ডা. রুহুল হক জেলার প্রান্তিক জনগোষ্টির সেবা প্রদানের যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন তা যেন অব্যাহত থাকে: রাজনৈতিক ও নাগরিক নেতৃবৃন্দ


প্রকাশিত : জুন ২৭, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: একটানা তিন দফায় আওয়ামী লীগ সরকারের দেশ পরিচালনায় জাতি এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। সেই সাথে সাতক্ষীরাও উন্নয়নে যতেষ্ট এগিয়ে। এর পেছনে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার ৪ জন এমপি। তবে জেলার ২২ লাখ মানুষের অভিভাবক হিসেবে ডা. আ ফ ম রুহুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালিন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে আমুল পরিবর্তন আসে। এমনকি মন্ত্রিত্বের বাইরে থেকেও তিনি জেলার প্রান্তিক জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
ডা. রুহুল হকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালকে ২৫০ বেডে উন্নীতকরণ, জেলাবাসীর কোনদিন স্বপ্নও ছিলনা তার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল একই সাথে কালিগঞ্জের নলতায় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজী (আইএইচটি) ও মেডিক্যাল এ্যাসিসট্যান্ড ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নামক দুটি প্রতিষ্ঠান দৃশ্যমান। যা সারাদেশের মধ্যে ৮টি জেলায় এই প্রতিষ্ঠান তৈরি হলেও শুধুমাত্র সাতক্ষীরায় ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। কিন্তু কতিপয় দুষ্ট চক্র এসব উন্নয়নকে ম্লান করতে তৎপর। ফলে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে চলছে যেন নৈরাজ্য।
এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে দৈনিক পত্রদূতের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে। এসমস্ত সামাজিক ব্যক্তিগণ দিয়েছেন নানা পরামর্শ। পর্যায়ক্রমে তা তুলে ধরা হল।
জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজহার হোসেন: সমৃদ্ধশীল জেলা সাতক্ষীরা বৈদেশিক মুদ্র অর্জনে প্রথম সারির জেলা। এখানে চিংড়ি, আম, মাটির টাইলস ও সুন্দরবন উল্লেখ যোগ্য। ভোমরা বন্দর দিয়ে রাজস্ব আয়ে টার্গেট অত্রিক্রমও করে। সম্ভাবনাময় এই জেলা বাজেট বরাদ্দে বরাবরই বিমাতাসুলভ আচরণের মধ্যে পড়ে। এক সময় বস্ত্রমন্ত্রী এম মুনসুর আলী সাতক্ষীরার মানুষ ছিলেন বলে দেশের মধ্যে বড় একটি বস্ত্র মিল সাতক্ষীরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সঠিক পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণের কারণে মিলটি আজ বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমান সরকারের আমলে ডা. আ ফ ম রুহুল হক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন বলে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে। হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে আরও অনেক পরিবর্তন। জেলার জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তিনিই পারেন জেলার স্বাস্থ্য খাতে যা হচ্ছে তা সকলকে সঙ্গে নিয়ে এর সমাধান করতে। অতি দ্রুত এর সমাধান করে জেলাবাসীকে দায়মুক্ত করার আহবান জানান তিনি।
নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সাতক্ষীরার আহবায়ক এড. ফাহিমুল হক কিসলু: জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে উন্নয়নও হয়েছে, অব্যবস্থাপনাও রয়েছে। এরসাথে কিছু দুষ্ট চক্রের জন্ম হয়েছে। ফলে আমরা নাগরিকরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। তিনি বলেন, ডা. রুহুল হক মন্ত্রির দায়িত্বে থাকায় জেলায় স্বাস্থ্য খাতের গুণগত যে পরিবর্তন হয়েছে তা অভাবনীয়। সে উন্নয়ন ধরে রাখতে ডা. রুহুল হকসহ সকল জনপ্রতিনিধি একত্রিত হয়ে এখাতে নিয়মিত নজর রাখলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি। ফাহিমুল হক কিসলু আরও বলেন, আমরা রেল লাইনের স্বপ্ন দেখি, জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বপ্ন দেখি, প্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখি, আধুনিক সাতক্ষীরার যে স্বপ্ন আমরা দেখি সেসব বাস্তবায়ন করতে ডা. রুহুল হকের নেতৃত্বে সকল জনপ্রতিনিধির এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
সাতক্ষীরা নাগরিক কমিটির আহবায়ক আনিসুর রহিম: ডা. রুহুল হক স্বল্প সময়ে সাতক্ষীরাকে উন্নয়নের যে জায়গায় নিয়ে গেছেন এবং সেই জায়গা ধরে রাখতে তাকে কঠোর হতে হবে। আমরা সাতক্ষীরাবাসী অতীতেও তার সাথে ছিলাম, এখনও আছি এবং আগামীতেও থাকবো। সুতরাং তিনি শক্ত হাতে হাল না ধরলে সম্মান বাচানো দুস্কর হয়ে পড়বে-এমনটি মনে করেন তিনি।
দেবহাটা রূপসী ম্যানগ্রোভকে নান্দনিকরণে চলছে কাজ
আকতার হোসেন ডাবলু, দেবহাটা: দেবহাটার রুপসী ম্যানগ্রোভ পিকনিক স্পটটি প্রশাসনের পৃষ্টপোষকতায় ইতিমধ্যে অন্যতম একটি বিনোদন কেন্দ্র রুপে রুপ ধারন করেছে। কেন্দ্রটিকে আরো নান্দনিক ও নয়নাভিরাম করে একটি সৌন্দর্যপূর্নভাবে মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য গড়ে তুলতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অনেক কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এই ম্যানগ্রোভটি ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন পদক ২০১৯ এর জন্য প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছে। শুক্রবার এই পদকে নাম চুড়ান্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব (পিএসিসি) ড. মো. হুমায়ুন কবীর এই ম্যানগ্রোভটি পর্যবেক্ষনে আসছেন। তাই ম্যানগ্রোভটির চলমান উন্নয়ন কাজ আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এই উন্নয়ন কাজগুলো সার্বক্ষনিক তদারকি করছেন। ভারত-বাংলাদেশ বিভাজনকারী ইছামতি নদীর কুল ঘেষে দেবহাটা উপজেলার শীবনগর গ্রামে গত কয়েক বছর আগে মানুষের চিত্ত বিনোদনের লক্ষ্যে দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সুন্দরবনের আদলে গড়ে তোলা হয় ‘রুপসী ম্যানেগ্রাভ’ বিনোদন কেন্দ্র। এখানে সুন্দরবন থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এনে রোপন করা হয়, খনন করা হয় একটি দিঘী, তৈরী করা হয় একটি রেস্ট হাউজ। সেসময় থেকে এখানে দুর দুরান্ত থেকে সাধারন মানুষ সহ প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তারা আসেন কিছুটা শান্তির পরশ নিতে। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই দর্শনার্থী ও ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে অপরূপ সৌন্দর্যের তীর্থভূমি রূপসী দেবহাটার ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সব বয়সী হাজারো দর্শণার্থীরা চিত্ত বিনোদনের তৃষ্ণা মেটাতে স্বপরিবারে ভিড় জমাচ্ছেন এখানে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আর সবুজের সমারোহে সুন্দরবনের আদলে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বনটির অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখতে কেউ কেউ পরিবার পরিজনদের নিয়ে আবার কেউবা মেতে উঠছেন সেলফিতে। পাশাপাশি কৃত্রিম সব জীবজন্তু, খেলনা সামগ্রীসহ নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত এ পর্যটন কেন্দ্রটিতে পরিবারের সাথে আনন্দে মেতে উঠছে শিশুরাও। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এই পিকনিক স্পটটি আরো সুন্দর করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহনের কথা জানিয়ে বলেন, প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে রয়েছে। তাই এটিকে আরো নান্দনিক ও সৌন্দর্যপূর্ণ করতে ইতিমধ্যে ২০ কোটির বেশি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে জানিয়ে ইউএনও বলেন, খুব তাড়াতাড়ি উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্প থেকে এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাম স্মরণে একটি গেট নির্মান, আরসিসি ঢালাই রাস্তা ও সিসি ঢালাই রাস্তা নির্মান, দিঘীর উপরে ট্রেইল নির্মান ও মিনি চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে বলে ইউএনও জানান। পর্যটন কেন্দ্রটির ম্যানেজার দিপঙ্কর কুমার ঘোষ জানান, রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটির রুপকে আরো নান্দনিক ও সৌন্দর্যমন্ডিত করতে প্রতিদিনই এখানে কাজ করতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদারকিতে সকল ধরনের উন্নয়ন কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, রুপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি দেবহাটা উপজেলার শিবনগর মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৩৯৮ নং দাগের ইছামতি নদীর তীরে জেগে ওঠা চরভূমি। যার আয়তন ৩১.৪৬ একর (০৭ একর পুকুরসহ)। দেবহাটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ম্যানগ্রোভ বন সাতক্ষীরা জেলার বর্তমানে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।