পাইকগাছায় লবণাক্ত মাটিতে পটল আবাদ সফল


প্রকাশিত : আগস্ট ৮, ২০১৯ ||

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): উপকূলীয় এলাকার পাইকগাছার লবণাক্ত মাটিতে পটলের আবাদ সফল হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর, হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়নে বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ হয়। অন্যান্য ইউনিয়নগুলো নিচু হওয়ায় শাক-সবজির চাষ তেমন একটা হয়না বললেই চলে। গদাইপুর ইউনিয়নের সবজি চাষী নির্মল ঘোষ তার ৫ কাঠা জমিতে পটলের আবাদ করে সফল হয়েছে। তিনি জানান, বর্ষা মৌসুমে পটল ক্ষেতের জন্য দেড় ফুট উঁচু করে মাচা তৈরী করেছে। এতে পটল গাছও ভাল থাকে এবং প্রতিটা ডোগায় ডোগায় পটল ধরেছে। প্রতি সপ্তাহে তিনি ক্ষেত থেকে প্রায় ৫০ কেজি পটল উৎপাদন করছেন। উৎপাদিত পটল বাজারে বিক্রি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। তার পটল চাষ দেখে এলাকার অনেক কৃষক পটল চাষে আগ্রহী হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হয়েছে। গদাইপুর, হরিঢালী ও কপিলমুনি ইউনিয়নে পটলের চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের সব জায়গায় পটলের চাষ হয় না। বৃহত্তর রাজশাহী, বগুড়া, রংপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পটলের চাষ হয়। খুলনা ও সাতক্ষীরায় পটলের চাষ হচ্ছে।
পটল বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম। ভারতী উপমহাদেশে পটলের উৎপত্তি স্থল। সারা বছর পটলের চাষ হয়। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে যখন সবজির অভাব দেখা দেয় তখন পটল একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি হিসাবে কাজ করে। বন্যামুক্ত এবং পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা আছে এমন দো-আশঁ ও বেলে দো-আশ মাটিতে পটলের চাষ ভাল হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত অথবা অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পটল রোপনের উপযুক্ত সময়। পটল একটি লতানো উদ্ভিদ। এর জন্য পটলের মাচা দেওয়া অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের পটল দেখা যায়। যেমন, লম্বা ও চিকন, খাটো ও মোটা, গাড়ো সবুজ ও হালকা সবুজ, ডোরা কাটা ও ডোরা কাটা বিহীন, পুরুত্বক থেকে হালকা ত্বক। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট পটলে ২টি জাত আবিষ্কার করেছে। এ জাত দুটি উচ্চ ফলনশীল ও রোগ-বালাই সহ্য করতে পারে। সেগুলো হলো বারি পটল-১ ও বারি পটল- ২। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, পাইকগাছার লবণাক্ত মাটিতে পটলের আবাদ সফল হওয়ায় এ এলাকার সবজির চাহিদা পুরণের পাশাপাশি কৃষকরা পটল আবাদে লাভবান হচ্ছে। পটল আবাদ সফল হওয়ায় অনেক কৃষক পটল আবাদে আগ্রহী হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে তাদেরকে পটল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে উপজেলায় আরো অধিক জমিতে পটলের আবাদ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।