যুদ্ধে শহীদ হয়ে গণকবরে শায়িত থেকেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি কলারোয়ার মতিয়ার রহমান


প্রকাশিত : জুলাই ১০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েও স্বীকৃতি পাননি মতিয়ার রহমান। অথচ তাঁর গণকবরে ২৬মার্চ ও ১৬ডিসেম্বর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধারা ও স্থানীয়রা। কলারোয়ার পার্শ্ববর্তী যশোরের শার্শা উপজেলার জামতলায় যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পূর্ব পাশে বটবৃক্ষের নিচে গণকবরে শায়িত আছেন কলারোয়ার মতিয়ার রহমান। তিনি উপজেলার হামিদপুরের পরানপুর গ্রামের মৃত ইছতুল্লাহ সানার ছোট ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর জামতলা নামক স্থানে মতিয়ার রহমানসহ ৫/৬জন মারা যান। তাদের ওই স্থানে গণকবর দেয়া হয়। প্রতি বছর তাদের স্মৃতি অম্লান রাখতে স্মরণসভা, গণকবরে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়। অথচ স্বীকৃতিতে ম্লান হয়ে গেছেন মতিয়ার রহমান। কয়েক বছর আগে কলারোয়া পৌর সদরের পাকা পুলের মাথায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমানের নামে সড়কটির নামকরণ করেন কলারোয়ার তৎকালীন ইউএনও (বর্তমানে উপসচিব) আ. ন. ম তরিকুল ইসলাম। বর্তমানে রাস্তাটি রয়েছে কিন্তু নাম ফলকের কোন চিহ্ন নেই। মতিয়ার রহমান ছিলেন ৩ ভাই ও ৬ বোন। তিনি ছিলেন ছোট। এই বীর সেনার পারিবারের মধ্যে চাচা ভাইপোরা বেঁচে রয়েছেন। তারা মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমানের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি চান।
মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন জানান, মতিয়ার রহমান যুদ্ধের সময় নিহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। নিশ্চয় মতিয়ার রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গোলাম মোস্তফা জানান, সকারের পক্ষ থেকে বহু বার নাম বাদ পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের নাম যাচাই-বাছাই হয়েছে। কিন্তু মতিয়ার রহমানের পক্ষে কেউ কোন দিন কোন ফাইল নিয়ে জমা দেননি। যার কারণে তার নাম বাদ পড়তে পারে। কাগজ পত্র সঠিক থাকলে সরকার কোন দিন সুযোগ দেয় তাহলে তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিতে নাম লেখাতে পারবেন।