স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে স্ত্রী হাসপাতালে!


প্রকাশিত : July 3, 2019 ||

শ্যামনগর অফিস: যৌতুকলোভী স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার আসমা বেগম নামের এক গৃহবধূকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়রা বাদঘাটা গ্রামের স্বামীগৃহ থেকে উদ্ধার করে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আসমা বেগম (৩৫) ঈশ^রীপুর গ্রামের মো. ইয়াছিন আলী গাজীর মেয়ে। তার আবু বক্কার এবং নাসিমা নামের দুটি সন্তান রয়েছে তাদের সংসারে। প্রায় আঠারো বছর আগে বাদঘাটা গ্রামের ছেলে শাহাদ আলী গাজির ছেলে আব্দুস সাত্তারের সাথে তার বিয়ে হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসমা বেগম অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় পিতৃলয় থেকে চাহিদামত সরঞ্জামাদী প্রদান করা হয় আব্দুস সাত্তারকে। তারপরও মাঝেমধ্যে স্বামী তাকে নির্যাতন চালাতেন বলে জানান তিনি।
আসমা বেগম অভিােযগ করেন গত কয়েক বছর ধরে ব্যবসার জন্য স্বামী আব্দুস সাত্তার প্রায়ই তাকে পিতৃালয় থেকে টাকা নিয়ে আসতে চাপ দিত। সংসারের কথা চিন্তা করে মাঝেমধ্যে ২০/৩০ হাজার করে টাকা এনে স্বামীকে দিয়েছেন দাবি করে ঐ গৃহবধূ অভিযোগ করেন সম্প্রতি যৌতুকের জন্য তার উপর স্বামীর অত্যাচার দারুনভাবে বৃদ্ধি পায়। মাঝেমধ্যে তাদের মেয়ে নাসিমা পিতার নির্যাতন থেকে মা’কে রক্ষা করতে যেয়ে পিতার হাতে প্রহৃত হয় বলেও আহত গৃহবধূর দাবি।
আসমা বেগমের অভিযোগ গত দুই তিন দিন ধরে আব্দুস সাত্তার তাকে এক লাখ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু তিনি স্বামীর দাবিকৃত টাকা এনে না দেয়ার কারনে মঙ্গলবার বিকালে স্বামী আব্দুস সাত্তার তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
যদিও আব্দুস সাত্তারের দাবি, যৌতুক না, পারিবারিক কারনে আমি আমার স্ত্রীকে কয়েকটি চড় থাপ্পড় মেরেছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস্কেও চিকিৎসকরা জানিয়েছে জরুরী বিভাগে নেয়ার পর আসমা বেগম নামের এক গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তার আঘাতের বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যাবে।