সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান দেবপ্রসাদ মন্ডল ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মাণে দেশ সেরা নির্বাচিত


প্রকাশিত : আগস্ট ৪, ২০১৯ ||

পিযুষ বাউলিয়া পিন্টু, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর): সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ছেলে এবং ‘খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল, কুয়েট ক্যাম্পাস, কুয়েট’ এর সহকারী শিক্ষক (বাংলা) দেবপ্রসাদ মন্ডল ‘শিক্ষক বাতায়নে’ ৩১তম সপ্তাহে দেশ সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত শিক্ষা বিভাগের জনপ্রিয় পোর্টাল ও ডিজিটাল শিক্ষাদান পদ্ধতি উন্নয়নের ভান্ডার ‘শিক্ষক বাতায়ন’ যেখানে ৩ লক্ষ ষাট হাজারের বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার জন্য ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে আসছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ক্লাসরুমে রুপান্তরিত করতে যে কয়জন প্রতিভাবান শিক্ষক নিরলস পরিশ্রম করে সারা দেশের শিক্ষকদেরকে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাস নিতে সহায়তা স্বরূপ ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মান করে বিশেষ অবদান রাখছেন তাদেরই একজন দেবপ্রসাদ মন্ডল। তিনি ৩১তম সপ্তাহে ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মান করে সারা বাংলাদেশের একজন নির্বাচিত হয়েছেন।
গত শুক্রবার সরকারী ওয়েবসাইটে শিক্ষক বাতায়নে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষক বাতায়ন সুত্র জানাযায়- সারাদেশে ৯ লক্ষ শিক্ষক শিক্ষিকা আছেন। তাদের মধ্যে আইসিটি ইন এডুকেশনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষিকা হচ্ছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩ জন। এবার ১ লাখ ৬৯ হাজার ২২০টি কন্টেন্ট শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪৩টি মডেল কন্টেন্ট। ৩১ তম সপ্তাহে সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা দেবপ্রসাদ মন্ডল। তাঁর অনুভূতি প্রকাশে তিনি বলেন- “শিক্ষক বাতায়নে সেরা হওয়া ও শিক্ষা ক্ষেত্রে আইসিটি ব্যপক ব্যাবহারে সরকার একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছে, ‘শিক্ষক বাতায়ন’, ‘মুক্তপাঠ’ ও ‘কিশোর বাতায়ন’ মাধ্যমে চলছে আধুনিক শিক্ষাকে আরো আধুনিক করার প্রচেষ্টা। এই কার্যক্রম চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে।
তিনি আরো বলেন, আমি ‘কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল’ এর প্রায় নতুন শিক্ষক হিসেবে ২০১৪ সালে ৩ দিনের কারিকুলাম প্রশিক্ষণে যাই। সেখানে ‘সরকারি টিচার্স ট্রেনি কলেজ, প্রথম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার পাঠ দিতে দেখেছিলাম। তখনো প্যাডাগজি বুঝিনা, বাসায় এসে স্যারেরে মতো করে তৈরি করে ফেললাম ‘পালামৌ’ ভ্রমণ কাহিনি নিয়ে প্রেজেন্টেশন।
২০১৫ সালে ‘খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল’ এ যোগদান করলাম। এখানে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই সেই শ্রেষ্ট মানুষকে, যিনি আধুনিক কুয়েটের রূপকার ড. মুহাম্মদ আলমগীর স্যারকে, যিনি আমাকে দেখেই বলেছিলেন তুমি অনেক ভালো শিক্ষক হবে। অল্প কয়েকদিনের জয় করেছিলাম, কুয়েট স্কুলের সকল শিক্ষার্থীর হৃদয়। স্কুলে যোগদানের ২মাস পরে বিপ্লব রহমান স্যারের সহযোগিতায় সিপিডি ফর আইসিটি প্রশিক্ষণে ‘সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে দায়িত্ব পালন করে। শ্যামনগর উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পরিবার ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।