শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী: তিনদিনেও কোনো গ্রেপ্তার নেই


প্রকাশিত : জুলাই ১, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সন্ত্রাসীদের ধারালো দায়ের কোপে আহত ভ্যানচালক শিশু শাহিন এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাতে অস্ত্রোপচারের পর রোববার দুপুর পর্যন্ত তার চেতনা ফেরেনি। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশু শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন।
এদিকে যাত্রী সেজে চালককে কুপিয়ে আহত করে তার ইঞ্জিনচালিত ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে পুলিশ বলছে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যে কোনো মূহুর্তে তারা গ্রেপ্তার হবে। এ ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় তার বাবা হায়দার আলি অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
গত শুক্রবারের এ ঘটনার পর আহত শাহিনকে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ১৪ বছরের ভ্যান চালক শাহিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাতক্ষীরার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক এমপি ঢাকা মেডিকেলে তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিয়েছেন। রাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন তার সাথে দেখা করে জানিয়েছেন শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব ভার নিয়েছেন তিনি।
শাহিন মোড়ল (১৪) সাতক্ষীরার লাগোয়া জেলা যশোরের মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের হত দরিদ্র হায়দার আলী মোড়লের ছেলে। শাহিনের আরও দুই বোন আছে। এরা হচ্ছে কৃপা ও রিপা। মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহির রায়হান জানান, ওরা খুব গরিব মানুষ। দিন আনা দিন খাওয়া তাদের। ঋণ করে ভ্যান কিনেছে তারা বাবা।
শাহিনের খালু রবিউল বাশার জানান, সে গোলাঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। মাদ্রাসার ছুটির দিনে ভ্যান চালায় শাহিন। আশা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কেনা ভ্যান থেকে আয় করা অর্থ সে তুলে দেয় বাবা মার হাতে। তার বাবা হায়দার আলিও একজন ভ্যান চালক। চার কাঠা জমির ওপর বাড়ি তাদের দুই ভাই হায়দার ও শাহাদাতের। কোনোমতে সংসার চলে ওদের। তিনি জানান শুক্রবার ছিল ছুটির দিন। এদিন তাকে ভাড়ায় যাবার জন্য বাড়ি থেকে ডেকে নেয় কয়েকজন চেনা অচেনা যাত্রী। কিশোর শাহিন তাদের ডাকে সায় দিয়ে ভ্যান নিয়ে বের হয। পথিমধ্যে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার কৃষ্ণনগর জামতলায় পৌঁছালে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা পেছন দিক থেকে তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ বসিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তার ভ্যানটি নিয়ে চম্পট দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় শাহিনকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে পাঠানো হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকায় শনিবার বিকালে শাহিনকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাতেই তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
শাহিনের প্রতিবেশি চাচা তেজগাঁ কলেজের এমএ ক্লাসের ছাত্র মনসুর রহমান জানান, শাহিন এখন সিসিইউতে রয়েছে। তার চেতনা ফেরেনি। তার মা খাদিজা বেগম জানান, আমি আমার ছেলে জন্য সবার দোয়া চাই।