সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের রোগীরা দালালের ছোবলে নাজেহাল


প্রকাশিত : June 24, 2019 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: দালাল ও প্রতারক চক্রের ছোবলে পড়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানীর শিকার হচ্ছে দুর-দুরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগীরা। এসব দালালের উৎপাতে গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল গরীব মানুষ যারা হাসপাতালের সেবার উপর নির্ভরশীল তাদের ভোগান্তি এখন চরমে।
সরেজমিনে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আনেক দালাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিকের পোষা এসব দালালের কারণে সরকারি এই হাসপাতাল থেকে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। জেলা শহরের খুলনা রোড মোড়, বাস টার্মিনালসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় শতশত বেসরকারি ক্লিনিক গড়ে ওঠেছে। এসব ক্লিনিকের দালালদের প্ররোচনায় নি:স্ব হচ্ছেন সদর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
তাছাড়া অধিক সুযোগের আশায় বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সাতক্ষীরা মেডিকেলে চলে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালটিতে বেশিরভাগ ডাক্তারের পদ শুন্য। বিভিন্ন বিভাগে ডাক্তার না থাকায় এর সুযোগ গ্রহণ করছে দালালরা। সদর হাসপাতালের আশেপাশে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে কমিশনভিত্তিক কাজ করে এসব দালাল। উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে রোগীদের ভর্তি ফি থেকে শুরু করে রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফি থেকে কমিশন পান দালালরা। আর এসব কাজে সহযোগিতা করেন খোদ হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা, এদের মধ্যে একজন হলেন ডা. আসাদুজ্জমান শিমুল তার কাছে যে রোগীগুলো যায় তাদের তিনি এক্সরে, সিটি স্ক্যান, প্যাথলোজিসহ নানা টেস্টের জন্য ‘ডক্টরস ল্যাবে’ পাঠিয়ে দেন এবং সেখান থেকে মোটা অংকের কমিশন পান। এছাড়া হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকই হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার সময়ে বেসরকারি ক্লিনিকে বসে রোগী দেখেন। দুপুর ১টার পর কোনো চিকিৎসকেরই দেখা মিলে না সদর হাসপাতালে।
হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, সদর হাসপাতালের বেশিরভাগ চিকিৎসক হাসপাতালে ঠিকমতো না বসে বেসরকারি ক্লিনিকে বসে রোগী দেখেন। বর্তমানে কিছু অসাধু হাসপাতালের কর্মকর্তা কমিশনে সিটি স্ক্যান, প্যাথলজি,এক্সরে ইত্যাদির টেস্ট করানোর জন্য দালালদের সহায়তা করছে ফলে হাসপাতালের সেবার উপর নির্ভরশীল মানুষ এখন চরম হতাশ হয়ে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয় সম্পর্কে ডা. আসাদুজ্জমান শিমুল বলেন, আমার কোন টেস্ট সন্দেহ হলে সেটা রিপোর্ট করার জন্য বাইরের ক্লিনিকে পাঠায়।
এ সম্পর্কে সিভিল সার্জন রফিকুল আলম বলেন, আমি হাসপাতালের সকল ডাক্তারকে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি যেন কোন ডাক্তার আমাদের যে টে¯টগুলো হাসপাতালে আছে সে টেস্ট কোন রোগীকে বাইরের ক্লিনিকে না করতে বলে। আমি বিষয়টি এখন জানলাম এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।