আবুধাবিতে লোক পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রতারণার শিকার ফজর আলীর পরিবার এখন নিঃস্ব


প্রকাশিত : আগস্ট ৪, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদর উপজেলার পলাশপোল (সবুজবাগ) গ্রামের নাজমুল হাছান ও তার কন্যা নিলুফা নাজনীনের বিরুদ্ধে আবুধাবিতে লোক পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার শিকার হয়ে কামালনগর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. ফজর আলী সাতক্ষীরা পৌরসভায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। রোববার সাতক্ষীরা পৌরসভা কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি শালিশী বৈঠক বসে। এসময় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে সকল ঘটনা শোনেন পৌর কাউন্সিলর মো. শফিকুল আলম বাবু। এব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আগামী ২০ আগস্ট শালিশী দিন ধার্য্য করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ জুন দিন ধার্য্য ছিল, কিন্তু বিবাদী এআরএম নাজমুল হাছানের কন্যা নিলুফা নাজনীন আবুধাবীতে অবস্থান করায় তিনি পৌর মেয়র বরাবর আবেদন করে সময় বাড়িয়ে নেন। বর্তমানে মো. ফজর আলীর ও তার পরিবার সহায় সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রতারণার শিকার মো. ফজর আলী বলেন, আমি সাতক্ষীরা নিউ মার্কেটে এ্যাপেল কম্পিউটারে কাজ করাকালীন এআরএম নাজমুল হাছান বিভিন্ন লোকের চাকরি দেওয়ার উদ্দেশ্যে জীবন বৃত্তান্ত লিখতে আসতেন। সেই সুবাদে তার সাথে আমার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি আমাকে বলেন, তার মেয়ে নিলুফা নাজনীন এক মাসের জন্য দেশে আসছেন। তুমি যদি আমার মেয়ের সাথে আবুধাবিতে যেতে পারো তাহলে তুমি ওখানে আমার মেয়ে ও জামাইয়ের নিজস্ব কোম্পানিতে অফিসিয়াল কাজ করতে পারবে। পরবর্তীতে আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন তাদের বাসায় যেয়ে নিলুফা নাজনীনের সঙ্গে কথা বলি। তখন তিনি তাদের নিজস্ব কোম্পানি আছে এবং আমাকে প্রথমে টুরিস্ট ভিসায় ৩ মাসের জন্য আবুধাবিতে নিয়ে যাবে এবং তিন মাসের মধ্যে দুই বছরের (ওয়ার্ক পারমিট) ভিসা লাগিয়ে দেবে। নিলুফা নাজনীন আমাকে বলেন, যদি তিন মাসের মধ্যে আমার কোম্পানি থেকে তোমার ভিসা না লাগাতে পারি, তাহলে টাকা ফেরতসহ আমাকে দেশে পাঠাবে বলে প্রতিশ্রæতি দেন এবং টুরিস্ট ভিসা ও তাদের কোম্পানির (ওয়ার্ক পারমিট) ভিসার খরচসহ মোট ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়। তাদের কথামতো প্রথমে ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর নগদ ১ লক্ষ প্রদান করি। এরপর নিলুফা নাজনীন আমাকে বলেন, ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর আবুধাবিতে যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট কাটা আছে, যদি তার সাথে যেতে চাই তাহলে এখনই সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে। অত:পর, ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিলুফার পিতা নাজমুল হাছান আমার বাসায় কন্ট্রাক্ট পেপার নিয়ে আসেন এবং সেই পেপারে আমার পদবী হেলপার ছিল, তখন আমি প্রশ্ন করি পদবী হেলপার কেন? তখন তিনি বলেন, এটা ওখানকার নিয়ম। যাওয়ার পর অফিসিয়াল কাজ করতে পারবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে ঐ কন্ট্রাক্ট পেপারে সহি করিয়ে নেন। আমি এবং আমার অভিভাবকদের সাথে নিয়ে ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে ৩ লক্ষ ২০ বিশ হাজার টাকা নগদ প্রদান করি। এসময় নিলুফা নাজনীন আমাকে বলেন, আমাদের ফ্লাইট ইং ১৪-১২-২০১৮ তারিখে হবে, আমাদের এখন ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। আমি ঢাকা যেয়ে গাজিপুর আমার বোনের বাসায় যাই এবং নিলুফা সাভারে তার ভাইয়ের বাসায় যায়। কিন্তু, ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে নিলুফা আমাকে জানায়, আমার ভিসা ও বিমানের টিকিট কাটা হয়নি। ফলে, নিলুফা আমাকে রেখে আগেই চলে যায়। অবশেষে ১৯ ডিসেম্বর আমার টুরিস্ট ভিসা ও বিমান টিকিট মেইল-এ পাঠায়। আমি ১৯ ডিসম্বের সন্ধ্যা ৭.৩০ টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ার লাইন্স বিজি- ১২৭ বিমানে (ইউনাইটেড আরব আমিরাত, আবুধাবিতে) পৌছাই। আবুধাবিতে যাওয়ার পর নিলুফা ও তার স্বামী আমাকে দিয়ে জোরপূর্বক টুরিস্ট ভিসায় কনস্ট্রাকশনের কাজ, সিমেন্ট, স্যাল্যেন্ডার পাইপ, পার্টিশন জিপসাম হার্ডবোর্ড এবং ক্লিনিংয়ের কাজ করতে বাধ্য করতো। নিলুফার স্বামী আমার প্রথম ৩ মাস টুরিস্ট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে পুনরায় জোরপূর্বক দ্বিতীয় বার টুরিস্ট ভিসার নবায়ন করার জন্য বিমান বন্দর থেকে আমাকে ওমান পাঠায় এবং বলে তোমার টুরিস্ট ভিসা একবার নয় আমি দশ বার করবো তোমার সমস্যা কোথায়? প্রতিবাদ করায় আমাকে বিভিন্ন হুমকী, অশ্লিল ভাষায় গালিগালাজ এমনকি মারধর করতো। একপর্যায়, আমি ২০১৯ সালের ২৭ জুন বাংলাদেশ বিমান এয়ার লাইন্স বিজি- ১২৮ যোগে (ইউনাইটেড আরব আমিরাত, আবুধাবি) থেকে নিলুফাদের বাসা থেকে আমার জীবন রক্ষার তাগিদে পালিয়ে আসতে বাধ্য হই। এ ব্যাপারে সুষ্ঠু বিচার ও প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ফেরত পেতে পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।



error: Content is protected !!