ভাড়–খালিতে জমি নিয়ে বিরোধ প্রতিপক্ষের হামলায় জখম ৫


প্রকাশিত : জুন ২৯, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ভাড়–খালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারিরা কাটা তারের বেড়া দিয়ে জমি দখলে নিয়েছে।
আহতরা হলেন, ভাড়–খালি গ্রামের নিয়ামউদ্দিন সরদারের ছেলে অজিয়ার সরদার (৪৫), তার ভাই মুজিবর রহমান (৫২), আব্দার রহমান (৫৪), তার ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৮) ও একই গ্রামের মোতালেব গাজীর ছেলে গোলাম মেস্তফা (৫০)।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুজিবর রহমান জানান, ২০০৯ সালে তারা চার ভাই একই গ্রামের আব্দুল জলিলের কাছ থেকে ১৫ শতক জমি কেনেন। চারটি দাগের জমি আপোষ সূত্রে আব্দুল জলিল যেভাবে ভোগদখল করতেন সেভাবেই তাদেরকি লিখে দেওয়া হয়। জমি কেনার পর থেকেই তারা ঘরবাড়ি বানিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন।
তিনি আরো জানান, দু’বছর আগে আব্দুর রাজ্জাকসহ জলিলের তিন ভাই ওই চারটি দাগ থেকে সাত শতক জমি বিক্রি করেন একই এলাকার শরিফুলের কাছে। শরিফুল জমি কেনার পর থেকে তাদের জমির মধ্যে কিছু জমি তার রয়েছে দাবি করে দখল দেওয়ার কথা বলেন। রাজী না হওয়ায় তিনি জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বাধ্য হয়ে তিনি (মুজিবর) বাদি হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারার মামলা(পি-৩১৭/১৯) দায়ের করেন। প্রতিবেদন তাদের পক্ষে যাওয়ায় আব্দুল জলিলের ভাই আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন ১২৭৬/১৯ নং মামলা করেন। গত ২৫ জুন উভয়পক্ষকে শান্তিরক্ষার জন্য পুলিশ নোটিশ জারি করে। একইভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার উভয়পক্ষকে পহেলা জুলাই তার অফিসে তদন্তের জন্য নোটিশ করেছেন। এরপরও শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শরিফুল, মধু, সোহাগ, রজব আলী ও মেজবাহউদ্দিনসহ ৩০/৩৫ জন হাতে দা, লাঠি, শাবল ইত্যাদি নিয়ে তাদের জমি দখল করতে আসে। বাধা দেওয়ায় তাদের পাঁচজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে জমি কাটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলে হামলাকারিরা। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পহেলার জুলাই এর আগে জমি দখল করে তহশীলদারকে দেখানোর জন্য তারা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোমা দাস জানান, আহতদের মাথা, বুক, মুখ হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করার চিহ্ন রয়েছে।
জানতে চাইলে শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি যে দাগে জমি কিনেছেন সেই দাগের জমি নিয়ামুদ্দিন সরদারের ছেলেরা দখল করে রেখেছে। তিনি প্রকৃত জমির চিহ্নিত অংশ হিসেবে দখলে নিয়েছেন। এ সময় তিনিও আহত হয়েছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে উপ-পরিদর্শক মহসিন আলীকে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।