দেশের প্রত্যেকটি জেলা কারাগারকে সংশোধানাগারে রূপান্তর করতে হবে: শেখ মফিজুর রহমান


প্রকাশিত : June 30, 2019 ||

বদিউজ্জামান: দেশের প্রত্যেকটি জেলা কারাগারকে সংশোধানাগারে রূপান্তর করতে হবে। ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ’ এই স্লোগান নিয়ে চলছে আমাদের দেশের জেলা কারাগারগুলো। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কতটুকু আলোর দিশা পাচ্ছে কারাবন্দীরা। আমাদের দেশ স্বধীন হয়েছে ৪৯ বছর কিন্তু আমরা দীর্ঘ দিন অন্যের দ্বারা শাসিত হওয়ায় আমাদের জেলখানাগুলো জেলখানা হয়েই আছে, সংশোধানাগার হয়নি। কারাবন্দীদের আত্মসচেতনতা, আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লিগ্যাল এইড বিষয়ে ধারনা বিস্তারে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটি ও জেলা করাগার সাতক্ষীরার যৌথ উদ্যোগে গতকাল সকাল ১০টায় জেলা কারাগারে এক ভিন্নধর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এ সব কথা বলেন।
জেল সুপার মো. আবু জাহেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিভিল সার্জন, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম শাহ আলম এবং জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারি জজ সালমা আক্তার প্রমূখ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, যারা গরিব মানুষ, শুধু টাকার অভাবে বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাদের জন্যই এই লিগ্যাল এইড। সবাই আইন জানবেনা, জানা সম্ভবও না, কিন্তু আইনি ঝামেলায় পড়লে আপনি কোথায় যাবেন, এই দিক নির্দেশনা দেবে- লিগ্যাল এইড অফিস। তিনি আরও বলেন, আমরা সুস্থতর, সুন্দরতর বিচার ব্যবস্থার জন্য কাজ করে যাচ্ছি, আমরা কোন বায়বীয় প্রচারনায় বিশ্বাসী নই, বরং বাস্তবে কাজ করে যাবো, সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আমাদের স্বভাব এই যে, আমরা নিজেদের দোষ স্বীকার করিনা, কিন্তু আমরা যদি নিজেদের দোষ স্বীকার করে সংশোধনের চেষ্টা করি, তবেই বাইরে যেয়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব। তিনি বন্দীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, কোন পুলিশ যদি আপনাদের কউকে হয়রানি করে তবে আমাকে জানাবেন, আমি অবশ্যই ওই পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
সভায় সভাপতি জেল সুপার মো. আবু জাহেদ তাঁর সমাপনি বক্তব্যে বলেন, কারাগারের ক্যান্টিনে সকালের খাবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, কারণ এখন থেকে সকালে ভালো খাবার (খিচুড়ি ভাত, রুটি-সবজি ও রুটি হালুয়া) দেয়ায় কোন বন্দী আর ক্যান্টিনের খাবার কিনে খায় না।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও সিনিয়র সহকারি জজ সালমা আক্তার।