নামেই বিরতিহীন ট্রেন: বেনাপোল-ঢাকা রুটে দুর্ভোগ


প্রকাশিত : জুলাই ৩০, ২০১৯ ||
অনলাইন ডেস্ক:  উদ্বোধনের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই বহুল প্রতীক্ষিত বিরতিহীন বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নামসর্বস্ব এক্সপ্রেসে রূপলাভ করেছে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে আসা পর্যন্ত শুধু বঙ্গবন্ধু সেতুর আগে চেকিংয়ের প্রয়োজনে থামানো ছাড়া অন্য কোনো স্টেশনে থামার কথা নয়, অথচ প্রতিদিন ঈশ্বরদী পর্যন্ত আসতে অন্তত পাঁচ স্থানে বিরতি দেওয়া হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় একইভাবে দেরিতে চলাচল ও বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার সিগন্যালে দাঁড় করিয়ে রাখাও যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রেলের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জানার পরও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চেষ্টা করেও এই অচলায়তন ভাঙতে পারছেন না। নতুন রেলপথ নির্মাণ না করে নতুন নতুন ট্রেন চালু করাতেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে যাত্রী, অ্যাটেনডেন্ট, টিটিই, গার্ডসহ দায়িত্বশীলরা জানান। ধীরগতি আর বিকট শব্দে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

তথ্যসূত্র জানায়, বিরতিহীন ট্রেনকে চলার জন্য একই লাইনের অন্যান্য ট্রেনকে থামিয়ে সাইড দেওয়ার কথা সেখানে বিরতিহীন ট্রেনকেই বিভিন্ন স্টেশন ও আউটার লাইনে থামিয়ে রেখে অন্যান্য ট্রেনকে চলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে বেনাপোল এক্সপ্রেস নামের বিরতিহীন ট্রেন আর বিরতিহীন থাকছে না। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার পর ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে এসে পৌঁছানোর সময় নির্ধারিত থাকলেও বুধবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে এসে পৌঁছায় এ ট্রেন। একইভাবে গত বুধ থেকে শুক্রবার প্রতিদিন ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে চলাচল করছে ট্রেনটি।

বেনাপোল এক্সপ্রেসের ট্রেনযাত্রীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি যে ধীরগতিতে চলছিল তাতে যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে পড়েন। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ট্রেন চলেছে অনেকটা শম্বুকগতিতে। টাঙ্গাইল স্টেশনে স্টপেজ না থাকলেও সেখানে এই ট্রেনকে প্রায় ২৫ মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এর পর ঈশ্বরদী পর্যন্ত আসার পথে একে একে উল্লাপাড়া স্টেশনের কিছুটা দূরে শরৎনগর স্টেশনের আগেসহ বেশ কয়েক স্থানে আউটার লাইনে ৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীন বেনাপোল এক্সপ্রেসকে দাঁড় করিয়ে রেখে বিপরীতমুখী অন্তত ৫-৬টি আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনকে সাইড দেওয়া হয়।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, নতুন নতুন ট্রেন চালু করা হলেও নতুন রেলপথ বাড়ানো হচ্ছে না, প্রতিদিন ঈশ্বরদী-ঢাকা রুটে ৪৮টি ট্রেন চলাচল করে, এতগুলো ট্রেন এক লাইনে চলাচলের কারণে বিরতিহীন ট্রেনকে বিরতিহীনভাবে চলার সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা অপ্রতুল।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বিরতিহীন ট্রেনকেই অন্যান্য ট্রেনকে সাইড দেওয়ার কথা, বিরতিহীন ট্রেনকে দাঁড় করিয়ে রাখার কথা নয়, কিন্তু একই লাইনে অনেক ট্রেন চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে নিয়ম ভাঙা হচ্ছে। আপাতত এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। এ বিষয়ে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।