চার সদস্যের তদন্ত টিম আসছেন আজ সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজে বিপুল পরিমান ওষুধ ক্রয় নিয়ে তোলপাড়

এম জিললুর রহমান: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য বিপুল পরিমান ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে। গেল বছরের ৩জুন এসব ওষুধ ক্রয় করা হয়। এরসাথে এমএসআর সামগ্রী, সার্জারী যন্ত্রাংশ, ভারী যন্ত্রাংশ ও ফার্ণিচারও রয়েছে। মেডিকেল কজেল কর্তৃপক্ষের দাবী ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকার এসব ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ে কোন অনিয়ম হয়নি। তবে অন্যান্য সূত্র বলছে ক্রয়ের পরিমান প্রায় ১৭ কোটি টাকা। যেখানে ছাত্ররা পড়ালেখা করবে সেখানে বিপুল পরিমান ওষুধ ক্রয় নিয়ে বিতর্কের জেরে ইতোমধ্যে তদন্তকার্য শুরু হয়েছে। অধিদপ্তরের নির্দেশে আজ বৃহস্পতিবার খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা: রাশিদা সুলতানাসহ ৪ সদস্যের তদন্ত টিম আসছেন। টিমের অন্যান্যরা হলেন খুলনা বিভাগের ডিডি, এডি ও এও রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, বিগত ১৭-১৮ অর্থ বছরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এমএসআর, সার্জারী, ফার্ণিচার, ওষুধসহ বিভিন্ন দ্রবাদি ক্রয় করা হয়। ক্রয়ে কি পরিমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা এখনও নির্ণয় করা যাইনি। তবে ক্রয় তালিকা চাওয়া হলে মেডিক্যালের অধ্যক্ষ ডা: কাজী হাবিবুর রহমান দিতে অস্বীকার করেন। এমনকি দেখতে চাইলেও তিনি দেখাননি। তিনি বার বার বলেন, ক্রয়ে কোন সমস্যা নাই। এটি ডক ইয়ার্ড নৌবাহিনীর মাধ্যমে ক্রয় করা হয়েছে।
এদিকে এসব পন্য সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান উত্তরা ঢাকার বেনি ভোলেন্ট এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারি শাহিনুর রহমান বুধবার দুপুরে তার ব্যক্তিগত সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকার কেমিক্যাল, সার্জিক্যাল, সিরিঞ্জ, ক্যাডগার্ড, সুতাসহ এমএসআর এর বিভিন্ন সামগ্রী তিনি সরবরাহ করেছেন। যার পরিমান দুই কোটি টাকা। অপরদিকে পল্লবী ঢাকার অনিক ট্রেডার্স এর স্বত্তাধিকারি মহশীন উদ্দীন সোহান টেলিফোনে জানান, তিনি বিভিন্ন প্রকার বইপত্র, ফার্ণিচারসহ অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করেছেন। বিল নিয়েছেন ৯কোটি ৬৯ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা।
পাশাপাশি সাতক্ষীরা মেডিকেলের একাধিক সূত্র জানান, এখানে গেল অর্থ বছরে ওষুধ ও লিলেন সামগ্রী ক্রয় করা হয়েছে ২কোটি টাকা, এমএসআর ও ভারী যন্ত্রপাতি ১২ কোটি টাকা ও ফার্ণিচার ক্রয় করা হয়েছে ৩ কোটি টাকার।
এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় সাতক্ষীরা মেডিক্যালের স্টোরকিপার রাকিব হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ফার্ণিচার ক্রয় করা হয়েছে এক কোটি টাকার। আর ওষুধ কত টাকার ক্রয় করা হয়েছে তা বলতে পারবো না। তবে সব কিছুই স্টোরে আছে। এবিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: কাজী হাবিবুর রহমান এক প্রশ্নের জবাবে জানান ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে ৫৯ লক্ষ টাকার। মেডিক্যালে ছাত্র/ছাত্রীরা পড়বে এখানে কেন ওষুধ লাগবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ওষুধ ক্রয়ের সুযোগ আছে তাই ক্রয় করেছি। যা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে গত বছরের ২৯ আগস্ট সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বধায়ক বরাবর এক পত্রে মেডিক্যাল কলেজ অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান ১৫৮৪ নং স্মারকে জানান, “বিগত ১৭-১৮ অর্থ বছরে পত্র নং-০৬.০২.৬৭৫৮.১৬৫.৫৩.৪০১.১৮.৯৭৭ তারিখ ৩ জুন ২০১৮ সূত্র মোতাবেক ক্রয় কার্য সম্পন্ন করা হয়। উক্ত ক্রয়কৃত এমএসআর সামগ্রীর মালামালের মধ্যে সার্জারি ও অন্যান্য বিভাগের প্রয়োজনীয় সার্জিক্যাল ও অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি অন্যান্য দ্রব্যসহ। পরবর্তীতে এই দ্রব্যগুলি সরকারি বিধি মোতাবেক স্থানীয়ভাবে গঠিত বোর্ড সার্ভে সম্পন্ন করেন। যেগুলি ইতোমধ্যে আমাদের নিকট সংরক্ষিত আছে। এমতাবস্তায় উক্ত এমএসআর সামগ্রীর তালিকা আপনার নিকট অবহিতকরণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য একান্ত অনুরোধ জানাচ্ছি”। অর্থাৎ মেডিক্যাল কলেজের ক্রয়কৃত এমএসআর সামগ্রী ব্যবহার করার জন্য মেডিক্যাল হাসপাতালের তত্ত্বধায়ককে অনুরোধ জানালে তিনি এসব এসএমআর ও ওষুধ সামুগ্রী গ্রহণ করেননি।
তবে ক্রয়কৃত এমএসআর সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, ক্যাডগার্ড-০১, ক্যাডগার্ড-১/০, আইভি ক্যানোলা ১৮/২০/২২/২৪ গেজের, টাইটিনিয়াম ক্লিপ ফর ল্যাপরেসকপি, পুরুষের ইউরেটরি ডাইরেটরি সেট, মহিলার ইউরেটরি ডাইরেটরি সেটসহ ৫৩ প্রকারের সার্জিক্যাল আইটেম ক্রয় করা হয়। এছাড়াও ওষুধের মধ্যে রয়েছে ইনজেকশন কার্ডিনেক্স ৮০,৬০ এবং ৪০ গ্রাম। ইনকেশান ম্যাকজোলিন আর, ইন-সিপিম ১গ্রাম, মেরোপেনাম, মক্সসিলিভ ১গ্রাম, মক্সসিলিভ ৬০০ গ্রাম, ট্যাবলেট ইসোমো প্রাজল ২০ এমজি, ট্যাব ওসাটিল ৫০ এমজি, ট্যাব এ্যাটোভা ১০এমজি, মন্টিলাক-১০ এমজি, মেটফ্রোমিন ৫০০এমজি, মেটফ্রোমিন ৮৫০এমজি, ট্যাব গ্লুকোট্যাব-৮০এমজিসহ ১৭ প্রকারের ওষুধ ক্রয় করা হয়। এছাড়াও লিলেন সামুগ্রীর মধ্যে রয়েছে, বেডসিট, ব্লাঙ্কেট, ব্লাঙ্কেট কভার, ট্রাউজার সিট নারী ও পুরুষসহ মোট ৭আইটেমের পন্য ক্রয় করা হয়েছে। একই সাথে ওটি এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ ক্রয় করা হয়েছে ১১ আইটেমের।
এসব বিষয় নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে বসেই কথা হয় অধ্যক্ষ ডা: কাজী হাবিবুর রহমানের সাথে। যেখানে রুগী নাই, যেখানে ওটি বা অপরেশনের কাজ নাই সেখানে এসব ওষুধসহ অন্যান্য জিনিস ক্রয়ের কি প্রয়োজন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সব কিছুই মেডিক্যাল কলেজের আওতায়। তাই আমি সব কিছুই ক্রয় করতে পারি। তাহলে আপনার দেয়া ওষুধ ও সার্জিক্যাল যন্ত্রাংশ কেন হাসপাতালের তত্ত্বধায়ক নিলেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি তার ব্যাপার।
তবে এসব বিষয়ে রাতে কথা হয় মেডিকেল হাসপাতালের বর্তমানে (ওএসডি) তত্ত্বধায়ক ডা: শেখ শাহজান আলীর সাথে। তিনি বলেন, আমাকে ওষুধসহ অন্যান্য সার্জিক্যাল যন্ত্রাংশ নেয়ার জন্য যে পত্র মেডিক্যালের অধ্যক্ষ দিয়েছিলেন এটি নেয়ার কোন বৈধতা আমার ছিল না। কারণ মেডিক্যাল হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ সরকারের পৃথক দুটি প্রতিষ্টান। এটি আমাকে নিতে হলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক চাহিদাপত্র পাঠানোর পর তখন দিলে নেয়া যাবে। অবশ্য এবিষয়ে আমি সুনিদিষ্ট পরামর্শ দিয়ে একটি পত্র দিয়েছিলাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যদি ওই পন্য গ্রহণ করতাম তাহলে দুদক আবার বুড়ো বয়সে আমাকেই খুজে বেড়াতো।
সর্বশেষ সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজে ওষুধ ক্রয়ের বিষয়ে কতটুকু বৈধতা আছে জানতে কথা হয় স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা: রাশিদা সুলাতানার সাথে। তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজে ওষুধ কেনা হয় এই ধরনের ঘটনা আমার জানা নেই।

ঈদ আনন্দে পাইকগাছার বোয়ালিয়া ব্রীজে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: ঈদ আনন্দে পাইকগাছার ব্রীজগুলোতে দর্শনার্থীেেদর উপচে পড়া ভিড় নেমেছিল। বৈরী আবহাওয়ার মধ্য দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঈদের দিন ও তার পরের ২ দিন ব্রীজগুলোতে জনস্রোত দেখা যায়। পাইকগাছা বিনোদনের কোন স্পর্ট না থাকায় ব্রীজগুলিই বিনোদনের কেন্দ্রোবিন্দু হয়ে দাড়িয়েছে। উপজেলা সদরে মধুমিতা পার্ক নামে একটি পার্ক থাকলেও সেখানে কোন বিনোদনের প্রতিবেশ না থাকায় কেউ যায় না। এ কারণে পাইকগাছাবাসীর অনেকেই মধুমিতা পার্কের নাম ভুলতে বসেছে। নদীবেষ্টিত পাইকগাছা উপজেলা সদর পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলো ৩টি ব্রীজ দ্বারা যোগাযোগ মাধ্যম তৈরী হয়েছে। পূর্বপাশে শিবসা ব্রীজ, দক্ষিণ পাশে শিববাটী ব্রীজ ও পশ্চিম দিকে কপোতাক্ষ নদের উপর বোয়ালিয়া ব্রীজ (প্রস্তাবিত পিসি রায় ব্রীজ) অবস্থিত। যে কোন উৎসবে এই ব্রীজ ৩টিতে দর্শনার্থিদের বিনোদনের কেন্দ্র হিসাবে পরিণত হয়। পাইকগাছা কপোতাক্ষ নদের উপর বোয়ালিয়া ব্রীজ। ব্রীজ সংলগ্ন বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে বিনোদনের জন্য ছোট একটি পার্কের মত জায়গা রয়েছে। অনেকেই সেখানে উৎসবে পিকনিকসহ ছোট অনুষ্ঠান করে থাকে। ব্রীজের নীচে কপোতাক্ষ নদে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার-পরিজন নিয়ে কেউ কেউ নৌকা ভ্রমণে মেতে ওঠে। এবারের ঈদে বোয়ালিয়া ফার্ম ও বোয়ালিয়া ব্রীজে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড় ছিল। দর্শনার্থী মিমি আক্তার জানান, পাইকগাছায় বিনোদনের জন্য কোন পার্ক না থাকায় বোয়ালিয়া ব্রীজ ও ফার্ম এলাকায় ঈদে বান্ধুবিদের নিয়ে ঘুরতে এসেছে। উন্মুক্ত পরিবেশে খুব ভালো লাগছে। ব্রীজে দর্শনার্থীদের ঢল নামায় ব্রীজের উপর ভ্রাম্যমাণ ছোট ছোট দোকান বসতে দেখা যায়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ব্রীজগুলোতে পুলিশী টহল ব্যবস্থা ছিল।

খুলনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা মঙ্গলবার খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ হলে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক কার্যালয় এই কর্মশালার আয়োজন করে। খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইকেট্রনিক মিডিয়ার ৩০ জন সাংবাদিক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেক ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. সরদার সফিকুল ইসলাম বলেন, খুলনা অঞ্চল একটি উপকূলীয় এলাকা। এই এলাকার কৃষিজ পরিবেশ অন্য এলাকা থেকে আলাদা। খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা জেলার লবণাক্ত জমি রয়েছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই উপকূলীয় এলাকায় কিভাবে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায় সে জন্য সরকারি বেসরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নানান গবেষণা হচ্ছে। লবণাক্ত জমিতে চাষযোগ্য ভূট্টা, তরমুজ, সূর্যমুখীসহ লবণ সহিষ্ণু বিভিন্ন প্রজাতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সফলতাও পাওয়া গেছে। এধরনের নতুন নতুন প্রযুক্তি খুব অল্প সময়ের মধ্যে মিডিয়ার মাধ্যমে চমৎকারভবে জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। নতুন প্রযুক্তির সফলতা নিয়ে মিডিয়ায় প্রচার হলে সেই প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত সহজ হবে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহন কুমার ঘোষ, দৌলতপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন এবং বিটিভির খুলনা প্রতিনিধি মকবুল হোসেন মিন্টু। ধানের বিভিন্ন নতুন প্রজাতি নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ ইব্রাহিম। ই-কৃষি বিষয়ক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাদ্দেক হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন কৃষি তথ্য সংগঠক এস এম আহসান হাবীব। তথ্য বিবরণী

কপিলমুনিতে প্রতিপক্ষের হামলায় পিতা ও শিশু পুত্র আহত, থানায় মামলা
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: প্রতিপক্ষের হামলায় কপিলমুনির পার্শ্ববর্তী উত্তর সলুয়া গ্রামে পিতা-পুত্র গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় মামলা দােয়রে হয়েছে, মামলা নং ১২/১৯৮।
মামলা সূত্রে প্রকাশ, উত্তর সলুয়া গ্রামের মাওঃ মহাসিন উদ্দীনের শিশু পুত্র আব্দুর রহমান (১২) গ্রামের একটি পুকুরে সোমবার দুপুরে গোসল করতে গেলে পারিবারিক শত্রুতার জেরে গোসল করার অপরাধে একই গ্রামের মৃতঃ অফেজ মল্লিকের ছেলে হারুন মল্লিক (৩৫) মহাসিনের বাড়ি গিয়ে তার শিশু পুত্র আব্দুর রহমানকে মারপিট করে জখম করে। এসময় মহাসিন মার ঠেকাতে গেলে হারুন মল্লিক ও তার ২ সহযোগী ওই গ্রামের জসিম উদ্দীনের ২ ছেলে জুলফিক্কার সরদার (৪৩) ও আবু সাঈদ সরদার (৪৭) দা লাঠি ও রড দিয়ে তাকে এলাপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে মহাসিনের মাথা ফেটে যায়। মারাত্মরক জখম অবস্থায় মহাসিন ও তার শিশু পুত্রকে কপিলমুনি সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসারত অবস্থায় মহাসিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মহাসিন এখনো শংকামুক্ত নন।
এদিকে মারাতœক আহত মহাসিনের স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে হারুন মল্লিক, জুলফিক্কার সরদার ও আবু সাঈদকে আসামী করে পাইকগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলা করার পর আসামীরা বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী নাজমা বেগম জানান।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাবের মানববন্ধন

 

কুল্যা (আশাশুনি) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে গত ৩০ মে লাঠিসোটা, হকিস্টিক, লোহার রডসহ অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ঘন্টাব্যাপী শতাধিক সন্ত্রাসীর হামলায় প্রেসক্লাব সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদসহ সিনিয়র ১০ সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় আশাশুনি উপজেলা সড়কের কৃষি ব্যাংকের সামনে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। আশাশুনি রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় রিপোর্টার্স ক্লাবের রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল, উত্তম কুমার দাশ, এসএম শাহিন আলম, দৈনিক কালের চিত্রের স্টাফ রিপোর্টার গাজী ফরহাদ, দলিল লেখক সমিতির সদস্য আহসানউল্লাহ আছু বক্তব্য রাখেন। রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি সুব্রত দাশের পরিচালনায় এসময় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম নুর আলম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলমিন হোসেন, সদস্য আবুল হাসান, বিএম আলাউদ্দীন, সাংবাদিক সোহরাব হোসেন, জ্বলেমিন হোসেন, মানিক চন্দ্র বাছাড়, আলিমুজ্জামান আলিম, শ্যামল বিশ্বাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

তালায় খননকৃত মাটির ঢিবিতে সন্ধান মিলেছে প্রাচীন মন্দিরের

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: তালা সদরের আগোলঝাড়া ও ডাঙ্গানলতা গ্রামের মধ্যবর্তীস্থানে মাঠের মধ্যে দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা মাটির ঢিবিটি এখন দর্শনীয়স্থান। প্রতœতত্ব অধিদপ্তর মাটির ঢিবির মধ্যে খুঁজে পেয়েছে মধ্যযুগের আমলের পুরাকীর্তির নিদর্শন। যা দেখতে সেখানে প্রতিদিন ভিড় করে হাজারো মানুষ। ঈদকে ঘিরে দর্শনীয় এ স্থানটির আকর্ষণের মাত্রা বেড়েছো বহুগুণ। ধারণা করা যায়, মোঘল আমলের কোন এক রাজা বাদশা প্রার্থণার জন্য তৈরী করেছিল একটি মন্দির। কালের বিবর্তনে এক সময়ে সেটি মাটি চাপা পড়ে যায়। আর সেটি এলাকায় জীনভূতের তৈরী করা ঝুঁড়ি ঝাড়ার মাঠ নামে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। তবে গত কয়েক মাস আগে থেকে সেখানে খননকাজ পরিচালনা শুরু করে প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের একটি টিম। এরপরই সকল কাল্পনিক ধারণার পরিবর্তন ঘটে যায় এলাকার মানুষের মধ্যে। এখন প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রাচীনতম এ নিদর্শনটি।
স্থানীয় আগোলঝাড়া গ্রামের বেলাল হোসেন জানান, জন্মের পর থেকেই আমরা ওইস্থানটিকে ঝুঁড়ি ঝাড়ার মাঠ হিসেবেই জানি। এলাকায় কথিত রয়েছে জিনেরা পুকুর খননের পর সেখানে মাটির ঝুঁড়িগুলো ঝেঁড়ে ফেলে রাখে সেই থেকেই উৎপত্তি হয় ঝুঁড়ি ঝাঁড়ার মাঠের। তবে বর্তমানে প্রতœতত্ব অধিদপ্তর সেখানে খনন কর পেয়েছেন ঐতিহাসিক নিদর্শন। যা দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষের সমাগম ঘটে। আশেপাশে গড়ে উঠতে শুরু করেছে দোকানপাট। অবসর সময় কাঁটাতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এখানে এসে ভিড় করেন।
ঐতিহাসিক এ নিদর্শনের বিষয়ে খুলনা প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, মাটির ঢিবিটি খনন করে আমরা সেখানে মধ্যযুগীয় আমলের একটি বৌদ্ধ মন্দিরের সন্ধান পেয়েছি বর্তমান পর্যন্ত। বৃষ্টির সময়টা পার হলে সেখানে প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের তত্বাবধায়নে নতুনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এছাড়া বর্তমান পর্যন্ত যেগুলোর সন্ধান পেয়েছি সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কোনভাবেই ঐতিহাসিক এ নিদর্শনগুলোকে আমরা নষ্ট হতে দিতে চাই না।
তিনি আরও জানান, তার চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে দর্শনার্থীদের বসার জন্য ব্যবস্থা করা হবে। ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটি দেখতে প্রতিদিন প্রচুর লোকের ভিড় জমে। তবে সকলকে সতর্ক করা হয়েছে কোনভাবেই যেন নিদর্শনের কোনকিছুতে ক্ষয়ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম না চালানোর জন্য। তালাবাসী এটিকে দর্শনীয়স্থান হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। জীনভূতের তৈরী করা ঝুঁড়ি ঝাঁড়ার মাঠের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি নিছক গুজব ছাড়া কিছু নয়।

আশাশুনির মুক্তিযোদ্ধা সন্তান তৌহিদ সানা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

পত্রদূত রিপোর্ট: আশাশুনির বড়দলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তৌহিদ সানা হত্যার আসামীরা গত এক মাসেরও বেশী সময়ে ধরা পড়েনি। তারা গ্রামজুড়ে দাপিয়ে বেড়ালেও পুলিশ বলছে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তৌহিদ সানার বোন শামিমা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন উল্টো আসামীরা তাদের পরিবারকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
গত ১ এপ্রিল মাদক বেচাকেনা সংক্রান্ত বিরোধের জের হিসেবে ছয় জন সন্ত্রাসী তৌহিদ সানা (৪৫) কে গরান কাঠ ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার ৪দিন পর সে মারা যায়। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় একটি মামলা করা হয় ছয় জনের বিরুদ্ধে।
তার বোন শামিমা সুলতানা জানান বড়দল গ্রামের ইসলামুল হক টুটুল নামে এক মাদকাসক্ত যুবক তৌহিদ সানাকে গত ১ এপ্রিল তাদের ঘেরের বাসায় ডেকে পাঠায়। সেখানে উপস্থিত অন্যান্যদের উদ্দেশ্য করে বলে ‘আমি তৌহিদ সানাকে ডেকে এনেছি, তোরা যা পারিস কর’। একথা বলার পরপরই তার সহায়তায় বুড়িয়া গ্রামের নাহিদ বাবু, বড়দল গ্রামের আরিফুল ইসলাম কাজল, শরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল, মোঃ আইয়ুব মালী ও ইয়াসিন আরাফাত তৌহিদ সানাকে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার দিয়ে আত্মরক্ষায় পালিয়ে তৌহিদ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে আসতেই মাটিতে পড়ে যায়। এসময় ইউপি সদস্য হামিদ গাজীসহ অন্যরা তাকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। পরে তাকে খুলনায় নেওয়া হলে ৪ এপ্রিল বিকালে মারা যান তৌহিদ সানা। তিনি আরও বলেন, মারপিট করার সময় আসামী আরিফুল ইসলাম কাজল তার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে বলে, ‘তুই খবর দেওয়ায় পুলিশ আমাকে মাদক মামলায় ধরে নিয়ে যায়। এই মামলা থেকে বাঁচতে আমার ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে’।
শামিমা সুলতানা আরও বলেন তার ভাই তৌহিদ সানার বিরুদ্ধেও একটি মাদক মামলা ছিল। এই মামলায় জামিন নিয়ে বাড়ি ফিরতেই একই দিনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ সংক্রান্ত মামলার ছয় আসামী এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না।
তাকে গ্রেফতার না করা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার সিআইডি পরিদর্শক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন আমরা আসামী ধরার চেষ্টা করছি। শুনেছি ঈদের সময় ওরা বাড়ি এসেছিল। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আবারও অভিযান চালানো হবে।

পাইকগাছায় যাতায়াতের পথে গর্ত খুড়ে রেখেছে প্রতিপক্ষ, থানায় অভিযোগ

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় যাতায়াতের পথে প্রতিপক্ষ শরিকরা বিশাল গর্ত খুড়ে রাখায় দূর্ভোগে পড়েছে ৩টি পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির নগর শ্রীরামপুর গ্রামের মালো পাড়ায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছার নগর শ্রীরামপুর মৌজার ৩৪ খতিয়ানের ৩৫ নং দাগে ৩৬ শতক জমিতে দেবব্রত বিশ্বাস, রবীন্দ্র নাথ বিশ্বাস, শম্ভু বিশ্বাস ও তাদের কাকা পরিমল বিশ্বাসের পরিবার দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছে। তবে পরিমল বিশ্বাসের সাথে উক্ত জমি নিয়ে তার ভাইপো রবীন্দ্র, দেবব্রত ও শম্ভু বিশ্বাসের দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিমল বিশ্বাস ও তার ছেলেরা ২৮ মে’১৯ সকাল ১০টায় পাঁকা ঘর নির্মান করবে বলে দ্ইু ঘরের মাঝখান দিয়ে চলাচলের পথ জুড়ে কেটে গর্ত তৈরী করে। এ সময় দেবব্রত বিশ্বাস বাধা দিলে বিবাদীগন তাদের মারতে উদ্যত হয়। এ ঘটনায় ঐ দিন বিকালে দেবব্রত বিশ্বাস বাদী হয়ে পরিমল বিশ্বাসের ৩ পুত্র জগন্নাথ বিশ্বাস, সুব্রত বিশ্বাস ও মেঘনাথ বিশ্বাসের নামে থানায় অভিযোগ করেছে।
আরো জানা গেছে, জমি নিয়ে শরিকের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও উক্ত সম্পত্তি একই এলাকার শহিদ হাজরা ও তার পুত্র আফজাল হাজরা ক্রয় করেছে বলে কিছু অংশ দখল করে আইচ ফ্যাক্টরি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এ ঘটনায় ২০১৪ সালে রবীন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ঠাকুর দাশ বিশ্বাস ও গুরুচরণ বিশ্বাস বাদী হয়ে জেলা খুলনার যুগ্ম জেলা জজ চতুর্থ আদালতে দুলাল বিশ্বাস, পরিমল বিশ্বাস, শহিদ হাজরা, আফজাল হাজরা, বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের নামে বাটোয়ারা মামলা করেন। মামলা নং-দেঃ ৮৯/২০১৪। মামলা করার পর থেকে শহিদ হাজরা গংরা মালোদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে। বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলে রবীন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল শাহিদা হাজরা ও স্বামী শহিদ হাজরা রবীন্দ্র নাথ বিশ্বাসের বাড়ীতে ঢুকে উচ্ছেদ, ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করায় ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল রবীন্দ্র শাহিদা ও শহিদের নামে থানায় জিডি করেন যার নং-১৮০/১৮। তাছাড়া ২০১৭ সালে আফজাল গংরা মেইন মালো পাড়ার যাতায়াতের পথে তিনটি স্থানে লোহার গেট গ্রিল দিয়ে পথ আটকে রাখে। এতে ৫/৭ টি পরিবার প্রতিদিন ১০/১২ ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকত। এ ঘটনায় একাধিক স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় “পাইকগাছায় যাতায়াতের পথ নিয়ে বিপাকে কয়েকটি পরিবার” প্রতি দিন ১০ ঘন্টা শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়েছিল। ভুক্তভোগী পরিবার ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ গেট উঠিয়ে দিলে তারা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পায়।
এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ওসি ইমদাদুল হক শেখ জানান, অভিযোগ হয়েছে, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির এস,আই বাবুলকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ চলাচলের পথ বদ্ধ করতে পারে না। তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে দেবব্রত বিশ্বাস ও রবীন্দ্র বিশ্বাস জানান, কপিলমুনি ফাঁড়ির এস,আই বাবুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করেছেন। তবে কাজ বন্ধ করতে থাকলেও পথ জুড়ে বিশাল গর্ত তৈরী করে রাখায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পথ না থাকায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে ৩টি অসহায় পরিবার। রাস্তা জুড়ে গর্তে পানি থাকায় কাদা মাটিতে ভিজে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে এস,আই বাবুল জানান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে বসাবসির দিন নির্ধারণ করা হলেও বিবাদীরা সময় নেওয়ায় তদন্তের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

ভালবাসতে চাই……(প্রিয় সাতক্ষীরাবাসীকে উৎসর্গকৃত)

শেখ মফিজুর রহমান
আমি যখন একাকী নিরালয় বসে থাকি
শুনতে পাই যেন হাজারো কন্ঠস্বর
লক্ষ কোটি হাত বাড়িয়ে যেন বলছে,
সাহায্য করো, সহানুভুতি দাও।
তাদের কেউ ক্ষুধার্ত, কেউ বা পীড়িত
কারো ঘর নেই কেউ বা যুদ্ধ বিধ্বস্ত।

এই অদেখা কন্ঠস্বর কেড়েছে কত না রাতের ঘুম
মনের শান্তি, মানসিক স্থিরতা
কিন্ত এই ছোট্ট আমি কী করতে পারি।
অঢেল সম্পদ নেই যে ঢেলে দেব,
অসীম ক্ষমতা নেই যে রোধ করবো সব অপশক্তি
আছে শুধু একটি সহানুভুতিশীল হৃদয়
আর হৃদয় সরোবরে টলমল করা ভালোবাসা….
এই ভালোবাসা হয়তো হাজারো পেটে
ক্ষুধার অন্ন দেবে না কিন্ত যে একজন ক্ষুধার জঠরে
জ্বলছে আমার পাশে, তাকেতো পরিত্রাণ দেবে!

এই ভালোবাসা হয়তো সবাইকে স্পর্শ করতে পারবে না
কিন্ত যে আমার পাশে আছে তাকে দেবে স্বস্তির উৎস!
এই ভালোবাসা হয়তো থামাতে পারবে না সব অন্যায়
দুর করতে পাবে না সব অন্ধকার
কিন্ত আমার কাছে আসলে উপড়ে ফেলবো
অন্যায়ের দন্ত শিখর
আমি যে আলো ছড়াতে চাই যতদুর যায়!

আমার হৃদয়ের টুইটুম্বর ভালোবাসার শক্তিতে বলছি
আমি তোমাদের পাশে থাকতে চাই
আমি তোমাদের কাজে আসতে চাই
আমি শুধু তোমাদের ভালোবাসতে চাই

নাই বা থাকলো আমার সম্পদের প্রাচুর্য
চোখে ভেলকি লাগানো ক্ষমতার দাপট
আমার ভালোবাসায় যদি ফোটে এক চিলতে হাসি,
কোনো ঘর্মাক্ত মুখ যদি ¯িœগ্ধ হয়ে উঠে
কোনো কর্মঠ শক্ত হাত যদি উঠে আসে আমার জন্য

প্রার্থনায়Ñ
তবেই আমি সফল, তবেই আমি অসীম ক্ষমতাবান।

বন্ধু আমি ক্ষমতার স্বাধ নিতে আসেনি,
ভালোবাসতে এসেছি-
আমি তোমাদের পাশে থাকতে চাই
আমি তোমাদের ভালোবাসতে চাই……
লেখক: জেলা ও দায়রা জজ, সাতক্ষীরা।

কালিগঞ্জে এক’শ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে এক’শ গ্রাম গাঁজাসহ কেশব সরকার (৫০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। সে উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের থালনা গ্রামের মৃত অনন্ত সরকারের ছেলে। থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক লিটন হোসেন জানান, সোমবার (১০ জুন) বেলা ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক বিজয় কুমার মজুমদারের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসায়ী কেশব সরদারের বাড়িতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় এক’শ গ্রাম গাঁজাসহ কেশব সরকারকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেন জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এব্যাপারে থানায় একটি মামলা হয়েছে (মামলা নং-০৬, তারিখ-১০/০৬/১৯)।

কুলিয়ায় ঘূর্ণীঝড় ফণীতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে ঘূর্ণিীঝড় ফণির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে দ্বিতীয় বরাদ্দের চাল বিতরণ। গতকাল সকাল ১০ টায় কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্থ পাঁচ শতাধিক পরিবারের মাঝে ডিজিটাল পরিমাপক মেশিনের মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণের উদ্বোধন করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য গোলাম রব্বানী, অচিন্ত মন্ডল, প্রেম সরকার, ভরত চন্দ্র, বিকাশ সরকার, সদস্যা শিরিনা খাতুন, ফতেমা খাতুন, শ্যামলী রাণী, ইউপি সচিব খালিদ হাসান খাঁন প্রমুখ।