আশাশুনির মুক্তিযোদ্ধা সন্তান তৌহিদ সানা খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়নি কেউ


প্রকাশিত : জুন ১২, ২০১৯ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: আশাশুনির বড়দলে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তৌহিদ সানা হত্যার আসামীরা গত এক মাসেরও বেশী সময়ে ধরা পড়েনি। তারা গ্রামজুড়ে দাপিয়ে বেড়ালেও পুলিশ বলছে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে তৌহিদ সানার বোন শামিমা সুলতানা অভিযোগ করে বলেন উল্টো আসামীরা তাদের পরিবারকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।
গত ১ এপ্রিল মাদক বেচাকেনা সংক্রান্ত বিরোধের জের হিসেবে ছয় জন সন্ত্রাসী তৌহিদ সানা (৪৫) কে গরান কাঠ ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার ৪দিন পর সে মারা যায়। এ ব্যাপারে আশাশুনি থানায় একটি মামলা করা হয় ছয় জনের বিরুদ্ধে।
তার বোন শামিমা সুলতানা জানান বড়দল গ্রামের ইসলামুল হক টুটুল নামে এক মাদকাসক্ত যুবক তৌহিদ সানাকে গত ১ এপ্রিল তাদের ঘেরের বাসায় ডেকে পাঠায়। সেখানে উপস্থিত অন্যান্যদের উদ্দেশ্য করে বলে ‘আমি তৌহিদ সানাকে ডেকে এনেছি, তোরা যা পারিস কর’। একথা বলার পরপরই তার সহায়তায় বুড়িয়া গ্রামের নাহিদ বাবু, বড়দল গ্রামের আরিফুল ইসলাম কাজল, শরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল, মোঃ আইয়ুব মালী ও ইয়াসিন আরাফাত তৌহিদ সানাকে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকে। চিৎকার দিয়ে আত্মরক্ষায় পালিয়ে তৌহিদ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির কাছে আসতেই মাটিতে পড়ে যায়। এসময় ইউপি সদস্য হামিদ গাজীসহ অন্যরা তাকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। পরে তাকে খুলনায় নেওয়া হলে ৪ এপ্রিল বিকালে মারা যান তৌহিদ সানা। তিনি আরও বলেন, মারপিট করার সময় আসামী আরিফুল ইসলাম কাজল তার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে বলে, ‘তুই খবর দেওয়ায় পুলিশ আমাকে মাদক মামলায় ধরে নিয়ে যায়। এই মামলা থেকে বাঁচতে আমার ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে’।
শামিমা সুলতানা আরও বলেন তার ভাই তৌহিদ সানার বিরুদ্ধেও একটি মাদক মামলা ছিল। এই মামলায় জামিন নিয়ে বাড়ি ফিরতেই একই দিনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ সংক্রান্ত মামলার ছয় আসামী এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অথচ পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না।
তাকে গ্রেফতার না করা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার সিআইডি পরিদর্শক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন আমরা আসামী ধরার চেষ্টা করছি। শুনেছি ঈদের সময় ওরা বাড়ি এসেছিল। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আবারও অভিযান চালানো হবে।