২০১৭ সালে খুলনা বিভাগে ৩০ হাজার যক্ষ্মা রোগী সনাক্ত


প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনা বিভাগে ২০১৭ সালে ৩০ হাজার ২০২ জন যক্ষ্মা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে তিন হাজার ২১৭, চুয়াডাঙ্গায় দুই হাজার ১৪৯, যশোরে চার হাজার ৭৮১, ঝিনাইদহে তিন হাজার ৫১০ ও খুলনায় চার হাজার ২৫৩ জন যক্ষ্মা রোগী সনাক্ত হয়। কুষ্টিয়ায় চার হাজার ১৮৫, মাগুরায় এক হাজার ৮৮১, মেহেরপুরে এক হাজার ২৩৬, নড়াইলে এক হাজার ৪৩১ এবং সাতক্ষীরা জেলায় তিন হাজার ৫৫৯ জন যক্ষ্মা রোগী সনাক্ত করা হয়। খুলনা বিভাগের জনসংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ এবং যক্ষ্মা রোগে আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ১২৬ জন।
পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীরা ওষুধ গ্রহণ করলে নয় মাসের মধ্যে এবং জটিলতার ক্ষেত্রে ২০ মাস ওষুধ গ্রহণ করলে যক্ষ্মা নিরাময় সম্ভব। ধারণা করা হয় বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেই শরীরে যক্ষ্মার জীবাণু বহন করে চলেছে যা শরীরে সুপ্ত অবস্থায় আছে। অধিক ঘনবসতি হওয়ায় এবং শ^াস-প্রশ^াসের মাধ্যমে যক্ষ্মার সংক্রমণ ঘটে বলে যক্ষ্মা নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় মঙ্গলবার খুলনা মেডিকেল কলেজের সম্মেলনকক্ষে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে অবহিতকরণ কর্মশালায় এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই সভার আয়োজন করে।
সকালে দিনব্যাপী বিভাগীয় কর্মশালার উদ্বোধনকালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালসহ প্রতিটি জায়গায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পারলে যক্ষ্মা ও ডেঙ্গুর মতো রোগ প্রতিরোধ সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা হতে খুলনায় আগমন করা বাসগুলোতে খুলনা জেলার প্রবেশের মুখে মশা মারার স্প্রে ব্যবহার করে এডিস মশা ধ্বংসের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সকালের জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত ও সরকারের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ এএসএম আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. শামিউল ইসলাম, খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের উপপরিচালক ডা. সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন। যক্ষ্মা বিষয়ে তথ্যপত্র উপস্থাপন করেন ডা. রুপালী শিশির বানু।
কর্মশালায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সিভিল সার্জন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রধান, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ নানা পেশার ব্যক্তিরা অংশ নেন।