মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে ঈদুল ফিতরের চাল হরিলুট!


প্রকাশিত : জুন ৩, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সরকারের দেওয়া চাল হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারি বরাদ্দকৃত যাকাতের ৩০ কেজি বস্তার চাল ২জনকে দেওয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ কেজি চাল প্রদান করেন। স্থানীয়রা জানান, আমাদের হক সরকার দিলেও চেয়ারম্যান ঠিক মত দিচ্ছে না। প্রায় সময়ে ভিজিডি, ভিজিএফ, জেলে কার্ডের চাল ওজনে কম দিয়ে আমাদের ঠকিয়ে পরবর্তীতে বাইরের কালো বাজারে সেই চাল বিক্রয় করে। বিষয়টি নিয়ে ৭, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডে মহিলা মেম্বর সেলিনা সাঈদ বলেন, গতকাল একটু অনিয়ম হয়েছিল। কিন্তু আজ সেটা ঠিক হয়ে গেছে। এদিকে চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল বলেন, আমার এখানে চাল ঠিক মতবণ্টন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসে দেখে যান। গত ৭ মে ঘূর্ণিঝড় ফনির আক্রমনের প্রস্তুতিতে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে পৃথক পৃথক ২টি ডিও যথাক্রমে ১হাজার কেজি ও ২য় দফায় ৫শ’ কেজি মোট ১৫শ’ কেজি জিআর চাল বরাদ্দ দেয়। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়ল মাত্র ২শ’ কেজি চাল খিচুড়ি রান্না করে কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে বিতরণ করেন। বাঁকি ১৩শ’ কেজি চাল ১৬ টাকা কেজি হিসেবে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর নূরজাহান বেগমের স্বামী নূর ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। ক্রেতা নুর ইসলামও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জিআর’র চাল ক্রয়ের কথা স্বীকার করেন। সুন্দরবন কমিউনিটি ক্লিনিকের আসবাবপত্র কেনার জন্য শ্যামনগর উপজেলা থেকে এলজিএসপির বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্তু সুন্দরবন কমিউনিটি ক্লিনিকের আসবাবপত্র কেনা তো দূরের কথা! বরাদ্দের টাকা এখন যে কোথায় তা জানেন না কেউ। সরকার কর্তৃক আয়লা কবলিত মানুষের মাঝে শুকনা খাবার রাখার জন্য পাত্র সরূপ (প্লাস্টিক পাত্র) জনসাধারণের মাঝে বিলি না করে অর্ধেক (প্লাস্টিক পাত্র) প্রতি পিস ১৫শ’ টাকা দরে বিক্রয় করেন। এ ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের বহু দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোড়লের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।