সাংবাদিকদের স্মরণ সভায় বক্তারা আলাউদ্দিন হত্যা ও প্রেসক্লাবে হামলা অভিন্ন ঘটনা: বিচার হবেই


প্রকাশিত : জুন ২০, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: বিন¤্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় স্মরিত হলেন সাতক্ষীরার দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক শহিদ সম আলাউদ্দিন। ২৩ তম শাহাদাত বার্ষিক উপলক্ষে বুধবার নানা কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরিত হন তিনি। এ সময় তার শুভাকাংখীরা আলাউদ্দিন হত্যার বিচার কাজ ত্বরান্বিত করারও দাবি জানান।
বুধবার সকালে সম আলাউদ্দিনের পৈতৃক ভিটা পাটকেলঘাটার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়িতে কবর জিয়ারত করেন শুভাকাংঙ্খিরা। তারা তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ আবু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপীর নেতৃত্বে সাংবাদিকরা প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কবরে পুষ্প স্তবক অর্পন করেন। এ সময় দোয়া করেন মো. আনছার আলি। এরপরই সেখানে একইভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তালা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, কৃষক লীগ সভাপতি বিশ্বজিত সাধু, আলাউদ্দিন স্মৃতি সংসদের পক্ষে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মইনুল ইসলাম ও তার রজনৈতিক সহকর্মীরা। এরআগে বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানান তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে নেতা নেত্রী ও প্রতিনিধিরা শহিদ আলাউদ্দিনের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
মাজারে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন শেষে বেলা ১১ টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ। সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহমেদ বাপীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সমাবেশে বক্তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন আলাউদ্দিন হত্যার বিচার হতেই হবে। খুনি গডফাদাররা যত চেষ্টাই করুক বিচার তাদের হবেই। ১৯৯৬ এর ১৯ জুন হত্যার পর ২৩ বছর পার হয়ে গেলেও আলাউদ্দিন হত্যার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন আজ হোক কাল হোক বিচারিক আদালত ছাড়াও জনতার আদালতে বিচার তাদের হবেই। সারাজীবন ঘাতকদের পরিচয় হয়ে থাকবে আলাউদ্দিনের খুনি।

 


১৯৯৬ এর ১৯ জুন রাতে তিনি যখন দৈনিক পত্রদূত অফিসে বসে বিটিভিতে নির্বাচনের খবর দেখছিলেন ঠিক তখনই ঘাতকদের বুলেট তার মস্তক ভেদ করে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন এ সময় খুনিদের গতিবিধি সাক্ষীরা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। কিন্তু নানা ফন্দিফিকির ব্যবহার করে আলাউদ্দিন হত্যার বিচার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তারা আরও বলেন এতো বড় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা উচ্চ আদালত থেকে কোয়াশমেন্ট হওয়ায় কার্যতঃ তা খুনিদের জন্য সহায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তারা বলেন আলাউদ্দিন হত্যার পরবর্তী সংস্করণ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলা। বক্তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে যতো হামলাই হোক তাই বলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব কখনও রবি মার্কা হবে না। ৩০ মে প্রেসক্লাবে নগ্ন হামলা করার পরও তারা নগরঘাটার মাগফুর ও কলেজের জিয়া হলের সামনের মেসে রেজাউল নামের দুই সাংবাদিককে সেদিনের হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে মারপিট করেছে। তারা বলেন ৩০ মে হামলাকারীরা আলাউদ্দিনের মত আরও সাংবাদিক হত্যার মিশন নিয়ে প্রেসক্লাবে এসেছিল। এ সময় ও এর পরে সংঘটিত কোনো ঘটনাকে ছোট করে না দেখারও আহবান জানানো হয়। রবির নাম উচ্চারণ করে তারা বলেন তিনি ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এখন বাস টার্মিনাল দখল, মুক্তিযোদ্ধা ভবন দখল, রেড ক্রিসেন্টের সামনের জমি ডিসিআরের নামে দখল, ভোমরা পোর্ট দখল, মিডিয়া দখল, চেম্বার অব কমার্স দখল এমনকি প্রেসক্লাব দখলের স্বপ্ন দেখছেন। এরই মধ্যে তিনি ভালুকা চাঁদপুর কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাশকতার আসামি বিএনপি জামায়াত ক্যাডারকে নিয়োগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলুন্ঠিত করার ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। প্রেসক্লাবে হামলার সময় আলাউদ্দিনের খুনি পরিবারের সদস্য সাঈদ অস্ত্রসহ ঘোরাফেরা করে মহড়া দিয়েছে ও নানাভাবে আস্ফালন করেছে জানিয়ে আলোচকরা আরও বলেন সেদিনের হামলা ছিল পরিকল্পিত। কাছেই রেখে দেওয়া হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি শহিদ রাজ্জাক পার্কে কিছু সন্ত্রাসী ক্যাডার রেখে দেওয়া হয়। সেখানে একটি কালো গাড়িতে অস্ত্রসহ বসেছিল একজন চিহ্ণিত আর্মস ক্যাডার। রবির দুই সহোদরও হামলাকারীদের সাথে ছিল। বক্তারা আলাউদ্দিন হত্যার বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবি জানান। দ্রুত বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তারা। হত্যার ২৩ বছর পরও বিচার না হওয়ায় ঘাতকরা আরও লাশ দেখার লক্ষ্যে প্রেসক্লাবে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। আলাউদ্দিন সাহেবকে প্রতিহত করতে কুচক্রী মহল বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে হত্যা করে তাদের মনের ঝাল মেটানোর চেষ্টা করেছে ঘাতকরা। শহিদ আলাউদ্দিন ছিলেন যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। বক্তারা বলেন খুনিদের প্রতিহত করতে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শয়তানের পরাজয় একদিন হবেই। তার জন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে। খুনিরা রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বিচার বাধাগ্রস্থ করছে। এই হত্যার বিচার দাবিতে বারবার কর্মসূচি দিতে হবে। হত্যার বিচার না হলে তাদের আস্ফালন বেড়ে যবে তারা আবারও ষড়যন্ত্র করবে। আলাউদ্দিনের খুনি গডফাদার ও তাদের সুবিধাভোগী সঙ্গিদের প্রতিহত করতে হবে। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। আলাউদ্দিন হত্যাকারীদের দোসর ও প্রেসক্লাবে হামলাকারীরা এক ও অভিন্ন পথে হাঁটছে উল্লেখ করে তারা বলেন তাদের প্রতিহত করতে সব্ইাকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
দীর্ঘ স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুভাষ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আনিসুর রহিম, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সহ-সভাপতি কালিদাস রায়, সাপ্তাহিক সূর্যের আলো সম্পাদক ওয়ারেশ খান চৌধুরী পল্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সেলিম রেজা মুকুল, আশাশুনির ভাইস চেয়ারম্যান ও মানবকন্ঠের অসীম বরণ চক্রবর্তী, আমাদের অর্থনীতির শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম সরোয়ার, প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবদুল জলিল, ডিবিসি টিভির এম জিল্লুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, বাংলাভিশন টিভির মো. আসাদুজ্জামান, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সামাদ, কালের চিত্রর আশরাফুল ইসলাম খোকন, সাংবাদিক শফিউল ইসলাম খান প্রমূখ ।
বক্তারা প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন ‘তোমার দৈহিক অবয়ব মুছে গেছে। তোমার স্মৃতিগুলি অম্লান রয়ে গেছে’। এই স্মৃতিকে ধরে রেখে সাতক্ষীরাবাসী হত্যার বিচার আদায় করবেই করবে।