ভারতীয় ভিসা অফিসে আবেদনকারীদের হয়রানির অভিযোগ


প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরাস্থ ভারতীয় ভিসা অফিসে ভিসার আবেদন জমা দিতে বিড়ম্বনায় পড়ছে ভিসা প্রত্যাশিরা। নিয়ম মেনে আবেদন ফর্ম পূরণ করে ও জমাদিতে পারছে না অসংখ্য আবেদনকারী। আবেদনে ভুল আছে এমন অভিযোগ তুলে আবেদন জমা নিচ্ছে না ভিসা অফিসের অফিসাররা। ফলে প্রতি দিন সাতক্ষীরা ভিসা অফিসে ভিসার আবেদন জমা দিতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে দূরদূরান্ত থেকে আসা শতাধীক ভিসা প্রার্থী।
সূত্র জানায়, প্রতিদিন সাতক্ষীরা ভিসা অফিসে ভিসার আবেদন জমা হয় সাড়ে তিন শ’ থেকে চার শ’। সকাল ৮টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত ভিসার আবেদন জমা নেন কর্তৃপক্ষ। মাত্র চার জন অফিসার ভিসার আবেদন জমা নিয়ে থাকেন। জনবল সংকট ও আবেদন ফর্মে ত্রুটির অভিযোগ তুলে প্রতিদিন তারা শতাধিক আবেদনকারীর আবেদন ফিরিয়ে দেন। সবচেয়ে বেশি মেডিকেল ভিসার আবেদন ফর্ম ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ। ফলে ভারতে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশী অনেক রোগীরা চিকিৎসা পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছে।
সাধারণত সাতক্ষীরায় ভারতীয় ভিসা অফিসে ট্যুরিস্ট ভিসা, মেডিকেল ভিসা, বিজনেস ভিসা, ট্রানজিট ভিসা ও এন্ট্রি ভিসার আবেদন করা হয়। সব চেয়ে বেশি ভিসা জমা পড়ে ট্যুরিস্ট ভিসায়।
তাছলিমা খাতুন (৩৬)। কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা এলাকার শামসের আলীর কন্যা। ৯ অক্টোবর ২০১৮ সালে তার ৬ মাসের মেডিকেল ভিসায় ভারতের এ্যাপলোতে তিনি চিকিৎসা নেন।
এরপর তিনি গত ২৯ জুলাই আবারও চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা ভারতীয় ভিসা অফিসে আবেদন জমা দিতে আসেন। তাকে ডালার লাগবে বলে ভিসা অফিসের ইনর্চাজ সঞ্জয় বিশ্বাস তার আবেদন জমা না নিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া দেয়। পরের দিন অর্থাৎ গতকাল ৩০ জুলাই ডলার নিয়ে নতুন আবেদন জমা দিতে আসেন তাসলিমা। কর্তৃপক্ষ তাকে আবেদন ফর্মে ভুল আসে বলে নতুন আবেদন ফর্ম জমা দিতে বলে। পরে নতুন আবেদন ফর্ম জমা দেয়ার পর কর্তৃপক্ষ তাকে ভারতীয় ডাক্তারের অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তাসলিমা সেটাও তাদের দেখান। এর পরও তার ফর্ম জমা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, গতবার যেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে ছিলেন সেখানকার অনুমতিপত্র আনতে।
ভিসা আবেদরকারী তাসলিমাকে একেক বার একেক রকমের সমাস্যার কথা বলে ভিসা আফিসার সঞ্জয় বিশ্বাস। পরে তাসলিমা ভিসা অফিসের তামান্না ম্যাডামের কাছে আবেদন জমা দিতে যান। তাসলিমা অভিযোগ করে বলেন, তার আবেদন জমা না নিয়ে ভিসা অফিসার তামান্না ম্যাডাম বলেন,
‘বোঝেন না তা, এসেছেন কেন? যার কাছ থেকে করেছেন সেখানে গিয়ে বোঝেন। যান এখান থেকে চলে যান।’ একই অভিযোগ, কালিগঞ্জ উপজেলার অমিত কুমার দাস ও সদরের বাবুলিয়ার গোপাল চন্দ্র সেনের।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ভারতীয় ভিসা অফিসের প্রধান অফিসার সঞ্জয় বিশ^াস জানান, তারা নিয়ম মেনে ভিসা ফর্ম জমা নেন। ত্রুটিপূর্ণ ফর্মের ক্ষেত্রে তারা আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।