ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে কামার শিল্পীরা; টুং-টাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়া


প্রকাশিত : আগস্ট ৩, ২০১৯ ||

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সামনে ঈদুল আজহা তাই এই ব্যস্ত সময় পার করছে কামার শিল্পীরা। কামারবাড়ী দিন-রাত টুং-টাং শব্দের মুখরিত হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসা বাংলার প্রাচীন কামার শিল্প যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এখন দম ফেলারও ফুরসত নেই কামার পাড়ার শিল্পীদের। দিন-রাত সমান তালে লোহার টুং-টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রতিটি কামার পাড়া।
ঈদুল-আজহার আর কয়েকদিন বাকি। উপজেলার সদর, নতুন বাজার, গদাইপুর, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি, বাঁকা, আমাদী, চাঁদখালী, কাটিপাড়া, বোয়ালিয়ার মোড় সহ বিভিন্ন হাট বাজার ও কামার বাড়ীতে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের ছোরা, চাপাতি, চাকু, দা, বটি, কুড়াল সহ বিভিন্ন সরজ্ঞাম তৈরি ও মেরামত করছে কামার শিল্পীরা। তাহা ছাড়া ক্রেতাদের পছন্দমত বিভিন্ন মাপের পশু জবাই করার ছোট-বড় ধারালো অস্ত্র তৈরী করছে। সারা বছর টুক-টাক কাজ থাকলেও কোরবানির ঈদেও সময় কামার শিল্প মুখরিত হয়ে ওঠে। উপজেলার হিতামপুর গ্রামের হামিদ আলী জানান কুরবানীর সঞ্জমজাদী চা-পাতি, ছুরা, চাকু, দা, বটি কুরবানীর সময় প্রয়োজন পড়ে। বাকী সামগুলোতে এ সকল জিনিসপত্র তেমন একটা ব্যবহার করা হয় না বললেই চলে। তাই এ সকল জিনিসপত্রে মরিচা পড়ে ধার নষ্ট হয়ে যায়। তাই ঈদের আগেই কামারের দোকানে কুরবানী পশু জবাইয়ের জিনিসপত্র নতুন ধার তৈরী করার প্রয়োজন পড়ে। কামার শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসময় দোকানে পুরাতন ও নতুন ধারালো অস্ত্র বানানো ও মেরামতের ভীড় শুরু হয়। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ব্যস্ততা থাকে। বোয়ালিয়া মোড়ে অবস্থিত কামার শিল্পী বিমল কর্মকার ও মনোরঞ্জন কর্মকতার বলেন, লোহা ও কয়লার দাম বেড়েগেছে। সাধারণ লোহা ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকা ও গাড়ীর পাতি ৮০ টাকা দরে প্রতি কেজি ক্রয় করতে হয়। পশু জবাই করার ছোট-বড় বিভিন্ন সরজ্ঞাম সাইজের উপর দাম নির্ভর করে। ছোট চাপাতি ৫শত টাকা, বড় চাপাতি ৭ শত থেকে ৮ শত, বড় ছোরা ৩ শত থেকে সাড়ে ৩ শত, চাকু ৫০ টাকা থেকে দেড় শত টাকা, বটি আড়ই শত থেকে ৩ শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই পেশায় আমরা খুব অবহেলিত। বর্তমান দ্রব্যমূল্য বেশি হলেও সেই অনুযায়ী দাম পাই না। ফলে সারাবছর সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। কোরবানির ঈদের সময় পশু জবাইয়ের সরজ্ঞামের চাহিদা থাকায় কাজও বেশি হয়। আর সারাবছর তেমন কোন কাজ থাকে না। টুক-টাক কাজ করে সংসার চালাতে হয়, তাই কামার শিল্পীরা বর্তমান এ পেশায় তাদের অবহেলিত মনে করেন। তারপরও পেশা টিকে রাখতে সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছে।