দেবহাটার সুবর্ণাবাদে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের অর্থ বানিজ্য


প্রকাশিত : জুন ১৩, ২০১৯ ||

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটার সুবর্ণাবাদে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অংকের অর্থ বানিজ্য। লম্পট তুহিনের পরিবরের ভয়ে বাড়িছাড়া ভূক্তভোগীর পরিবার। বুধবার বিকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়ামিন আলী মোড়লের মধ্যস্থতায় এ দফারফা সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার সূবর্ণাবাদে দিন দুপুরে হিন্দু পরিবারের এক গৃহবধুকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হয়েছে ঐ প্রভাবশালী পরিবারের ধনীর দুলাল। ভূক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানায়, গত ঈদ-উল ফিতরের পর দিন প্রতিবেশী শাহাবুদ্দিনের বাড়ির ভিতরের পুকুরে প্রতিদিনের ন্যায় ভূক্তভোগী গৃহবধু গোসলের জন্য যায়। এসময় শাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় লম্পট পুত্র ওমর ফারুক তুহিন ঐ ২ সন্তানের জননীকে পেছন থেকে গামছা দিয়ে মুখ ও চোখ বেধে ফেলে। এমনকি জোরপূর্বক তাকে মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ঐ গৃহবধুর সাথে থাকা তার কন্যা শিশু ঘটনা দেখে ভয়ে আত্মচিৎকার করে। শিশুর মা তাকে মারছে ভেবে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দেখতে পায় ওমর ফারুক তুহিন পুকুরপাড়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরে ঐ নারীর স্বামী আসলে ওমর ফারুক তুহিন তার সাথে ঝগড়াঝাঁটি শুরু করে। ধর্ষণের চেষ্টাকারীর পরিবার প্রভাবশালী ও তাদের আসে পাশে আর কোন হিন্দু পরিবার না থাকায় সব কিছু মাথা পেতে মেনে নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। এরপর প্রভাবশালীদের চাপের মুখে পড়ে লোকলজ্জা ভয়ে আইনের আশ্রয়ে আসতে পারেনি তারা। বর্তমানে তারা আতঙ্কে সময় পার করছে। তবে ঐ নারীর শ^শুর দেশে ফেরার পর আইনের সহযোগীতা চাইবেন বলেও জানিয়েছে। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে লম্পট তুহিনকে ঐদিনই বাড়ি থেকে কৌশলে এক আত্মীয়র বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে পরিবার। ওমর ফারুক তুহিনের পিতা শাহাবুদ্দিন আলী জানান, ঘটনার দিন আমরা বাড়িতে ছিলাম না। বাড়িতে এসে লোক মুখে শুনেছি। সম্মানের ভয়ে তুহিনকে তার মামার বাড়িতে পাঠানো হয়েছে বলে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছে ফোন করে সংবাদকর্মীরা যাতে সংবাদ পরিবেশন করতে না পারে সে ব্যাপারে উদ্দ্যত হয়। এদিকে ঐ প্রভাবশালী পরিবারের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভিটে ছেড়ে পালিয়ে বেড়চ্ছে ভিক্টিমের পরিবার। দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, এধরনের ঘটনার বিচাররের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।