নারী সহকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জেলা তথ্য কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন: মোজাম্মেল হকের প্রতিবাদ


প্রকাশিত : জুলাই ১০, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা তথ্য অফিসের উচ্চমান সহকারি লতিফুন্নার লতাকে শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ও তথ্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে। সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে। এদিকে জেলা তথ্য অফিসার মো. মোজাম্মেল হক স্মাক্ষরিত এক পত্রে গত দুইদিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরকে মিথ্যা দাবী করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি এড. ফাহিমুল হক কিসলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম, সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ, আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদ, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহী, জেলা যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক মফিজুল হক জাহাঙ্গীর, জাসদ নেতা সুধাংশু শেখর সরকার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাতক্ষীরা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল, মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, যুবলীন নেতা মিল্টন, কণ্ঠ শিল্পী আবু আফফান রোজ বাবু, দিলরুবা রুবি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মোজাম্মেল হক সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিসার হিসেবে যোগদান করার পর থেকে তার অধঃস্তন কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছেন। ডেপুটেশনে থাকা উচ্চমান সহকারি লতিফুন্নাহার লতার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে দিতে রাজী না হওয়ায় তাকে বদলী করার হুমকি দেন কয়েক মাস আগে। এরপর তার বিরুদ্ধে ঠুনকো অভিযোগ এনে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরে তাকে গত ২০ জুন বদলীর ব্যবস্থা করান। তাতেও সুবিধা না করতে পেরে তার স্বামী চিত্র শিল্পী আব্দুল জলিল শারীরিকভাবে চরম অসুস্থ থাকার কারণে কয়েকদিন সময়মত আসতে না পারার কারণ দেখিয়ে গত ৮ জুলাই নিজ অফিসের মধ্যে লুৎফুন্নার লতাকে টেনে হিচড়ে তার ঘর থেকে বের করে দেন। বিষয়টি ভিন্নখাকে প্রবাহিত করতে তাকে জুতোপেটা করা হয়েছে ডিজি মহোদয়ের কাছে এমন অভিযোগ করেন। অথচ ঘটনার দিনে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে লতিফুন্নাহারের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ করের মোজাম্মেল হক। বক্তারা আরো বলেন, জেলা তথ্য অফিসের কোন কর্মীই মোজাম্মেল হকের উপর অসন্তুষ্ট। একজন নারীকে এ ভাবে তার অফিসের মধ্যে অপমান মেনে নেওয়া যাবে না। আগামি তিন দিনের মধ্যে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে বৃহত্তর কর্মসুচি গ্রহণ করা হবে।
এদিকে জেলা তথ্য অফিসার মো. মোজাম্মেল হক স্মাক্ষরিত এক প্রতিবাদে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই সকাল ১০টা ২০ মিনিটে লতিফুন নাহার অফিসে আসেন এবং হাজিরা খাতা চেয়ে নিয়ে স্বাক্ষর করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন ‘তুই আমাকে বদলী করেছিস, আমি সাতক্ষীরার মানুষ, তুই কিভাবে সাতক্ষীরায় চাকফর করিস আমি তা দেখবো’। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে স্যান্ডেল তুলে তাকে আঘাত করেন। প্রতিবাদে তথ্য অফিসার আরো বলেন এ সময় তিনি পাশের কক্ষে থাকা অন্যান্য কর্মচারীদের ডাকলে লতিফুন নাহার চিৎকার করতে করতে বের হয়ে যান এবং বলতে থাকেন তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস আমি তোরে দেখে নেব। তিনি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরকে মিথ্যা দাবী করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।