উৎসবমূখর পরিবেশে আশাশুনিতে সপ্তশতী গীতাযজ্ঞ ও দ্বি-বার্ষিক ব্রাক্ষণ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদের মহাসচিব বিজয়কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, ব্রাহ্মণ সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও গীতা পাঠের মধ্যদিয়ে ধর্মীয় শিক্ষায় পারাদর্শী হতে হবে। তাহলে এ সমাজ ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি এক শ্রেণির মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে চলেছে। তাদের হুশিয়ারী করে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণ পরিবারের উপর কোন ধরণের আঘাত আনার চেষ্টা করবেন না। যদি কেউ এমন অপচেষ্টা করেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি শনিবার বিকালে বাংলাদশ ব্রাহ্মণ সংসদ জেলা শাখার আয়াজনে আশাশুনির কাপসন্ডা (গদাইপুর) সার্বজনীন জগদ্ধাত্রী মন্দির প্রাঙ্গনে সপ্তশতী গীতাযজ্ঞ (হামযজ্ঞ) ও দ্বি-বার্ষিক ব্রাহ্মণ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ জেলার আহবায়ক করুণা কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য বাখেন, আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী, কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এমপি প্রতিনিধি সজল মুখার্জী, বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক তরুণ আচার্য, খুলনা জেলার সভাপতি গোপাল মুখার্জী, সাতক্ষীরা জেলা প্রশিক্ষক সঞ্জয় চক্রবর্তী, কিরণ চন্দ্র ভট্টাচার্য, শ্যামনগর উপজলার সমাজসবা অফিসার কিরণ চট্টাপাধ্যায় ও আশাশুনি সপ্তশতী গীতাযজ্ঞ ও দ্বি-বার্ষিক ব্রাহ্মণ সম্মলনের মহাসচিব বিজয় কৃষ্ণ ভট্টাচার্য।
এর আগে জগদ্ধাত্রী মন্দিরে সপ্তশতী গীতাযজ্ঞ (হামযজ্ঞ) করা হয়। হামযজ্ঞে সাতক্ষীরা, খুলনা ও ঢাকা জেলার ২৫জন ব্রাহ্মণ অংশগ্রহণ করন। শেষে করুণা কান্তি ব্যানার্জীকে সভাপতি ও শংকর ব্যানার্জীকে সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ সাতক্ষীরা জেলার কমিটি ঘোষণা করা হয়। এসময় সাতক্ষীরা, যশার খুলনা ও ঢাকা জেলার শতশত ব্রাহ্মণ উপস্থিত ছিলেন।

তালায় পঙ্গু মির্জা বাচ্চুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি রাজ্জাক

তিন বছর আগে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ডান পা ভেঙে চুরমার হয়ে যায় চা দোকানদার বাচ্চু মির্জার। অসহায় বাচ্চু মির্জা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা চালালেও অভাবের কারণে এক সময় তার দোকানটি বন্ধ হয়ে যায়। বাচ্চু মির্জা সাতক্ষীরার তালা সদরের মাঝিয়াড়া গ্রামের মির্জা আজিমুদ্দীনের ছেলে। চায়ের দোকান চালিয়ে দুই ছেলে, অসুস্থ বাবা ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতেন তিনি।
ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার তালা সদরের খড়েরডাঙ্গা গ্রামে বেড়াতে আসেন পুলিশ কন্ট্রোল রুমের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় মাঝিয়াড়া বাজারে ভ্যানের উপর অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকা মির্জা বাচ্চুকে দেখে তিনি গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। এসময় তিনি তার অসুস্থতার খোঁজখবর নেন। সকলের মুখে অসুস্থ বাচ্চুর সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে তার চিকিৎসায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাকের পরামর্শে শনিবার সকাল ১০টায় মির্জা বাচ্চুর পায়ের চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তালা সদরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম নজরুল ইসলাম, ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী হামিদা বেগম, চাচাতো ভাই আইয়ুব আলী, ডিআইজির সহোদর আব্দুর রউফ ও শামীম হোসেন সাথে আছেন।
আব্দুর রউফ বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা ভাই আকস্মিক মির্জা বাচ্চুর এমন অসুস্থতার বিষয়টি দেখে নিজেই তার চিকিৎসার জন্য উদ্যোগ নেন। তার কথা মতো বাচ্চুকে খুলনা মেডিকেলে নেয়া হচ্ছে।
এ পুলিশ কর্মকর্তার চাচাতো ভাই এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, সৎ ও সাদা মনের মানুষ আব্দুর রাজ্জাক। মির্জা বাচ্চু আর কখনও পায়ে হেঁটে চলাফেরা করতে পারবে না এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। গত তিনটি বছর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে পার করেছেন তিনি। অবশেষে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন আব্দুর রজ্জাক।
পুলিশ কন্ট্রোল রুমের অতিরিক্তি ডিআইজি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মির্জা বাচ্চুর সুচিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আন্তরিকতার সঙ্গে মির্জা বাচ্চুর চিকিৎসার বিষয়টি দেখবেন। এছাড়া বিষয়টি আমি নিজে ও খুলনার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাকিতে ও ফাঁকিতে সাতক্ষীরার কৃষক

সুভাষ চৌধুরী
লোক সমাজে একটা কথা আছে। আমও গেলো ছালাও গেলো। আর আমি বলছি আম গেলো ধানও গেলো। কারণ বাকিতে আর ফাঁকিতে নাজেহাল সাতক্ষীরার কৃষক। তারা আম বিক্রি করেছেন বাকিতে। তাদের ধানও ফড়িয়ারা নিয়েছে বাকিতে। এরই মধ্যে ঈদ এলো। কিভাবে কাটলো তাদের ঈদ একখা কেবল তারাই জানেন। এক চাষী আমাকে বললেন আমার প্রচুর ধান হয়েছে এবার। এ যেনো অঢেল ধান। কিন্তু ধানের দাম নেই। সরকার ধান কিনলেও আমরা সরকারের কাছে সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ পেলাম না। দালাল ও ফড়িয়ারা এসেছে আমাদের কাছে। দাম বলেছে কম। শেষ পর্যন্ত কম দামে ধান দিয়েও দিয়েছি। কিন্তু ফড়িয়া সামান্য কিছু টাকা ছুঁইয়ে দিয়ে চলে গেছে। ঈদে আর টাকা দেয়নি। বলে বাজার মন্দা। বিক্রি করতে পারছি না। ঈদের পরে দেখবো। এই কৃষক এখন টাকার জন্য এ ঘাট ও ঘাট করছেন। তার আফসোস আমার ধান আমার গলার কাঁটা। আমি কিভাবে পরের মওসুমে ধান চাষ করবো। ধান চাষ করে আমার লাভই বা কি। কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে। তিনি বলেন আমার বাকি আমার ফাঁকি। সাতক্ষীরায় এ বছর ধান জন্মেছে প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন। এই ধানের ভবিষ্যত কী। তা জানতে চেয়েছেন কৃষকরা। এই ধান জন্মাতে যে অর্থ ও শ্রম দিতে হয়েছে তার অর্ধেকও কৃষকের হাতে ওঠেনি। এখন মহাজনকে কি দেবো। নিজে কি খাবো একথা বলছেন কৃষক। সাতক্ষীরা জেলায় চার লাখ ৮১ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে এবার। এর মধ্যে মাত্র ২২৯১ টন ধান সরকারিভাবে ক্রয়ের কথা। আমার কথা ধান চাষীদের প্রলাদনা দিতে হবে। কালের ঐতিহ্য বাংলাদেশের পাট সোনালী আঁশ যেনো কৃষকের গলার ফাঁস না হয়ে দাঁড়ায়।
সাতক্ষীরায় এবার যেনো পাল্লা দিয়ে জন্মেছে আম। অঢেল আম। কিন্তু আমে এবার আয় দেয়নি। পবিত্র রমজানে আমের চাহিদা কমে যায়। রোজাদাররা দিন শেষে কতটুকু আমই বা খেয়েছেন। তা ছাড়া আম যখন পাকেনি তখনই আসে ফণীর আঘাত। কয়েক দিন পর আরও দু’টি ঝড় হানা দিয়েছে সাতক্ষীরায় । প্রথমে পাকলো গোপালভোগ গোবিন্দভোগ জাতের আম। কিন্ত দামে কম। পাইকাররা বাজারে আম এনে বিপাকে পড়েছেন। কম টাকায় বেচা বিক্রি সেরে চলে গেছেন তারা। বাজারে কিছুটা সময় আম শুন্যতা দেখা দেয়। এর পর পাকতে থাকে হিমসাগর। এ আম না পাকতেই চাষীরা অবস্থা বিবেচনায় আগাম বিক্রি করে দিতে থাকেন। বাজারে খুব কম দাম কাঁচা পাকা হিমসাগরের। এমনিতে চাহিদা কম। ফলে দামও কম। চাষীরা আম বিক্রি করে কাংখিত টাকা পেতে পারেন নি। তারা বড় আশা করে রফতানির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগী কয়েকটি এনজিও শেষ পর্যন্ত সেই আম আর নিতে আসেনি। চাষীরা তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত কম দামে আম বিক্রি করে নিজেদের ক্ষতিই করেছেন তারা । বাজারে কিছু আম ছেড়েছেন তারা বাকিতে। এই দাম তারা পাবেন কিনা তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে আমচাষীদের। এবার জেলার ৫ হাজার ৩ শ’ আম বাগানের ৪১ শ’ হেকটর জমিতে ৫০ হাজার টন আম উৎপাদন হয়েছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের। এর মধ্যে মাত্র দুই শ’ মেট্রিক টন আম বিদেশে রফতানির কথা। বাস্তবে রফতানি হয়েছে মাত্র কয়েক টন। ২০১৪ সালে সাতক্ষীরাকে স্থানীয়ভাবে ম্যাংগো ক্যাপিটাল ঘোষণা করা হয়েছিল। সাতক্ষীরার হিমসাগর বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আম হিসাবে স্বীকৃতিও পেয়েছিল। এই ধারা বজায় রাখতে কৃষক কিন্তু কম করেনি। কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে প্রাণান্ত চেষ্টা করে চলেছে। কিন্তু তাদের দুর্ভাগ্য। তারা আমে দাম পেলেন না। আমও গেল বাকিতে। পর্যাপ্ত আম গেলো না রপ্তানিতেও। কি হবে ভবিষ্যতের আমচাষ। সব মিলিয়ে চাষীদের মাথায় হাত উঠেছে। তাদের ধান আম দুই গেছে বাকিতে আর ফাঁকিতে। লেখক: সাতক্ষীরা করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক যুগান্তর ও এনটিভি

নজরুল ইসলামের সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

জেলা পরিষদের চ্যেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাহেদুজ্জামান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার রাত ১০টায় তিনি জেলা পরিষদের চ্যেয়ারম্যানের সাথে দেখা করেন। জেলা ও দেশের সমসাময়ীক রাজনীতি নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন এবং নজরুল ইসলাম সাহেদুজ্জামানকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপধর্ম বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তোমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করতে পার সেই আশা করি। তিনি সাহেদুজ্জামানের আগামীর রাজনৈতিক জীবনের জন্য সাফল্য কামনা করেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি আশিকুর রহমান, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সুমন, তারিক আলি শাওনসহ জলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

তালায় এনজিও পরিচালকের উপর ঘর মালিকের হামলা

তালা প্রতিনিধি: তালার ইসলামকাটি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আছাদুল ইসলামের হামলায় কামাল হোসেন নামের স্থানীয় এক এনজিও পরিচালক আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার সুজনশাহা বাজারে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এতে গুরুতর আহত কামাল হোসেনকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কামাল হোসেন জানান, তিনি স্বনির্ভর নামের একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই এনজিও এর স্বনির্ভর ড্রিংকিং ওয়াটার প্রকল্পটি সুজনশাহা বাজারে একই এলাকার ইসমাইল সরদারের ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য আছাদুল ইসলামের ভাড়া দোকানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কামাল হোসেন বলেন, উক্ত দোকানটি ১০বছর মেয়াদী ডিড করে নিয়ে সেখানে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সেখান থেকে সুপেয় পানি উৎপাদন করে এলাকার মানুষদের মাঝে পরিবেশন করা হচ্ছে। কিন্তু হটাৎ করে শনিবার সকালে আছাদুল ইসলাম প্রকল্প ঘরে এসে ১দিনের মধ্যে দোকান ছেড়ে দেবার নির্দেশ দেয়। কিন্তু দোকানের জন্য এখনও ৮ বছর ডিড চুক্তি রয়েছে জানিয়ে দোকান ঘর ছাড়ার জন্য ৩ মাস সময় চাওয়াতে আছাদুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং কামাল হোসেনকে পিটিয়ে আহত করে। এতে কামাল হোসেন গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি সদস্য আছাদুল ইসলাম দোকান ঘরে তালা লাগানোর কথা স্বীকার করলেও কামাল হোসেনকে পিটানোর কথা অস্বীকার করেন।

আনোয়ার হোসেন আনুর মৃত্যুতে জেলা জাতীয় পার্টির শোক

৪ জুন জাতীয় পার্টি সাতক্ষীরা জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহবায়ক জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সদস্য বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেন আনুর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্ত্রস্ত্র পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দিদার বখত, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশু, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদুর রহমান, দারুল হুদা লালু, মশিউর রহমান টুকু, শরীফুজ্জামান বিপুল, ইমামুল মোসলেমিন দাদু, সদর উপজেলা জাপার সদস্য সচিব আনোয়ার জাহিদ তপন, পৌর জাপার সভাপতি সৈয়দ মাহমুদ পাপা, সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুস সাদেক, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা শেখ শাখাওয়াতুল করিম পিটুল, জেলা যুব সংহতির আহবায়ক আশিকুর রহমান বাপ্পি, সদস্য সচিব আবু তাহের, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টির নেতা এবিএম রাজিবুল্লাহ রাজু, ছাত্র সমাজের সভাপতি কায়ছারুজ্জামান হিমেল, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক রোকনুজ্জামান সুমন, সহ-সভাপতি রিমন, রনি, রাজু, জুলফিকার রায়হান, পাভেল, রকিসহ অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

৫দিন পর স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য শুরু

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির দীর্ঘ ৫ দিনপর শনিবার বিকাল থেকে স্থ’লবন্দর বেনাপোল দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ১৩৯ ট্রাক পণ্য আমদানি রপ্তানি হয়েছে। বন্দর সচল হওয়ায় খুশি বন্দর শ্রমিকেরা। কমতে শুরু করেছে পণ্যজট।
বেনাপোল স্থল বন্দর উপ পরিচালক আব্দুল জলিল জানান, সরকারি ছুটির কারণে বেনাপোল পেট্টাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি ছিল বন্ধ। ৫দিন পর সচল হয়েছে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য। তবে রবিবার থেকে পুরোদমে বন্দরে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে জানান তিনি। বন্দর কাষ্টম রয়েছে খোলা। শুরু হয়ে পণ্য লোড আনলোডিং।

পলাশপোলে দিন দুপুরে হঠাৎ চুরি পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট ও বেঞ্চ সহকারি কেউ রক্ষা পায়নি: উদ্বিগ্ন শহরবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধি: শহরের পলাশপোল সরদারপাড়া এলাকায় দিন-দুপুরে চুরির ঘটনায় অস্থির হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে অন্তত ৭ বাড়িতে চোরেরা ঘরের হ্যাজবোল্ড ভেঙে নগদ টাকা, ল্যাপটপ ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেছে। এসব চুরির হাত থেকে পুলিশের সার্জেন্ট ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারির কেউই রেহাই পায়নি। তবে ভুক্তভুগিরা মাত্র একটি ঘটনায় মামলা করার উদ্যোগ নিলেও অন্যরা এড়িয়ে গেছেন নানা কারণে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পলাশপোল সরদারপাড়ার বাসিন্দা রকিব মোল্যা নিজ বাড়িতেই বসবাস করেন। মাস খানেক আগে বাড়িতে না থাকার সুযোগে বাড়ির দুই তলার দরজার হ্যাজবোল্ড ভেঙে ঘরের মধ্যে ঢুকে ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়। একই দিন পাশের বাড়ির মাসুদের বাড়ির ভাড়াটিয়া চায়ের দোকানীর ঘরের দরজার হ্যাজবোল্ড ভেঙে ৪৫ হাজার টাকা চুরি হয়। প্রায় একই সময়ে মাসুদের বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়ার ঘরে দিন দুপুরে ঢুকে একটি ল্যাপটপ ও ৩০ হাজার টাকা চুরি হয়। সেখানেও ঘরের হ্যাজবোল্ড ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। এদিকে শহরতলীর মিলগেট এলাকার ঈদের পরের দিন দুপুরে হাফিজুর রহমান নামক এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে ৩৭ ভরি সোনার গহনা চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সদ্য বিদায়ী ২২ রমজানে একই এলাকার সদরুল আলমের মেয়ের বাড়ির ভাড়াটিয়া ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোশাররফ হোসেনের ঘরের দরজার হ্যাজবোল্ড ভেঙে ১৮ হাজার টাকা চুরি হয়। চুরির সময় সার্জেন্ট মোশাররফ ও তার পরিবার কেউ বাড়িতে ছিলেন না।
সর্বশেষ চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে যে কোন সময় শহরের পলাশপোল সরদার পাড়ার লিপি ম্যানশন এর এড. রেশমা পারভীনের বাড়ির ভাড়া বাসিন্দা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বেঞ্চ সহকারি আশরাফুল আলমের বাসার হ্যাজবোল্ড ভেঙে নগদ ১৮ হাজার টাকাসহ এক লাখ এক হাজার টাকার বেশি স্বর্ণের গহনা ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ঈদের ছুটিতে থাকায় চোরেরা বুঝে শুনে সময় নিয়ে চুরি করেছে বলে আশরাফুল আলমের অভিযোগ।
তিনি বলেন, এই এলাকায় একইভাবে অনেকগুলো চুরি হয়েছে। চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এধরণের চুরি শহরবাসিকে রীতিমত ভাবিয়ে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছি। তবে ঘটনার পরপরই সদর থানার ওসিকে জানানোর পর এসআই কিশোর ঘটনাস্থলে এসে দেখে যান এবং চুরির বিষয়টি তিনি প্রত্যক্ষ করেন।
আশরাফুল আলম আরও বলেন, এক মাসের কিছু বেশি সময় হবে শহরের এসপি বাংলোর পেছনে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আবু মুসার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পাভেল রায়হান। তিনি সকালে বাসা থেকে অফিসে আসেন এবং বিকালে বাসায় গিয়ে দেখেন, চোরেরা তার বাসার হ্যাজবোল্ড ভেঙে চুরির চেষ্টা করেছে। তবে কিছুই নিতে পারেনি। হয়তো বা কেউ এসে যাওয়ার কারণে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারেও সেখানে ঘটনার পরপরই পুলিশ গেলেও কোন প্রতিকার হয়নি।
এসব ব্যাপারে কথা হয় পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোশাররফ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, এমনিতেই পুলিশে চাকরি করি। তারপর আমার বাসা থেকে চুরি হয়েছে। এব্যাপারে বাড়ি ওয়ালাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম বা পুলিশকে অবহিত করতে বলেছিলাম তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সার্বিক বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোস্তাফিজুর রহমান দুপুরে জানান, বেঞ্চ সহকারি আশরাফুল আলমের বাসায় চুরির ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকায় অন্যান্য চুরির বিষয়ে তার কাছে কোন খবর নেই। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোশাররফের বাড়িতে চুরি হয়েছে, আমি জানিনা বা আমাকে জানায়নি। তবে এসব এলাকায় অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

ধানের ন্যায্যমূল্য: কৃষকের প্রত্যাশা

মো. আবদুর রহমান
ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ক্যালোরির শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে ভাত থেকে। তাই খাদ্য বলতে আমরা প্রধানত ভাতকেই বুঝে থাকি। বস্তুত ভাতের সাথে রয়েছে আমাদের নাড়ীর টান। আর আমাদের প্রাণশক্তির উৎসও ভাত। এদেশের জমি ও আবহাওয়া ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। বাংলাদেশের বিভিন্ন মৌসুমে আবহমানকাল থেকে এ ফসলের চাষ হয়ে আসছে। এদেশের আবাদি জমির শতকরা প্রায় ৭৫-৮০ ভাগই ধানের চাষ হয়। আর শতকরা প্রায় ৯২ জনই হলো ধান চাষী। গ্রামবাংলার মানুষের সারা বছরের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতিক হিসেবেও ধান বিবেচনা করা হয়। সুতরাং আমাদের ধন, আর ধানই প্রাণ।
এবছর উচ্চফলনশীল জাতের ধানের চেয়ে হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ বেশি হওয়ায় দেশে রেকর্ড পরিমাণ বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু দাম অপ্রত্যাশিতভাবে পড়ে যাওয়ায় কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকরা বলছেন উৎপাদন খরচ উঠছে না। আবার শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ধান কাটতেও কৃষকদের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একমণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা যাচ্ছে না। কৃষকদের মতে, প্রতিমণ ধানের উৎপাদন খরচ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে ধানের প্রকারভেদে প্রতি মণ ধান ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে না। সরকার প্রতি মণ ধান ১০৪০ টাকা দরে সরাসরি কিনলেও বেশির ভাগ কৃষকই এদামে ধান বিক্রি করতে পারছে না।
জানা যায়, দেশে এবছর এক কোটি ৯৬ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন হবে। সরকার এবছর প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে মোট দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে। যা উৎপাদনের তুলনায় খুবই সামান্য। অন্যদিকে বাজারে এবার ক্রেতাও কম। এ পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। ধানের মূল্য নিয়ে দেশে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন সরকার। এ বিষয়টি নিয়ে দেশের সচেতন মহলেও তুমুল আলোচনা চলছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ড. শাহাজাহান কবীর বলেন, আমাদের কৃষকের ভর্তুকি যদি একটু বাড়ানো যায় অর্থাৎ সার, বীজ ও সেচের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বাড়াতে পারলে ধানের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। মূলত ধানের উৎপাদন খরচ কমানোর দিকে জোর দেয়া প্রয়োজন। এজন্য শ্রমিকের উপর নির্ভরতা কমিয়ে জমি চাষ, ধানের চারা রোপণ, কর্তন ও মাড়াইয়ের জন্য যান্ত্রিকীকরণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বোরো মৌসুমে এক কেজি উচ্চফলনশীল জাতের বোরো ধানের বীজ যেখানে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়, সেখানে এক কেজি হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের বীজ ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। বর্তমানে দেশে বোরো মৌসুমে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ হচ্ছে। ধানের বেশি ফলনের জন্য ভবিষ্যতে বোরো মৌসুমে হাইব্রিড জাতের ধানের জমির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষকের অভিমত। তাই বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সর্বপ্রথম কৃষক পর্যায়ে বীজ ধান বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের ধান বীজের দাম কমাতে হবে।
ধান ফসলের চারা রোপণ, ধান কাটা ও মাড়াই কাজে প্রধানত শ্রমশক্তি ব্যবহার করা হয়। একাজগুলো যদি যন্ত্রের সাহায্যে সম্পন্ন করা যায় তাহলে ধানের উৎপাদন খরচ অনেক হ্রাস পাবে। এতে কৃষক লাভবান হবে এবং কৃষি শ্রমিক সংকট দূর হবে। উলে¬খ্য, ধানের জমি চাষের কাজে এখন দেশে লাঙল ও গরুর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষকভাইয়েরা পাওয়ার টিলার ব্যবহার করছেন যা খুবই আশাব্যঞ্জক। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সারা দেশে ক্রয়মূল্যের শতকরা ৫০ ভাগ এবং হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কৃষকদের শতকরা ৭০ ভাগ ভর্তুকি প্রদান করছে। কম্বাইন হার্ভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাভর্তি কাজে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব। অন্যদিকে রাইস ট্রান্সপ¬ান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমেও ধান চাষের উৎপাদন খরচ অনেক কমিয়ে আনা যায়। আবার যান্ত্রিকীকরণ করা সম্ভব হলে ধান চাষে পানির সেচের খরচও কমে আসবে। যেখানে এক কেজি ধান উৎপাদনে তিন হাজার লিটার পানি খরচ করে বাংলাদেশের কৃষকরা, সেখানে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় এটি দুই হাজার লিটারের বেশি না। কোথাও কোথাও ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার পানি লাগে। প্রসঙ্গত, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের যন্ত্রের সুবিধা দিতে ভাড়া ভিত্তিক যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
ধান ফসলের উৎপাদন খরচ হ্রাসের লক্ষ্যে সরকার রাসায়নিক সারের মূল্য ৪ দফা কমিয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি টিএসপি ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ২২টাকা, ডিএপি ৯০ টাকা থেকে ২৫ টাকা এবং এমওপি ৭০ টাকা থেকে ১৫ টাকায় নির্ধারণ করেছে। ইউরিয়াসহ অন্যান্য রাসায়নিক সারের দাম আরো একটু কমানো যায় কিনা তা চিন্তা করা দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় ধান ফসলে বিভিন্ন ধরণের রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমন ক্রমশ বাড়ছে। ধান ও অন্যান্য ফসলের রোগ ও পোকা-মাকড় দমনের নিমিত্তে অতীতের তুলনায় বর্তমানে দেশে কীটনাশক কোম্পানীর সংখ্যা অনেক বাড়ছে। আর এসব কোম্পানীগুলো হরেক রকম কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক বাজারজাত করছে। এগুলোর দামও অনেক বেশি। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের (সিনসাইপার-১০ইসি) ১০০ এমএল বোতলের একটি কীটনাশকের দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, যা দিয়ে ৩৩ শতক জমির ধান খেতে একবার ¯েপ্র করা যায়। অপরদিকে ট্রাইসাইক্লাজল গ্রুপের (ট্রুপার-৭৫ ডবি¬উপি) ৫০ গ্রাম কৌটার/প্যাকেটের একটি ছত্রাকনাশকের দাম ২২০ টাকা, যা দিয়ে প্রায় ৩৩ শতক জমির ধান গাছে একবার ¯েপ্র করা যায়। কৃষক উচ্চমূল্য দিয়ে এসব ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ক্রয় করে ধান ফসলে ব্যবহার করছেন। উপরন্তু, কীটনাশক ডিলারদের প্ররোচনায় ইদানিং কৃষকরা বেশি ফলনের আশায় ধান ফসলে যথেচ্ছ পরিমাণ বোরণ, দস্তা, সালফার এসব অনুখাদ্য ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে ধানের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ধানের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কীটনাশক কোম্পানীগুলোর উপর মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারকরণসহ কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ পূর্বক ধান চাষে যথেচ্ছ অনুখাদ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
অধিকন্তু যেসব জমিতে (বিশেষ করে মাঝারি উঁচু ও বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির মাটিতে) ধানের ফলন সাধারণত কম হয়, সেসব জমিতে ধানের পরিবর্তে সর্জান/ বেড পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি ও স্বল্প মেয়াদী ফলমূল যেমন পেঁপে, কলা, তরমুজের চাষ করা উচিত। এতে ধানের তুলনায় অধিক অর্থ আয় করা সম্ভব হবে।
এদেশে ধান কর্তনের জন্য সব কৃষকের পক্ষে জমিতে কম্বাইন হারভেস্টার/ রিপার ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। এজন্য ধান কর্তনের জন্য গ্রামাঞ্চলের শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবক এমনকি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের কাজে লাগানো যেতে পারে। এতে হাট-বাজার বা অন্য জায়গা থেকে শ্রমিক আনার প্রয়োজন হবে না। ফলশ্র“তিতে কৃষি শ্রমিক সংকট অনেকটা দূর হবে। এজন্য পূর্ব থেকেই কৃষক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
সর্বোপরি, ধান কর্তনের পূর্বেই সরকারিভাবে ক্রয় মূল্য ও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। ধান ক্রয়ের আগে কোনো কৃষকের তালিকা তৈরির প্রয়োজন নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডধারি কৃষকই তাদের সামর্থ্যমত ধান সরকারের কাছে বিক্রি করবেন। যেসব কৃষকের নিকট থেকে ধান ক্রয় সম্পন্ন হবে শুধুমাত্র তাদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে রাখতে হবে। আর ধান কর্তনের পরপরই কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করতে হবে। এজন্য ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রয়োজনে প্রতি গ্রামে ধান ক্রয় কেন্দ্র করতে হবে। ধান ক্রয়ের পর তা সরকারি গুদামে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। এজন্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন গুদাম নির্মাণ করতে হবে। জানা যায়, ভবিষ্যতে বেশি করে ধান কিনতে সারা দেশে ‘মিনি পেডি সাইলো’ নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সাইলোতে ড্রয়ার ও ফেনি মেশিন থাকবে যাতে কৃষকরা ভেজা ধান দিলেও কোনো সমস্যা না হয়। এটি যদিও সময় সাপেক্ষ সেজন্য প্রতিটি উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারিভাবে অস্থায়ী গুদাম ঘর ভাড়া নেয়া যেতে পারে।
তাছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ধান বাজারজাত করার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ঝামেলাহীনভাবে বিক্রির জন্য মধ্যস্বত্ব ভোগীদের দৌরাত্ম্য কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এতে কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং লোকসান হবে না।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফসল ক্রয়ে এমন একটা ব্যবস্থা করেছে যাতে কৃষক লোকসানে না পড়ে। সে দেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘কমিশন ফর এগ্রিকালচারাল ক্রপস অ্যান্ড প্রাইসেস (সিএসিপি)’ নামে একটি সংস্থা আছে। এটি কৃষিতে মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস (এমএসপি) বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। সরকার এই দামে কৃষকের কাছ থেকে কৃষি পণ্য কিনবে। সরকার বর্তমানে কৃষকের কাছ থেকে ২৩ ধরণের পণ্য কিনে কৃষক যেন তার ন্যায্যমূল্য পায়। ফসল চাষের সময়ই পণ্যের দাম ঠিক করা হয় এবং তা বাজার মূল্য থেকে কিছুটা বেশি থাকে। আবার যে পরিমাণ কেনা হয়, তা বাজারে প্রভাব ফেলার মতো যথেষ্ট।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ধান কিনছে মোট উৎপাদনের পাঁচ ভাগের একভাগ। আর বাংলাদেশ কিনছে মোট উৎপাদনের ২০ ভাগের একভাগ। এবছর বোরো মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গে ধান উৎপাদিত হয়েছে আড়াই কোটি টন এবং প্রাদেশিক সরকার ৫২ লাখ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনছে। বাজারে প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ১৪৫০ থেকে ১৫০০ রুপি হলেও সরকার কিনছে ১৭৫০ রুপিতে। আবার মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইসের সঙ্গে প্রতি কুইন্টাল ধানে ২০ টাকা বোনাস দিচ্ছে সরকার। আবার একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল ধান দিতে পারবে।
উন্নত বিশ্বের কিছু দেশ যেমন জাপান, কোরিয়া কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সবটাই কিনে নেয়। পরে আবার তা কম দামে বিক্রি করে। জাপানের জিডিপিতে কৃষির অবদান দুই ভাগ কিন্তু ভর্তুকি আরো বেশি। আমাদের দেশে কৃষি উপকরণে সহায়তা আরো বাড়ানো প্রয়োজন। এটা করা গেলে সব ধরণের কৃষকের কাছে সরকারের সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো যাবে। ফলে কম মূল্যে বিক্রির পরও কৃষকের মুনাফা কমবে না।
সুদীর্ঘকাল থেকেই কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের কৃষিখাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে কৃষিবিজ্ঞানীদের উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন, জোরদার সম্প্রসারণ কার্যক্রম এবং কৃষিজীবীদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রম ও বিনিয়োগে। এই কৃষিই দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। একটা কৃষি পরিবারের ছেলে-বুড়ো-মহিলা-পুরুষ সবাই কৃষিতে জড়িয়ে থাকেন। ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি এবং কোটি কোটি মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের মতো এতো বিশাল খাত দেশে আর একটিও নেই। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা পৃথিবীর সব দেশেই ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যান্য দেশে বীজ-বপণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতি স্তরে কৃষকরা পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেয়ে থাকেন, এমনকি বীমার ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক তার উৎপাদিত ধান ও অন্যান্য কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে এবং মুখে ফুটবে হাসির ঝিলিক। এ আমাদের প্রত্যাশা। লেখক: উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, রূপসা, খুলনা

এমপি রবির প্রেস বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব

অদ্য ৮জুন ২০১৯ সাতক্ষীরা সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি স্বাক্ষরীত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গত ৩০ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বরর্বচিত হামলার ঘটনাকে সংঘর্ষ এবং সাংবাদিকরা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বলে উল্লেখ করেছেন। প্রকৃত পক্ষে ঐদিন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে কোন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ঐদিন একদল সন্ত্রাসী প্রেসক্লাবে ঢুকে সেখানে অবস্থানরত সাংবাদিকদের উপর অর্তকিত হামলা ও মারপিট করে। আর এক দল সন্ত্রাসী প্রেসক্লাবের সামনের চত্বরে অবস্থান নেয়। আরো একটি দল মাননীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির ভাই মীর মাহমুদ আলী লাকী ও মাহী আলমের নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা ও শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে অবস্থান নেয়। যাহা পুলিশের সিসি টিভির ফুটেজ দেখলে সূস্পষ্ট ভাবে প্রামানিত হবে। এমনকি হামলা শুরুর প্রাক্কালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সিসি টিভির সংযোগ বিচ্ছিন্নের পূর্ব পর্যন্ত যে রেকর্ড রয়েছে তার মাধ্যমেও নারকীয় সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি প্রমানিত হবে।
কয়েক স্তরে অবস্থান নেয়া কয়েকশ হামলাকারীর মধ্যে চার / পাঁচজন সাংবাদিক থাকলেও অন্যরা সবাই সাতক্ষীরা সদর উপজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সন্ত্রাসী ও চিহিন্ন ব্যক্তি ছিল। আমরা আশা করিছিলাম মাননীয় সংসদ সদস্য অনেক বিলম্বে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সূস্পষ্ট অবস্থান নেবেন। কিন্তু তিনি তা না নেওয়ায় আমরা হতাস হয়েছি। আমরা উক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিবৃতি দিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদে, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপী, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এম শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল জলিল, দপ্তর সম্পাদক মো. ইব্রাহিদ খলিল, নির্বাহী সদস্য সেলিম রেজা মুকুল, গোলাম সরোয়ার, ইয়ারব হোসেন, জি.এম আদম শফিউল্লাহ ও কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জীসহ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দেবহাটায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

দেবহাটা ব্যুরো: দেবহাটার টাউনশ্রীপুরে বজ্রপাতে সাইফুল ইসলাম (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সাইফুল ইসলাম উপজেলার চররহিমপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় একজন মৎস্যজীবি । মঙ্গলবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার টাউনশ্রীপুর সংলঘœ ইছামতি নদীর পাড়ে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকাটিতে আলকাতরার কাজ করার সময় আকর্ষিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী সহ দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাকিবের টানা তৃতীয় ফিফটি

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রানের পাহাড় টপকাতে চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিয়ে গেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। সৌম্য সরকারের পর ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন বামহাতি এই ওপেনার। ২ রানে ওপেনার সৌম্য সরকার বোল্ড হয়ে ফেরার পর তামিম ফিরেছেন ১৮ রান করে। তবে প্রথম দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় আছেন সাকিব। ১৯.১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০২ রান।

ইংলিশ পেসারদের গতির মুখে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। দেখে শুনে খেলতে গিয়ে বরং উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন সৌম্য সরকার। জোফরা আর্চারের ক্ষিপ্র গতির কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েই চতুর্থ ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন। জো রুট ঠিকমতো না হওয়াতে হাতে জমাতে পারেননি। অবশ্য পরের বলে আর পারেননি আর্চারকে রুখতে। বল সরাসরি স্টাম্প ভেঙে পৌঁছে যায় বাউন্ডারি লাইনে!

সাকিব নামার পর সেই পেস আক্রমণেই চাপ বজায় রাখে ইংলিশরা। সাকিব-তামিম জুটি গড়ার চেষ্টায় থাকলে আর্চার, ওকসের পর নতুন করে আক্রমণে আনা হয় মার্ক উডকে।  উঠিয়ে মারতে গেলে তামিম মরগানের হাতে ধরা পড়েন এক্সট্রা কাভারে।

তামিম ফিরেছেন ১৯ রানে। তার বিদায়ের পর সাকিব আল হাসান প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় আছেন। মুশফিককে সঙ্গী করে তুলে নিয়েছেন বিশ্বকাপের টানা ‍তৃতীয় ফিফটি। ক্যারিয়ারের ৪৫তম। ব্যাট করছেন ৫৬ রানে, সঙ্গী মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে ইনিংসে প্রতিরোধ গড়তে সহায়তা করছেন।

তার আগে কার্ডিফে রানের পাহাড় গড়েছে ইংল্যান্ড। বাংলাদেশকে তারা ছুঁড়ে দিয়েছে রেকর্ড ৩৮৭ রানের লক্ষ্য। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ৩৮৬ উইকেট রান তুলেছে ইংলিশরা। ফলে জিততে হলে বিশ্বকাপে রেকর্ড রান তাড়া করেই জিততে হবে টাইগারদের।

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটা গড়েছে আয়াল্যান্ড। এই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই ২০১১ সালে ৩২৭ রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জিতেছে আইরিশরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটা অবশ্য বাংলাদেশের। ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের ৩১৮ রান তাড়া করে টাইগাররা জয় তুলে নেয় ৪ উইকেট হারিয়েই!

সাতক্ষীরার পলাশপোলে দিন দুপুরে হঠাৎ বেড়েছে চুরি, পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেট ও বেঞ্চ সহকারি কেউ রক্ষা পাইনি, উদ্বিগ্ন শহরবাসী!

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল সরদার পাড়া এলাকার দিনদুপুরে চুরির ঘটনায় অস্থির হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। প্রায় এক মাসের ব্যবধানে অন্তত ৬ বাড়িতে চোরেরা ঘরের হ্যাজবোল্ড ভেঙ্গে নগদ টাকা , ল্যাপটপ ও স্বর্ণ চুরি করে নিয়ে গেছে। এসব চুরির হাত থেকে পুলিশের সার্জেন্ট ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারির কেহই রেহাই পাইনি। তবে ভুক্তোভগিরা মাত্র একটি ঘটনায় মামলা করার উদ্যোগ নিলেও অন্যরা এড়িয়ে গেছেন নানা কারণে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, পলাশপোল সরদার পাড়ার বাসিন্দা রকিব মোল্যা। নিজ বাড়িতেই বসবাস করেন। মাস খানেক আগে দিন দুপুরে বাড়িতে না থাকার সুযোগে চোরেরা বাড়ির দুই তলার দরজার হ্যাজবোল্ড ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে ঢুকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। একই দিন পাশের বাড়ির মাসুদের বাড়ির ভাড়াটিয়া চায়ের দোকানীর ঘরের দরজার হ্যাজবোল্ড ভেঙ্গে চোরেরা ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়। প্রায় একই সময়ে মাসুদের বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়ার ঘরে দিন দুপুরে ঢুকে একটি ল্যাপটপ ও ৩০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। সেখানেও ঘরের হ্যাজবোল্ড ভেঙ্গে চোরেরা নির্বিঘেœ চুরি করে।
এদিকে সদ্য বিদায়ী ২২ রমজানে একই এলাকার সদরুল আলমের মেয়ের বাড়ির ভাড়াটিয়া ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মোশাররফ হোসেনের ঘরের দরজার হ্যাজবোল্ড ভেঙ্গে ১৮ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। চুরির সময় সার্জেন্ট মোশাররফ ও তার পরিবার কেউ বাড়িতে না থাকার সুযোগে চোরেরা দিন দুপুরে চুরি করে। তিনি পুলিশ অফিসার হলেও চোরেরা তাকে ক্ষমা করেননি।
সর্বশেষ চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে যে কোন সময় শহরের পলাশপোল সরদার পাড়ার লিপি ম্যানশন এর এ্যাড: রেশমা পারভীনের বাড়ির ভাড়া বাসিন্দা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর বেঞ্চ সহকারি আশরাফুল আলমের বাসার হ্যাজবোল্ড ভেঙ্গে নগত ১৮ হাজার টাকাসহ এক লাখ এক হাজার টাকার বেশি স্বর্ণের গহনা ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় ঈদের ছুটিতে থাকায় চোরেরা বুঝে শুনে সময় নিয়ে চুরি করেছে বলে আশরাফুল আলমের অভিযোগ।
তিনি বলেন, এই এলাকায় একইভাবে অনেক গুলো চুরি হয়েছে। চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এধরণের চুরি শহরবাসিকে রিতিমত ভাবিয়ে তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছি। তবে ঘটনার পরপরই সদর থানার ওসিকে জানানোর পর এসআই কিশোর ঘটনাস্থলে এসে দেখে যান এবং চুরির বিষয়টি তিনি প্রত্যক্ষ করেন।
আশরাফুল আলম আরও বলেন, এক মাসের কিছু বেশি সময় হবে শহরের এসপি বাংলোর পেছনে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আবু মুসার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তফা পাভেল রায়হান। তিনি সকালে বাসা থেকে অফিসে আসেন এবং বিকালে বাসায় গিয়ে দেখেন, চোরেরা তার বাসার হ্যাজবোল্ড ভেঙ্গে চুরির চেষ্টা করেছে তবে কিছুই নিতে পারেনি। হয়তবা কেউ এসে যাওয়ার কারণে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। এব্যাপারেও সেখানে ঘটনার পরপরই পুলিশ গেলেও কোন প্রতিকার পাননি চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্যার।
এসব ব্যাপারে কথা হয় পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোশাররফ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, এমনিতেই পুলিশে চাকুরি করি। তারপর আমার বাসা থেকে চুরি হয়েছে। এব্যাপারে বাড়ি ওয়ালাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম বা পুলিশকে অবহিত করতে বলেছিলাম তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
সার্বিক বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোস্তাফিজুর রহমান দুপুরে জানান, বেঞ্চ সহকারি আশরাফুল আলমের বাসায় চুরির ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। এছাড়াও ওই এলাকায় অন্যান্য চুরির বিষয়ে তার কাছে কোন খবর নাই। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোশাররফের বাড়িতে চুরি হয়েছে আমি জানিনা বা আমাকে জানাইনি। তবে এসব এলাকায় অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

পাইলটের এমন ভুল করা উচিত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি পাইলট ভুল করে পাসপোর্ট নেননি। তবে তার এমন ভুল করা উচিত হয়নি যেহেতু এটি প্রধানমন্ত্রীর বিমান। ইমিগ্রেশন পুলিশেরও উচিত ছিল পাসপোর্টটি দেখা। তার গাফিলতির কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’ শনিবার (৮ জুন) দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাইলট ভুল করেই এটা করেছেন। বিমানবন্দরে দুই-তিন জায়গায় চেক হয়। তারপরও উনি চলে গেছেন। আমাদের ইমিগ্রেশনে তিনি ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়েছেন। ইমিগ্রেশন পুলিশ জেনারেল ডিক্লারেশন দেখেছেন। পাসপোর্ট দেখতে চাইলে সব সময় পাইলটরা বলেন, পকেটে আছে। তারপরও আমাদের ইমিগ্রেশন পুলিশের গাফিলতির কারণে পুলিশ প্রধান ইতোমধ্যে তাকে সাসপেন্ড করেছেন। এখানে গাফিলতি হয়েছে। তবে আমি বলবো এটা প্রধানমন্ত্রীর বিমান, তাই এই ভুলটা করা পাইলটের উচিত হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পর বিস্তারিত আরও জানা যাবে।’
ঈদের সময় নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে নিরাপত্তা ভালো ছিল, দেশের জনগণ সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপনে করেছে। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা ছিল।’
ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাট মোটামুটি ক্লিয়ার ছিল। শুধু সিরাজগঞ্জ বাইপাসে একটু সমস্যা ছিল। তারপরও মানুষ সুন্দরভাবে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন।’

শিবপুর ও আলিপুরের ইউনিয়নের মৎস্য চাষীদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ও আলিপুর ইউনিয়নের মৎস্য চাষীদের ঘেরে বিষ প্রয়োগ, মাছ চুরি, বিভিন্ন সন্ত্রাসী মূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধ ও মৎস্য চাষীদের জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে গণস্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার খানপুর বাজারে শিবপুর ও আলিপুর ইউনিয়নের মৎস্য চাষীদের আয়োজনে এ বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্যে এ গণস্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইব্রাহীম খলিলের সভাপতিত্বে প্রধাণ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন আলিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ডাঃ মশিউর রহমান (ময়ূর)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন সাতক্ষীরা জেলা রাইচ মিল সমিতির সাধারণ-সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল গফফার, শিবপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি আনোয়ার ঢালী, যতিন্দ্র নাথ, জিয়াউর রহমান, যতিন্দ্র নাথ। এসময় বক্তারা বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময়ধরে সুষ্ঠুভাবে মাছ চাষ করতে পারছেনা শিবপুর ও আলিপুর ইউনিয়নের মৎস্য চাষীরা। এক শ্রেণীর মানুষেরা মৎস্য চাষীদের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে তাদের সর্বস্বান্ত করে দিচ্ছে। গত ২৭শে রমজান খানপুর গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে সুরাত আলীকে মৎস্য চাষীদের ঘেরে বিষ প্রয়োগকালে হাতেনাতে আটককরে আলিপুর ইউনিয়নের মৎস্য চাষীরা। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তিতে একই গ্রামের মৃত. আব্দুল বারীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ও সামছুর রহমানের ছেলে ইউনুচ আলীকে ধরে নিয়ে আসে স্থানীয় জনতারা। স্থানীয় জনতার চাপে সালিশীতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে সুরাত-ইউনুচরা জানান খানপুর গ্রামের মৃত হযরত সরদারের ছেলে আক্তারুল ইসলামের হয়ে কাজ করেন তারা। শিবপুর, আলিপুর ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন জায়গাই মৎস্য চাষীদের ঘেরে বিষ প্রয়োগের জন্যে আক্তারুল ইসলাম কন্টাক গ্রহণ করেন। কন্টাক অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন ও মাছ চুরি করে নেওয়া হয়। মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের মূল হোতাকে পেয়ে স্থানীয় সালিশীতে তাদেরকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আক্তারুল ইসলামের যোগসাজশে সাতক্ষীরা সদর থানায় চোরেরাই ঘের মালিকদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। এ মিথ্যা অভিযোগের তীব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এসময় তারা আরো বলেন, চোরদের শাসন করতে যেয়ে জনপ্রতিনিধি, সাধারণ জনগণ সহ আমরা শাসন হয়ে যাচ্ছি পুলিশের কাছে চোরদের দেওয়া মিথ্যা অভিযোগের কারনে। একারনে এসব অভিযোগ থেকে প্রতিকার ও মৎস্য চাষীদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বক্তারা।