ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবনের নাম বাতিলের আগেই রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিল করার দাবি


প্রকাশিত : জুন ২৯, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ-মানুষ ও অর্থনীতি ধ্বংসের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে সুন্দরবন রক্ষায় সকল সচেতন মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষার জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ২৮ জুন সকাল ১০টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের শহীদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা জেলার প্রতিনিধিদের এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। কমিটির খুলনা জেলা শাখার আহ্বায়ক ও সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এ রশীদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও ইউসিএলবি খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য মোস্তফা খালিদ খসরুর পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑসাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান এড. মো. এনায়েত আলী, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও খুলনা জেলা সভাপতি ডা. মনোজ দাশ, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি খুলনা জেলা আহ্বায়ক এস এম শাহনওয়াজ আলী, সম্মিলিত নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই-খুদা, বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক নেতা নিতাই গাইন, বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দ্দন দত্ত নাণ্টু, জাতীয় কমিটি সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক এড. শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, বাগেরহাট জেলা কমিটির সদস্য সচিব ফররুখ হাসান জুয়েল, ইউসিএলবি খুলনা জেলা সম্পাদকম-লীর সদস্য ও বাম-গণতান্ত্রিক জোট খুলনা জেলা সমন্বয়ক কাজী দেলোয়ার হোসেন, সিপিবি খুলনা জেলা সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহম্মদ মোড়ল, সিপিবি খুলনা জেলা সদস্য মিজানুর রহমান বাবু, সুন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি খুলনা জেলা সদস্য সচিব এড. মো. বাবুল হাওলাদার, খুলনা উন্নয়ন ফোরামের মহাসচিব এম এ কাশেম, বাসদ (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা সদস্য রুহুল আমিন, বাসদ সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক নিত্যানন্দ সরকার, উদীচী খুলনা জেলা সভাপতি সুখেন রায়, জাতীয় কমিটি দাকোপ থানা আহ্বায়ক অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা, বানিশান্তা ইউনিয়ন ভূমি রক্ষা কমিটির নেতা সত্যজিৎ গাইন, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি যুগ্ম মহাসচিব আফজাল হোসেন রাজু, শিক্ষক নেতা নিতাই পাল, ইউসিএলবি খুলনা জেলা সদস্য আনিসুর রহমান মিঠু, জনউদ্যোগ খুলনা’র সদস্য সচিব সাংবাদিক মহেন্দ্র নাথ সেন, উদীচী দৌলতপুর থানা সভাপতি মাহবুবুর রহমান মোহন, বেলা খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়ক কাজী মাহফুজুর রহমান মুকুল, সিডিপি বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব, ছায়াবৃক্ষের পরিচালক মাহবুব আলম বাদশা, খুলনা ফিল্ম সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক রোমেল রহমান, যুব ইউনিয়ন জেলা সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত মুখার্জী, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি খুলনা জেলা সভাপতি এড. চিত্ত রঞ্জন গোলদার, কৃষক সমিতির জেলা সহ-সভাপতি সাহিদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক কৃষক ফ্রন্ট প্রলয় মজুমদার, টিইউসি খুলনা নগর সভাপতি রুস্তম আলী হালাদার, আইন ও অধিকার বাস্তবায়ন ফোরামের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি এস এম দেলোয়ার হোসেন, জুট প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা সোহরাব হোসেন, সমাতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, ইউসিএলবি বাগেরহাট জেলা সম্পাদক এড. ডাকুয়া মনছুর, বাসদ (মার্কসবাদী) সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক চিত্ত রায়, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম খুলনা জেলা আহ্বায়ক কোহিনুর আক্তার কনা, নারীনেত্রী ডাঃ হোসনেয়ারা, শিশুস্বর্গ খেলাঘরের অনিক হাসান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা নগর সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র সৌরভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট খুলনা জেলা সদস্য অমিত রায় প্রমুখ। সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, সরকার অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো জ্বালানী খাতেও একের পর এক উচ্চ ব্যয়ের বিদেশী বিনিয়োগের প্রকল্প চালু করছে। অথচ জাতীয় কমিটি দেশের পরিবেশ সহায়ক ও স্বল্প ব্যয়ের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের প্রস্তাব করলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। ফলে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক রামপাল প্রকল্পে পাশাপাশি এখন সুন্দরবনের ৪ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে তেলভিত্তিক আর একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সুন্দরবনের কাছে দু’শতাধিক মারাত্মক ক্ষতিকর কারখানা নির্মাণ করা হচ্ছে। ইউনেস্কো বলেছে, সুন্দরবনের ক্ষেত্রে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিকর প্রভাব রামপালের চেয়েও ভয়াবহ হবে। দেশপ্রেমিক জনগণ, বিশেষজ্ঞ ও ইউনেস্কো সরকারকে এসব প্রকল্প বন্ধ করার কথা বললেও তা না করে সরকার উল্টো ইউনেস্কোর বক্তব্য নিয়ে মিথ্যাচার করছে। সরকার যথাযথ উদ্যোগ না নিলে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে সুন্দরবনের নাম বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইউনেস্কো। জাতীয় কমিটির নেতৃত্বে জনগনের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সামনে সরকারের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। এখন প্রয়োজন চূড়ান্ত বিজয়ে লক্ষ্যে এ আন্দোলনকে আরও জোরদার করা।