সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে হামলার ৪ দিন: গ্রেপ্তার নেই আতংকে সাতক্ষীরার কর্মরত সাংবাদিকরা


প্রকাশিত : জুন ৩, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আতংকে রয়েছেন সাতক্ষীরার কর্মরত সাংবাদিকরা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদের স্বাভাবিক চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব অভ্যন্তরে। সেখানে পুলিশ না থাকায় তাদের আতংক আরও বেড়ে গেছে।
গত ৩০ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা হকিস্টিক নিয়ে প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে ঢুকে ফিল্মি কায়দায় সাংবাদিকদের মারধর করতে থাকে। লোহার রড ও ক্রিকেটের ব্যাটের আঘাতে তারা রক্তাক্ত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে রক্তপাত দেখে অন্যান্য সাংবাদিকরা মাত্র ১০০ গজ দুরে সাতক্ষীরা থানায় ফোন করলেও পুলিশ আসে ঘটনার ৪০ মিনিট পর। ততক্ষণে হামলা থেমে গেলেও আহত সাংবাদিকরা অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তবে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে ঘটনার নিন্দা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা দিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বলা হয় হামলার সময় সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান এই হামলার নেপথ্য গডফাদার একটি এনজিও পরিচালক একেএম আনিছুর রহমানের সাথে গল্পে মশগুল ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে যোগসাজশ করে ওসিকে তার টেবিলে ব্যস্ত রেখে প্রেসক্লাবে এই হামলার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
হামলায় আহত ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বর্তমানসহ সাতবারের সভাপতি দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাক্তন অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, চ্যানেল আই প্রতিনিধি ও সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক পাঁচবারের সভাপতি এড. আবুল কালাম আজাদ, প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জি, মোহনা টিভির আবদুল জলিল, প্রেসক্লাব সম্পাদক সময় টিভির মমতাজ আহমেদ বাপী ও সাবেক সাতবারের সম্পাদক আবদুল বারী প্রমুখ। তাদের মধ্যে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আবু আহমেদ ও আবদুল জলিল। এ ঘটনার সাথে জড়িত ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে ধরেনি। উপরন্তু আসামিরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ও বাইরে আসা যাওয়া করছেন এবং নানাধরনের উত্তেজনাকর কথাবার্তা বলছেন। ফলে সাংবাদিকদের আতংক বেড়ে গেছে। তারা ফের হামলারও আশংকা করছেন। একটি পাল্টা সাজানো মামলা দিয়ে হামলাকারীরা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকরা অবশ্য বলেছেন এমন কোনো ভুয়া মামলা নিয়ে আসামিদের রক্ষা করার চেষ্টা করা হলে তার ফল ভালো হবে না।
সিনিয়র সাংবাদিকরা বলেছেন তারা নির্বিঘেœ ও নিরাপদে কাজ করতে পারছেন না। ভয়মুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন না। তবে এ ঘটনার পরদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সাংবাদিকদের নিয়ে একটি বিশাল মানববন্ধন করেছেন সাংবাদিকরা। এই মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার দাবি তোলা হয়। ঘটনা জানার পরও মাত্র ১০০ গজ দুরে পুলিশ কেনো ৪০ মিনিট পর আসলো তা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন সাংবাদিকরা। এরও একদিন পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এক সমাবেশ থেকে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয় ‘ সাতক্ষীরায় নতুন করে জয়নাল হাজারি ও এরশাদ শিকদারের জন্ম হচ্ছে। এদের প্রতিহত করতে হবে’। জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম হাশলাকারীদের গ্রেফতার দাবি করেছেন। ঘটনার পর কয়েকদিন কেটে গেলেও কোনো গ্রেফতার না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এই হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করছেন সাংবাদিক সমাজ।
উল্লেখ্য নানা কারণে সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করা হয় গত ২০ মার্চ। প্রায় আড়াই মাস পর গত ২৯ মে প্রেসক্লাব এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। প্রত্যাহারের পর ২৪ ঘন্টা পার না হতেই প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের অভিযোগ হামলাকারীরা ওই সংসদ সদস্যের সমর্থক ও অনুসারী। তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।