সুন্দরবনের নিষিদ্ধ খালে বনবিভাগের যোগসাজসে মাছ ধরার মহোৎসব


প্রকাশিত : জুলাই ২, ২০১৯ ||

কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা: খুলনা রেঞ্জ ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনের নিষিদ্ধ খালগুলোতে অবাধে চলছে মাছ শিকারের মহাৎসব। কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তার যোগসাজসে জেলেরা সেখানে গিয়ে মাছ ধরায় মাছের প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংসের পাশাপাশি জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে খুলনা রেঞ্জের নিষিদ্ধ মৎস্য সমৃদ্ধ খালগুলি হচ্ছে। সাপখালি পাটকোষ্টা, কুকুমারী, ভ্রমরখালি গেয়াখালি, কাগা, মাটিয়া, নীলকমল, মান্দারবাড়ি, আন্দারমানিক, পাটাকাটা, চালকি, গেন্ডারিয়া, নলবুনিয়া, আড়–য়া শিবসা, সাতক্ষীরা রেঞ্জের নিষিদ্ধ মৎস্য সমৃদ্ধি খাল গুলি হচ্ছে। মেঘনা, বালুইঝাকি, আকড়াকোনা, ভাটিয়াপাড়া, পুষ্পুকাটি, নদাবেকি, হলুদবুনি, কালিরচর, বেহালা, কয়লা, পান্তামারি, ইলিশীমারি, চামটা, মাদারবাড়িয়াসহ আর অনেক নাম না জানা নদী ও খালে শত শত জেলে অবৈধ নেটজাল, ভেষালীজাল, ও চরপাটাজাল ব্যবহার করে মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে বনবিভাগ নিরব, বিশেষ করে সুন্দরবনের নদ-নদী ও খালে মাছ শিকার নিষিদ্ধ থাকলেও তা মানছেনা কেউ। সরকার জেলেদের পুন:বাসন করার লক্ষে এত কিছু সহায়তা করে যাচ্ছে, তারপরও সুন্দরবনে মাছ ধরা থামছে না। সরকার মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের মাধ্যামে দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদাপূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে দেশ যখন মৎস্য সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখন সরকারি আইন অমান্য করে কতিপয় অসাধু বন কর্মকতা ও অসাধু মাছ কোম্পানি কর্তাদের যোগসাজসে জেলেরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে বিভিন্ন নদ-নদী ও খালে মাছ শিকার দেদারচ্ছে চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকাশ্যে এসব জেলেরা মাছ শিকার করলেও বনবিভাগের কোন মাথা নেই। জেলে সুত্রে জানা যায়, বনবিভাগ স্টেশন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বনের ভিতর টহল ফাড়ির ওসি ও বনরক্ষীদের প্রতি গোনে জাল ও নৌকা প্রতি সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৪ হাজার থেকে সাড়েচার হাজার টাকা । তারা জানায় বনবিভাগকে অগ্রিম টাকা দিয়ে বনে প্রবেশ করে মাছ শিকার করি। অভিজ্ঞ মহল বলছে রক্ষক এখন ভক্ষক সেজে দেশের মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের পাশাপাশি বন উজাড় করে চলেছে। জেলেরা এক প্রজাতির মাছ ধরতে শত শত প্রজাতির মাছের রেণুপোনা ধ্বংস করে ফেলছে। এতে করে দেশের মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। এ ব্যাপারে কোবাদক স্টেশন কর্মকর্তা বিল্লাল বলেন আমার এরিয়ার ভিতরে একটি নিষিদ্ধ খাল আছে, সেটা হলো সাপখালী খাল। সেখানে বনবিভাগের ১টি টিম প্রতিদিন টহল দেয়, কোন জেলে যাতে সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।