্স ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আফসার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রবিউল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম, সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম, সোহাগ হোসেন, সাদিকুজ্জামান সোহাগ, আলমগীর কবির, অভি স্বর্নকার, আনিছুর রহমান, অনুপ কুমার প্রমুখ।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসীদের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন দৈনিক যশোর’র সম্পাদক

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দৈনিক যশোর’র সম্পাদক ও প্রকাশক এবং যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, বার্তা সম্পাদক রেজাউল করিম রুবেলসহ পত্রিকায় কর্মরত সকল সাংবাদিক। বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই এবং হামলায় যে সমস্ত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আহত হয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলায় পাইকগাছা সাংবাদিক জোটের নিন্দা

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদকসহ সিনিয়র ১০ জন সাংবাদিকের উপর সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহম্মেদ ররির সন্ত্রাসী বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়েছে। হামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পাইকগাছা সাংবাদিক জোটের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিদাতারা হলেন, আহবায়ক প্রকাশ ঘোষ বিধান, যুগ্ম আহবায়ক যথাক্রমে শেখ মুহা. আব্দুস সালাম, শেখ আব্দুল গফুর, এসএম আব্দুর রহমান, সদস্য সচিব পলাশ কর্মকার, সদস্য এইচ এম এ হাশেম, জি এম আসলাম হোসেন, জি এম এমদাদ, জি এম মোস্তাক আহম্মেদ, শেখ সেকেন্দার আলী, এ কে আজাদ, মিলন দাশ, মোঃ রফিকুল ইসলাম খান, মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, স ম নজরুল ইসলাম, জগদীশ দে, আব্দুস সবুর আল-আমীন, এইচ এম জিয়াউর রহমান, মজুমদার পলাশ, দ্বীপ অধিকারী প্রমুখ।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘প্রেসক্লাবের মতো জায়গায় প্রবেশ করে ফিল্মি স্টাইলে আবু আহম্মেদ (সম্পাদক দৈনিক কালের চিত্র), কল্যাণ ব্যাণার্জী (দৈনিক প্রথম আলো) ও আবুল কালাম আজাদ (চ্যানেল আই)সহ ১০ সাংবাদিকের উপর যে নগ্ন হামলা চালনো হয়েছে তা স্বাধীন বাংলার সভ্য সমাজে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখানো ছাড়া কিছুই না।’ বিবৃতিদাতারা আরো বলেন, ‘হামলার সময় পুলিশের নিস্ক্রীয় ভূমিকা সাংবাদিকদের মাঝে নানা প্রশ্নের জান্ম দিয়েছে। হামলায় হামলাকারী ও মদতদাতা সকল সন্ত্রাসীকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে, তা না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

কবর জিয়ারতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় আবদুল মোতালেব

শ্রদ্ধায় ভালবাসায় পালিত হলো প্রয়াত সাংবাদিক নেতা বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও দ্য বাংলাদেশ অবজারভার এর সাতক্ষীরা করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক কাফেলা সম্পাদক আবদুল মোতালেবের ১৭তম মৃত্যু বার্ষিকী। ২০০২ সালের ২ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বর্ষীয়ান সাংবাদিক রেডক্রিসেন্ট ব্যক্তিত্ব আবদুল মোতালেব ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী। তার হাত ধরে জন্ম লাভ করে শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এবং অগনিত মানুষকে চাকরি দিয়ে বেকারত্ব ঘুচিয়ে সমাজকে আলোকিত করা ব্যক্তিত্ব আবদুল মোতালেবের নাম এখনও মানুষের মুখে মুখে। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বহু সাংবাদিকের হাতে খড়ি দেওয়া সাংবাদিক নেতা আবদুল মোতালেবকে এবারও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে।
তার প্রয়াণের দিন গতকাল রোববার সকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ রসুলপুরে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার জন্য দোয়া করেন তারা।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহির নেতৃত্বে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর কল্যাণ ব্যানার্জি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সহ-সভাপতি কালিদাস রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, মীর মোস্তফা আলিসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে তারা বলেন, আবদুল মোতালেব ছিলেন আমাদের শিরোধার্য নেতা। সমাজের সকল কল্যাণ কাজে তিনি এগিয়ে এসেছেন। দুর্যোগে তিনি মানুষের মাঝে সাহায্যের ডালি নিয়ে হাজির হয়েছেন। প্রত্যন্ত এলাকায় তিনি শিক্ষার আলোক ছড়িয়েছেন। গড়ে তুলেছেন শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন সামজের অভিভাবক। আমরা তাকে হারিয়েছি। তার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা চির অটুট থাকবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

কালিগঞ্জে ‘দৈনিক নওয়াপাড়া’ পত্রিকার ইফতার মাহফিল

বিশেষ প্রতিনিধি: যশোর থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক নওয়াপাড়া’ পত্রিকার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ২৭ রমজান (রবিবার) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দৈনিক নওয়াপাড়া পত্রিকার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি বাবলা আহমেদের সভাপতিত্বে পত্রিকার উপজেলা কার্যালয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও উজ্জীবনী ইনস্টিটিউট এর প্রধান শিক্ষক ফিফা রেফারী শেখ ইকবাল আলম বাবলু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কালিগঞ্জ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এসএম গোলাম ফারুক, নলতা প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদুজ্জামান আহাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদেকুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সদস্যসচিব সাংবাদিক অসিত সেন, সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার লাভলু আক্তার, দৈনিক কাফেলা পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ফারুক হোসেন লিমন, সাংবাদিক জিএম বারী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শামিম হোসেন, তৌফিকুর রহমানসহ সাংবাদিক ও সূধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন এসএম গোলাম ফারুক।

মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে ঈদুল ফিতরের চাল হরিলুট!

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারের দেওয়া চাল হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি বরাদ্দকৃত যাকাতের ৩০ কেজি বস্তার চাল ২জনকে দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ কেজি চাল প্রদান করেন। স্থানীয়রা জানান, আমাদের হক সরকার দিলেও চেয়ারম্যান ঠিক মত দিচ্ছে না। প্রায় সময়ে ভিজিডি, ভিজিএফ, জেলে কার্ডের চাল ওজনে কম দিয়ে আমাদের ঠকিয়ে পরবর্তীতে বাইরের কালো বাজারে সেই চাল বিক্রয় করে। বিষয়টি নিয়ে ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডে মহিলা মেম্বর সেলিনা সাঈদ বলেন, গতকাল একটু অনিয়ম হয়েছিল। কিন্তু আজ সেটা ঠিক হয়ে গেছে। এদিকে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, আমার এখানে চাল ঠিক মতবণ্টন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসে দেখে যান। গত ৭ মে ঘূর্ণিঝড় ফনির আক্রমনের প্রস্তুতিতে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে পৃথক পৃথক ২টি ডিও যথাক্রমে ১হাজার কেজি ও ২য় দফায় ৫শ’ কেজি মোট ১৫শ’ কেজি জিআর চাল বরাদ্দ দেয়। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল মাত্র ২শ’ কেজি চাল খিচুড়ি রান্না করে কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে বিতরণ করেন। বাঁকি ১৩শ’ কেজি চাল ১৬ টাকা কেজি হিসেবে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর নূরজাহান বেগমের স্বামী নূর ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। ক্রেতা নুর ইসলামও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জিআর’র চাল ক্রয়ের কথা স্বীকার করেন। সুন্দরবন কমিউনিটি ক্লিনিকের আসবাবপত্র কেনার জন্য শ্যামনগর উপজেলা থেকে এলজিএসপির বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু সুন্দরবন কমিউনিটি ক্লিনিকের আসবাবপত্র কেনা তো দূরের কথা! বরাদ্দের টাকা এখন যে কোথায় তা জানেন না কেউ। সরকার কর্তৃক আয়লা কবলিত মানুষের মাঝে শুকনা খাবার রাখার জন্য পাত্র সরূপ (প্লাস্টিক পাত্র) জনসাধারণের মাঝে বিলি না করে অর্ধেক (প্লাস্টিক পাত্র) প্রতি পিস ১৫শ’ টাকা দরে বিক্রয় করেন। এ ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের বহু দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়লের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলার ৪ দিন: গ্রেপ্তার নেই আতংকে সাতক্ষীরার কর্মরত সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিনিধি: আতংকে রয়েছেন সাতক্ষীরার কর্মরত সাংবাদিকরা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদের স্বাভাবিক চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব অভ্যন্তরে। সেখানে পুলিশ না থাকায় তাদের আতংক আরও বেড়ে গেছে।
গত ৩০ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা হকিস্টিক নিয়ে প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে ঢুকে ফিল্মি কায়দায় সাংবাদিকদের মারধর করতে থাকে। লোহার রড ও ক্রিকেটের ব্যাটের আঘাতে তারা রক্তাক্ত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে রক্তপাত দেখে অন্যান্য সাংবাদিকরা মাত্র ১০০ গজ দুরে সাতক্ষীরা থানায় ফোন করলেও পুলিশ আসে ঘটনার ৪০ মিনিট পর। ততক্ষণে হামলা থেমে গেলেও আহত সাংবাদিকরা অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তবে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে ঘটনার নিন্দা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা দিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বলা হয় হামলার সময় সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান এই হামলার নেপথ্য গডফাদার একটি এনজিও পরিচালক একেএম আনিছুর রহমানের সাথে গল্পে মশগুল ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে যোগসাজশ করে ওসিকে তার টেবিলে ব্যস্ত রেখে প্রেসক্লাবে এই হামলার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
হামলায় আহত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বর্তমানসহ সাতবারের সভাপতি দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, চ্যানেল আই প্রতিনিধি ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক পাঁচবারের সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জি, মোহনা টিভির আবদুল জলিল, প্রেসক্লাব সম্পাদক সময় টিভির মমতাজ আহমেদ বাপী ও সাবেক সাতবারের সম্পাদক আবদুল বারী প্রমুখ। তাদের মধ্যে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আবু আহমেদ ও আবদুল জলিল। এ ঘটনার সাথে জড়িত ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে ধরেনি। উপরন্তু আসামিরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ও বাইরে আসা যাওয়া করছেন এবং নানাধরনের উত্তেজনাকর কথাবার্তা বলছেন। ফলে সাংবাদিকদের আতংক বেড়ে গেছে। তারা ফের হামলারও আশংকা করছেন। একটি পাল্টা সাজানো মামলা দিয়ে হামলাকারীরা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকরা অবশ্য বলেছেন এমন কোনো ভুয়া মামলা নিয়ে আসামিদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে তার ফল ভালো হবে না।
সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেছেন তারা নির্বিঘেœ ও নিরাপদে কাজ করতে পারছেন না। ভয়মুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন না। তবে এ ঘটনার পরদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সাংবাদিকদের নিয়ে একটি বিশাল মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। এই মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দাবি তোলা হয়। ঘটনা জানার পরও মাত্র ১০০ গজ দুরে পুলিশ কেনো ৪০ মিনিট পর আসলো তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিকরা। এরও একদিন পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এক সমাবেশ থেকে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয় ‘ সাতক্ষীরায় নতুন করে জয়নাল হাজারি ও এরশাদ শিকদারের জন্ম হচ্ছে। এদের প্রতিহত করতে হবে’। জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম হাশলাকারীদের গ্রেফতার দাবি করেছেন। ঘটনার পর কয়েকদিন কেটে গেলেও কোনো গ্রেফতার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করছেন সাংবাদিক সমাজ।
উল্লেখ্য নানা কারণে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয় গত ২০ মার্চ। প্রায় আড়াই মাস পর গত ২৯ মে প্রেসক্লাব এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। প্রত্যাহারের পর ২৪ ঘন্টা পার না হতেই প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের অভিযোগ হামলাকারীরা ওই সংসদ সদস্যের সমর্থক ও অনুসারী। তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

শখের কোয়েলে সফলতার মুখ দেখছেন কিশোর আসিফ

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছোটবেলা থেকেই কোয়েল পোষার শখ ছিল শহরের বাঁকাল সরদার পাড়া গ্রামের আসিফের। বাবার মুখ দেখেনি আসিফ। পরিবারের অভাব ঘোচাতে মা ও কাজের সন্ধানে চলে গেছে সৌদি আরব। বাড়িতে একা থাকেন আসিফ।
খুব ছোট থাকতে কোয়েল খামার করার শখ ছিলো তার। ২০১৬ সালে প্রথম কোয়েলের বাচ্চা কিনে খামার শুরু করেন। কিন্তু এ বিষয়ে কিছু না জানার ফলে শুরুতেই অধিক অংশ পাখি মারা যায়।
২০১৯ সালের জানুয়ারিতে বড় বাজারের কোয়েল ডিম বিক্রেতার পরামর্শে আবারও ১ হাজার কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে আনেন। দেড়মাস পরে ৪০০ টির মত পুরুষ পাখি ভাল দামে বিক্রয় করেন। শীতের কারনে কিছু পাখি মারা গেলেও এখন ৫০০ কোয়েল পাখি রয়েছে তার খামারে। প্রতিদিন ডিম পাচ্ছে ৪০০ টির ও বেশি। সেখান থেকে প্রতি মাসে আয় হওয়াই উৎসাহ আরও বেড়েছে তার। এভাবে ব্যস্ততার মধ্যেই খুঁজে পায় একধরণের প্রশান্তি। আগামীতে বড় খামার করার স্বপ্ন আছে বলে জানান। বর্তমানে ৭ম শ্রেণিতে পোড়ালেখা করছে আসিফ। বাড়িতে একাই থাকেন বাবা খোঁজ খবর না রাখলেও মা রাখছে বলে জানান তিনি।
আরও বলেন, ‘আমাকে দেখে ইতোমধ্যে এলাকার অনেক এসএসসি পরীক্ষার্থী এখন আমার সাথে যোগাযোগ করছে খামার করার জন্য।
সুলতান পুর বড় বাজারের ডিম ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, মুরগির চেয়ে কোয়েলের ডিমে লাভ বেশি। আসিফের কাছ থেকে প্রতিদিন ১টাকা ৭০ পয়সা দরে ৪০০ টির ও বেশি ডিম কিনে থাকি। এ ডিমের চাহিদাও বেশি। অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা এটি। এর মাংস, ডিম খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। রোগীর পথ্য। ডিম ও মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম থাকায় তা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
সম্প্রতি ইউটিউবের জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান কৃষি ও কৃষকের গল্পে আসিফের কোয়েল খামার নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পাওয়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে তার খামারে লোকজন আসছে খামার দেখার জন্য,জানতে চান কোয়েল পোষার নিয়ম কানুন।

ঈদ: ভোমরা স্থল বন্দরে ৭ দিন আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ

নিজস্ব প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে রবিবার থেকে টানা ৭ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে ভোমরা স্থল বন্দর শুল্ক স্টেশনের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। আগামী ৯ জুন রোববার থেকে আবারও যথারীতি আমাদানী-রপ্তানী কার্যক্রম শুরু হবে। তবে, এসময় ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা যথারীতি যাতায়াত করতে পারবেন।
ভোমরা কাস্টমসের সহকারি কমিশনার নিয়ামুল হাসান জানান, শুল্ক স্টেশন খোলা থাকলেও সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ৭ দিন বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মর্মে আমাদেরকে এক পত্রের মাধ্যমে জানিয়েছেন। তবে, ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রীরা যথারীতি যাতায়াত করতে পারবেন বলে তিনি আরো জানান।
ভোমরা স্থল বন্দর সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি আরাফাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারী তিন দিনের ছুটির সাথে সিএন্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশন এবং ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সিএন্ডএফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে আরো চার দিন বাড়িয়ে মোট ৭ দিন উভয় দেশের বন্দরের আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, আগামী ৯ জুন রোববার থেকে আবারও যথারীতি আমাদানী-রপ্তানী কার্যক্রম শুরু হবে।

আলিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী তরুণলীগের ইফতার

নিজস্ব প্রতিনিধি: আলিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী তরুণলীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ জুন, ২৭ রমজান আলীপুর চেকপোস্ট এলাকার অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলীপুর ইউনিয়ন তরুণলীগের আহবায়ক কবির হোসেন স্বপন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী তরুণলীগের সভাপতি শাহানুর ইসলাম শাহীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী তরুণলীগের সভাপতি মনিরুজ্জামান মামুন, সাধারণ সম্পদাক আনিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আছাদুল ইসলাম, আলিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী তরুণলীগের যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউলসহ থানা ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আলিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী তরুণলীগের সদস্য সচিব মোঃ লালন হোসেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলার প্রতিবাদে কলারোয়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে কলারোয়ায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা মোড়স্থ কলারোয়া প্রেসক্লাবের সামনে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কলারোয়া প্রেসক্লাব ও কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাব যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। বৃষ্টির মধ্যে সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, ‘গত ৩০মে বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বহিরাগত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ন্যাক্কারজনক। সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।’
বক্তারা হামলার শিকার সাংবাদিকদের সুস্থ্যতা কামনা ও হামলার ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ইয়ারব হোসেন, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কলারোয়া নিউজের সম্পাদক প্রভাষক আরিফ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মাসুদ রানা, দপ্তর সম্পাদক সুজাউল হক, নির্বাহী সদস্য আব্দুর রহমান, সদস্য ও কলারোয়া নিউজের স্টাফ রিপোর্টার সরদার জিল্লুর রহমান, শফিকুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান রনি, দেবাশীষ চক্রবর্তী, আদিত্য বিশ্বাস, আরিজুল ইসলাম, ইমরান হোসেন, সোহাগ খাঁন, আল আমীন গাজী, সজিব হোসেন, কলারোয়া রিপোর্টস ক্লাবের সভাপতি আজাদুর রহমান খান চৌধুরী পলাশ, সহ-সভাপতি শেখ জাকির হোসেন ও এমএ কাশেম, যুগ্ম-সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মোস্তফা হোসেন বাবলু, দপ্তর সম্পাদক মুহা. আসাদুজ্জামান ফারুকী, এসএম ফারুক হোসেন, প্রচার সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সদস্য গোলাম রসুল, জিয়াউর রহমান জিয়া, রিপন, সাংবাদিক জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, এমএ সাজেদ, সাতক্ষীরা জেলা কোর্টের আইনজীবী এড. কাজী আব্দুল্লাহ আল হাবিব প্রমুখ।

আশাশুনিতে প্রতিপক্ষের হামলায় মালিক আহত

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনির প্রতাপনগরে মৎস্য ঘের দখলকে কেন্দ্র করে জমির মালিকপুত্রকে মারপিট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কল্যাণপুরের দক্ষিণ বিলে সাড়ে ৪বিঘা জমির একটি মৎস্য ঘের পারিবারিক দন্দের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত আনোয়ারুল ইসলাম ওই গ্রামের মাও. ফজলুল হক গাজীর নিকট থেকে ডীড নেয়। সম্প্রতি আনোয়ারুল ইসলাম নিহত হওয়ায় তার স্ত্রী ও পিতা মৎস্য ঘের করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন উভয় পক্ষের সাথে আলোচনান্তে নিহত আনোয়ারুলের বন্ধু তাহমিদ হোসেনকে মৎস্য ঘের করার অনুমতি দেয়। কিন্তু তাহমিদ হারির টাকা প্রদানে ব্যর্থ হলে জমি মালিক মাও. ফজলুল হক মৎস্য ঘের নিজের দখলে নেন। এতে তাহমিদ ও তার সহযোগিরা শনিবার সন্ধ্যায় মাও. ফজলুল হকের পুত্র কুহার (১৮) কে মারপিট করে। এ ব্যাপারে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।