এক বছর আগের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর খালাসের ৯মাস পর আশাশুনির রবিউলকে জেলে পাঠালো পুলিশ


প্রকাশিত : জুন ১০, ২০১৯ ||

মনিরুল ইসলাম মনি: মামলা নিষ্পত্তির নয় মাস পর এক কলেজ ছাত্রকে পূর্বের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রকে আশাশুনি থানার প্রতাপনগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত কলেজ ছাত্রের নাম রবিউল ইসলাম (১৯)। তার বাবার নাম হাবিবুর রহমান। রবিউল আশাশুনির প্রতাপনগর এপিএস কলেজ থেকে এইচএসসিতে ফল প্রত্যাশী।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী এড. বিবেকানন্দ রায় জানান, পাটকেলঘাটা থানাধীন পাঁচপাড়া গ্রামের বাহাজউদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না খাতুন আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে রবিউল ইসলামকে নিজের স্বামী দাবি করে তাকেসহ পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে যৌতুক আইনের ১১(ক)/৩০ ধারায় পাটকেলঘাটা থানায় জিআর-৬১/১৭ নং মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা রবিউলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের পহেলা ফেব্রুয়ারি মামলাটি (নারী ও শিশু-৬৭/১৮) পর্যালোচনা শেষে আসামী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। ২০১৮ সালের ২৮ মে আদালত থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাধ্যমে আশাশুনি থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (প্রসেস নং- ৫৪২/১৮) পাঠানো হয়। বাদি আদালতে আপোষনামা দেওয়ায় গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার মামলাটি নিষ্পত্তি করে দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ফেরৎ দেওয়ার জন্য আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
প্রতাপনগর গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার ছেলে রবিউল ইসলামকে আশাশুনি থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক হারুন অর রশিদ স্বপ্না খাতুনের দায়েরকৃত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় (৬৭/১৮) ২০১৮ সালের ২৮ মে’র একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করে। মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে বলার পরও পুলিশ তাকে ছেড়ে না দিয়ে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
জানতে চাইলে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি ও জজ কোর্টের পিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।