সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার ‘ছুটির ঘন্টা’!


প্রকাশিত : June 28, 2019 ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার ‘ছুটির ঘন্টা’ কান্ড ঘটেছে। এক ব্যক্তিকে তালাবদ্ধ রেখে দায়িত্বরতরা বেলা ২টার আগেই চলে গেছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সাংবাদিক সরদার জিল্লুর রহমান। বেলা আড়াইটার দিকে টয়লেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ভবনের নিচতলার টয়লেটগুলোর সামনে গিয়ে দেখেন-‘পুরুষ’ লেখা টয়লেটটির দরজা তালাবদ্ধ। ‘মহিলা’ লেখা টয়লেটটির তালাবদ্ধ দরজার সামনে টেবিল ও ভাঙা চেয়ার দিয়ে আপাতত স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অগত্যা টয়লেটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ২য় তলায় উঠলেন। ২য় তলার পশ্চিমপাশের অংশের টয়লেটগুলো অনুরূপভাবে তালাবদ্ধ। গেলেন পূর্ব পাশের অংশে। যেয়েই তো গেলেন চমকে। তালাবদ্ধ কলাপসিবল গেটের ভিতরে ৩০/৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বসে আছেন হতবিহবল হয়ে। চোখে-মুখে তার আতংকের ছাপ। তিনি ওঠে এসে জানালেন ‘টয়লেটে গিয়ে আটকা পড়েছেন। অনেকক্ষণ উচ্চস্বরে চেচামেচি করেও কাউকে ডাকতে পারেননি। তিনি সাংবাদিককে জানান, আমাকে এখান থেকে বের করুন।’
তিনি জানালেন, তার নাম আব্দুল জব্বার, বাড়ি যশোরে। পেশায় ট্রাক ড্রাইভার। যশোরের নওয়াপাড়া থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজের জন্য ট্রাকে করে সিমেন্ট নিয়ে সেখানে এসেছেন। টয়লেটে যাওয়ার জন্য সেখানে গিয়ে ভবনের নিচতলার টয়লেট তালাবদ্ধ থাকায় ২য় তলায় ওঠে পূর্বপাশের অংশের টয়লেটে যান। তখন বেলা পৌনে ২টা। টয়লেট থেকে বেরিয়ে দেখেন বাইরের কলপসিবল গেট তালা মারা। উচ্চস্বরে ডাকাডাকি করেও কারো সাড়া পাননি।
প্রসঙ্গত, সাংবাদিক সরদার জিল্লুরকে দেখে তার কাছে সাহায্যের জন্য বললেন। তখন নিজের টয়লেটের প্রয়োজন হাওয়ায় উড়ে গেছে জিল্লুরের। তিনি নিচে এসে অনেকক্ষণ খোঁজাখুজির পর দু’জন সিকিউরিটি গার্ডকে পেলেন। তাদেরকে ডেকে ভবনের ২য় তলায় নিয়ে গেলে সিকিউরিটি গার্ডরা জানালেন যে, গেটের তালার চাবি যার কাছে তিনি চাবি নিয়ে তার বাড়ি ঘোনা-কাথন্ডায় চলে গেছেন। জানালেন তার আসতে ঘন্টা দুয়েক সময় লাগবে। ওদিকে ছটফট করছেন ভিতরে আটকা পড়া ব্যক্তি। অনুরোধ করলেন তালা ভাঙার। কিন্তু সিকিউরিটি গার্ডরা তালা ভাঙতে অস্বীকার জানালেন। এভাবে ঘড়ির কাটা পৌছে গেলো প্রায় সাড়ে ৩টায়। অন্যজরুরী কাজের জন্য চলে আসতে হলো সরদার জিল্লুরকে। নিজের টয়লেট সারতেও পারলেন না উপরন্তু তখন পর্যন্ত ‘ছুটির ঘন্টা’ ছায়াছবির সেই শিশুর মতো আটকা পড়ে থাকলেন ওই ব্যক্তি। অবশ্য প্রমানস্বরূপ তালাবদ্ধ টয়লেটের ছবি ও তালাবদ্ধ গেটের ভিতরে আটকা পড়া ব্যক্তিটির ভিডিও নিতে ভুল করলেন না তিনি।
সন্ধ্যার দিকে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে ব্যক্তিটি কখন বেরুতে পেরেছিলেন সেই বিষয়ে জানতে চাইলে সেখানকার আরেক দায়িত্বশীল আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না।’