মন্ত্রীর নির্দেশনাও অমান্য সুন্দরবনে মাছ শিকার বন্ধ, তবুও স্টেশন অফিসার গোপনে অর্ধশত নৌকা পাঠালেন


প্রকাশিত : আগস্ট ২, ২০১৯ ||

সামিউল মনির, শ্যামনগর: বিষ টোপ ব্যবহার করে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের বিষযটি অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে বনবিভাগের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ সুন্দরবনে আপাতত মাছ ও কাঁকড়া শিকারের পাশ প্রদানের বিষয়টি স্থগিত করেছেন। কিন্তু উর্ব্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশের থোড়াই কেয়ার করে ‘মহা ক্ষমতাঘর’ বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসার আক্তারুজ্জামান প্রায় ছয় শতাধিক জেলে নৌকাকে মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে সুন্দরবনে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে সম্প্রতি সুন্দরবন তীরবর্তী অংশের জেলেরা সহজে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ করে জাল পেতে অনতিদুরে পর্যাপ্ত বিষ ঢেলে দেয়। এসময় বিষক্রিয়ার প্রভাবে যাবতীয় ধরনের ছোট বড় মাছ সম্মুখভাগের জালে আটকা পড়ে। তাতে করে সম্প্রতি সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়ার পরিমান ও প্রজাতি অশংকাজনকভাবে কমে গেছে।
বিষযটি স্থানীয় পরিবেশবিদ এবং সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পর সম্প্রতি উর্ব্ধতন কৃতপক্ষ নড়েচড়ে বসে এবং সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া শিকার বন্ধের উদ্যোগ দেন।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে সুন্দরবনে জেলেরা যাতায়াত করা মানেই সুন্দরবনে কর্মরত বনজীবিদের পোয়াবারো। নেট জাল ও বিষ টোপ ব্যবহারের সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি তারা অভয়ারন্যে মাছ ও কাঁকড়া শিকারের সুযোগ দিয়ে তিন জনের নৌকা প্রতি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে।
এছাড়া অসাধু বনকর্মীরা টহল টিমের জন্য বরাদ্দ ইঞ্জিন চালিত নৌকার সাথে বেঁধে এসব জেলে নৌকাসমুহকে নির্ধারিত জায়গায় পৌছে দেয়া এবং পুনরায় লোকালয়ে ফিরিয়ে আনার বিনময়ে মোটা অংশের উৎকোচ গ্রহণ করে।
তাই অভিযোগ উঠেছে সুন্দরবনে আপাতত জেলেদের যাতায়াত বন্ধ মানেই অসাধু বনকর্মীদের দুরাবস্থা। বিষযটি এমন যে সুন্দরবনে জেলেদের যাওয়া বন্ধ মানেই বনরক্ষীদের ‘উপরি’ কামায় বন্ধ।
আর কতিপয় অসাধু বনকর্মীর এমন ‘উপরি’ কামায় বন্ধের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গত মঙ্গলবার বেলা বারটার দিকে বিষ টোপ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ৫০/৬০ জন জেলেকে দিয়ে বুড়িগোয়ালীনি বাজারে একটি মানববন্ধন করানো হয়েছে। একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে যে স্টেশন অফিসার আক্তারুজ্জামান নেপথ্যে থেকে ঐ মানববন্ধ করিয়ে তাদেরকে বনে প্রবেশের সুযোগ তৈরীর চেষ্টা চালান।
এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে উর্ধতন কতৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকারও পরও আর্থিক সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বুড়ি আক্তারুজ্জামান শত শত জেলে নৌকাকে রাতের আঁধারে সুন্দরবনে প্রবেশ করার সুযোগ দিয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে।
এবিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনবিভাগরে এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশের পরপরই সুন্দরবনে সব ধরনের মাছ ও কাঁকড়া শিকারের জেলে নৌকার প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী গোপন আঁতাতে কাউকে যদি সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ দিয়ে থাকেন তবে সে দায় তার।
তবে এসব বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত স্টেশন অফিসার আক্তারুজ্জামান জানান, ইতোপুর্বে যারা বনে প্রবেশ করেছে তদেরকে তো ফিরিয়ে আনা যাবে না। তারা ফিরে আসল নুতন কওে পাশ না নেয়ার বিষয়টি দেখা হবে। তবে মানববন্ধনে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে এ কর্মকর্তা বলেন, টাকা নিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে আমি কাউকে বনে পবেশের সুযোগ দিয়েছি কথাটা উদ্ভট।
এদিকে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে বর্তমানে মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশের পরও প্রায় ছয়শত নৌকা সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে মাছ ও কাঁকড়া শিকার করছে। যাদের অধিকাংশ স্টেশন অফিসার আক্তারুজ্জামানের মাধ্যমে গোপনে বনে প্রবেশ করেছে মোটা অংকের টাকা দিয়ে।
বিষয়টির তদন্ত করে অতিদ্রুত সময়েল মধ্যে আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষাসহ বিষটোপ ব্যবহারকারীদের তালিকা প্রস্তুতের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।



error: Content is protected !!