তালায় নিয়ম বর্হিভূতভাবে জনবহুল এলাকার ইটের ভাটা


প্রকাশিত : আগস্ট ৫, ২০১৯ ||

ইলিয়াস হোসেন, তালা: তালায় সরকারী নিতিমালার তোয়াক্কা না করে জনবহুল এলাকার ফসলি জমিতে ইট ভাটা গড়ে তুলছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকায় রীতিমত আতংকে রয়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের জেঠুয়া গ্রামে বিসমিল্লাহ অটো ব্রিকস্ নামে ইট ভাটা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছি স্থানীয় মোবারক হোসেন ও জহুরুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখাযায়, অত্র এলাকার পাশে রয়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী জেঠুয়া বাজার, এতিমখানা ও প্রবাহমান কপোতাক্ষ নদ। এ নদের পাশ ঘেষে রয়েছে দো ফসলী কয়েক শ বিঘা জমি। যার মধ্যে সুবিধাবাদি কামরুল ইসলাম, মোতালেব গংরা ৪ একর সম্পত্তি ইজারা দিয়েছে ঐ ভাটা মালিকের নামে। যার মৌজা জেঠুয়া, জে.এল নং-১৩০। আর এর উপরেই নির্মিত হচ্ছে এ ভাটা। ইতোমধ্যে ভাটার কার্যক্রমও শুরু করেছে তারা। ২৫ জুন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় আ.লীগ, বিএনপি ও সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে উদ্বোধনের মাধ্যমে ইট ভাটা স্থাপনের কাজ শুরু করে। যা এখন রিতীমত মানুষের গলার কাটা হয়ে দাড়াচ্ছে। প্রথমত ভাটার মালিক পক্ষ অটো ভাটার নামে প্রচার দিলেও এখন সেখানে হাওয়া ভাটা তৈরীর কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। জনবহুল ও বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষা, ধর্মীয় ও মানবিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এমন ইটভাটা স্থাপিত হলে এলাকার সামগ্রিক পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে সর্বস্তরের মানুষ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হবে।
নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ভাটার জমি দাতা ও মালিক পক্ষ পরষ্পর যোগসাজশে বসত-ভিটা থেকে শুরু করে ফসলি জমির দাগ-খতিয়ান সম্পৃক্ত করে ইজারা চুক্তি সম্পন্ন করলেও মুলত তারা বিআরএস খাস খতিয়ানের জমিতেই ভাটা স্থাপন করছেন।
এদিকে আইনের ৮ এর (১) ধারায় রয়েছে, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বানিজ্যিক এলাকা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমি, কৃষি জমি, প্ররিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা, ডিগ্রেডেড এয়ার শেড এলাকায় ভাটা করা যাবে না। একই ধারার উপধারা (২) অনুযায়ী এই আইন কার্যকর হবার পর নিষিদ্ধ এলাকার সীমানার অভ্যন্তরে ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, বা অন্য কোন কতৃপক্ষ কোন আইনের অধীন কোনরুপ অনুমতি বা ছাড়পত্র বা লাইসেন্স, যে নামেই অভিহিত হউক, প্রদান করিতে পারিবে না। আইনের ৩ নং ধারায় ক) উপধারায় বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ এলাকার সীমারেখা হতে নূন্যতম ১ কি:মি: দুরত্বের মধ্যে, ঙ) উপধারায় বিশেষ কোন স্থাপনা রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বা অনুরুপ কোন স্থান বা প্রতিষ্ঠান হতে ১ কি:মি: দুরত্বের মধ্যেসহ নানা শর্তানুযায়ী ইট ভাটা স্থাপন করা যাবেনা। কিন্তু কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ৫৯ নং আইনের (বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ২০ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত এবং পরবর্তীতে অধ্যাদেশ নং-০২/২০১৮ সংশোধিত) এর প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তারা সেখানে ইট ভাটার লাইসেন্স নেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, তিনি উপজেলায় নতুন এসেছেন। এখনো পর্যন্ত এনিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। এলাকাবাসী ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।