জেলা পরিষদ থেকে আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স টাকা নেবে না শর্তে হাইকোর্টে রিটের শুনানীর সময় পেছালো


প্রকাশিত : জুন ২৯, ২০১৯ ||

মনিরুল ইসলাম মনি: সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ থেকে ধুলিহরের আব্দুর রহিম কমপ্লে¬ক্স ও এতিমাখানার বরাদ্দের টাকা না নেওয়ার লিখিত শর্তে আগামি ১৫ জুলাই পর্যন্ত শুনানী স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহামান্য হাইকোর্টের বিচারক গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারক মোহাম্মদ উল্লাহ’র গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সদর উপজেলার মাটিয়াডাঙা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এসএম আব্দুর রউফ এর নামে ধুলিহরে একটি কমপে¬ক্স ও এতিমাখানা তৈরি হয় ২০০৮ সালে। পরবর্তী বছর থেকে মরহুমের ছেলে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম মাহাবুবর রহমান প্রভাব খাটিয়ে ওই এতিমখানা পরিচালনায় বিপুল অঙ্কের টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করে আসছিলেন। এতিমখানার জমি দান, এতিমের সংখ্যা, টাকা আয় ও ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়।
জেলা পরিষদের একাধিক সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. সত্যরঞ্জনর ম-ল ২০১৭ সালের ৪ জুন আব্দুর রউফ কমপে¬ক্স এর জমি সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে আবেদন করেন। এ খবর জানতে পেরে জেলা পরিষদে জমি হস্তান্তর করার জন্য নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ২৯ জুন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে রউফ কমপ্নেক্সের পক্ষে চিঠি লেখেন এসএম মাহাবুবর রহমান। সমবায় মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহামান্য হাইকোর্টে ১৩৪৫৪/১৭ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন এসএম মাহাবুবর রহমান। আদালত শুনানী শেষে আইন অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। আদেশ পেয়ে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আঞ্জুমানারা গত বছরের ৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদকে জমি বুঝে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ি জেলা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালনায় ব্যর্থ হলে ওই জমি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বরাবর ফেরৎ যাবে দলিলে এমন শর্ত উলে¬খ করে দাতা হিসেবে এসএম মাহাবুবর রহমান গত বছরের ২১ জানুয়ারি জেলা পরিষদকে সাড়ে ৪৫ শতক জমির দানপত্র দলিল( দলিল নংÑ৬৭৫/১৮) করে দেন। একই দিনে একই দাতা প্রায় এক একর ৪১ শতক জমি ৬৭৭/১৮ নং দানপত্র দলিল মুলে জেলা পরিষদকে দান করে দেন।
এদিকে জেলা পরিষদের টাকা আব্দুর রউফ কমপে¬ক্স ও এতিমখানায় দেওয়ার প্রক্রিয়া আইন বর্হিভুত উলে¬খ করে অ্যাড, সত্যরঞ্জন ম-ল গত বছরের ৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে ১৪/১৮ নং রিট পিটিশন দাখিল করেন। রিট পিটিশনে মাহাবুবর রহমানকে বিবাদী করা হয়। জেলা পরিষদ বাধ্যতামূলক কাজ শেষে টাকা থাকলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে ঐচ্ছিক কাজে টাকা খরচ করা যাবে এমন আইন থাকলেও আব্দুর রউফ কমপে¬ক্সে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে সে আইন মানা হয়নি বলে রিট পিটিশনে উলে¬খ করা হয়। গত বুধবার উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্ত শুনানীর শুরুতেই এসএম মাহাবুবর রহমানের পক্ষের আইনজীবী একেএম ফয়েজ সময়ের আবেদন চান। শুনানী না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদের কোন টাকা আব্দুর রউফ কমপে¬ক্সকে নেবেন না এমন লিখিত দিলে সময় দেওয়া হবে বলে পরদিন বৃহষ্পতিবার দিন ধার্য করা হয়। বৃহষ্পতিবার মাহাবুবর রহমানের পক্ষে আইনজীবী একেএম ফয়েজ আগামি শুনানীর দিন পর্যন্ত জেলা পরিষদ থেকে কোন টাকা রউফ কমপে¬ক্সও এতিমখানা নেবে না মর্মে লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করায় বিচারকদ্বয় আগামি ১৫ জুলাই পর্যন্ত টাকা না নেওয়ার সময় নির্ধারন করে ১৪ জুলাই শুনানীর দিন ধার্য করেন।