তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগী সনাক্তকরণের কিট নেই!


প্রকাশিত : August 8, 2019 ||

মো. আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। তবে জেলার সাত উপজেলার তিনটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুজ্বর সনাক্তকরণ এনএস-১ কিট (পরীক্ষার উপকরণ) নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা।
সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে এনএস-১ কিটের সরবরাহ থাকলেও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং তালা উপজেলা সাস্থ্য কম্পপ্লেক্সে এনএস-১ কিটের সরবরাহ নেই। এই উপজেলাগুলোতে কয়েক লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। প্রতিদিন শত শত রোগী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে ভীড় করে। অন্যান্য চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকলেও ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত করার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি জেলা অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা।
তবে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, জেলার সব কয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সেকে ডেঙ্গু জ্বর সনাক্তকরণ কিট কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও বলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ১০২জন ডেঙ্গু রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে ৪৬জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো ৫৬জন এবং অন্যত্র রেফার করা হয়েছে আরো ৫জনকে। স্থানীয়ভাবে ৭জন রোগীকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, কালিগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কলারোয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অধিকাংশই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে সাতক্ষীরায় ফিরে এসেছেন। আক্রান্তরা সকলেই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ বিষয়ে দেবাহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুল লতিফ বলেন, ডেঙ্গুজ্বর সনাক্তকরণ এনএস-১ কিট সরকারিভাবে এখনও সরবরাহ করা হয়নি। তবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিডস অর্ডার করেছি। দুই একদিনের মধ্যে হাতে পাবো।
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মীর আবু মাসুদ বলেন, আমাদের এখানো কোন ডেঙ্গু রোগী আসেনি। আমাদের এখানে ডেঙ্গুজ্বর সনাক্তকরণ এনএস-১ কিট সরবরাহ নেই।
আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা: অরুণ ব্যানার্জি বলেন, আশাশুনি উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চল। আমরা খুব ভালো আছি। এখানে কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়নি। আমাদের এখানে ডেঙ্গুজ্বর সনাক্তকরণ এনএস-১ কিটের সরবরাহ নেই।
কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা: শেখ তৈয়েবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ৬ জন ডেঙ্গু রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪জন ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ২জন হাসপাতালে ভর্তি আছে। স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে ২জন। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে খবর শুনলে তাকে আমাদের খরচ নিয়ে এসে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। ডেঙ্গুজ্বর সনাক্তকরণ কিটের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে।
কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা: কামরুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত ৭জন ডেঙ্গু রোগীকে সনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৬জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গুজ্বর সনাক্তকরণ কিটেসর পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে জানান তিনি।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, আজ পর্যন্ত সাতক্ষীরায় মোট ১০২ জন ডেঙ্গু রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও পর্যন্ত ভর্তি রয়েছে ৪৬জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরো ৫৬জন এবং অন্যত্র রেফার করা হয়েছে আরো ৫জনকে। স্থানীয়ভাবে ৭জন রোগীকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে। জেলায় ডেঙ্গুজ্বর সনাক্তকরণ কিটের (পরীক্ষার উপকরণ) পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে কিডস কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এগুলো কোথায় পাওয়া যাবে সেই বিষয়েও বলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুজ্বর বিষয়ে স্বাস্থ্যবিভাগের পক্ষ থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন সচেতনামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আমি প্রতিদিনই বিভিন্ন উপজেলায় ভ্রমণ করছি এবং মানুষকে সচেতন করছি। জেলা প্রশাসানের পক্ষ থেকেও দেশের প্রথম ডেঙ্গু মুক্ত জেলা ঘোষণা করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।