কলারোয়ায় সৎপথের জীবন সংগ্রামী ভূমিহীন নিজের জমি দিলেন আরেক ভূমিহীনকে


প্রকাশিত : আগস্ট ৯, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘ইঁদুর খায় আর মরে, তেলাপোকা মরে, মাছি মরে, লাগবে চাবির রিং চিরুনি’- এমনইভাবে আরো বহুকিছু পণ্য নিয়ে হাঁকিয়ে বাজারের এ মাথা ও মাথা ট্রলিতে করে ঠেলে চলেছেন। বেচাকেনার এক ফাঁকে কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কেঁড়াগাছি বাজারে কথা হয় ভ্রাম্যমান সেই ব্যবসায়ী হকারের সঙ্গে। বেরিয়ে আসে তাঁর জীবনের সুখ-দু:খের সব স্মৃতি। জানালেন তাঁর জীবনের দিন বদলের গল্প।
ওই ব্যক্তির বাড়ির উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে। নাম রফিকুল ইসলাম (৬৫)। স্ত্রী, দুই কন্যা নিয়ে তাঁর সংসার। সরকারি এক টুকরা খাস জমিতে বসবাস করতেন রফিকুল ইসলাম। অভাব অনাটনের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এমনি অবস্থায় কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। তারপর অল্প পুঁজি নিয়ে স্বল্প পরিসরে শুরু করেন হকারের ব্যবসা। সেই থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রফিকুলের। ৪৫বছর যাবৎ তিনি উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিভিন্ন প্রকারের পণ্য নিয়ে বেচাকেনা করছেন। ইঁদুর, তেলাপোকা, মাছি মারার ঔষধসহ প্রয়োজনীয় টুকিটাকি জিনিস নিয়ে ফেরি করে বেড়ান তিনি।
রফিকুল আরো জানান-‘এই ব্যবসা করে সে নিজস্ব ভিটে বাড়ি কিনেছেন। দুই কামরা বিশিষ্ট ছাদের বাড়ি তৈরি করেছেন। সেখানে গোয়ালঘর, রান্নাঘরসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু তৈরি করেছেন। মেয়ে দু’টিকে ভলো ঘরে বিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা সুখেও আছে।’
আত্মতৃপ্তির সুরে রফিকুল বলেন ‘সৎপথে রোজগার করে এসব করেছেন। সৎপথে উপার্জন করার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। আমি আগে যে খাস জমিতে বসবাস করতাম সেটি বিনামূল্যে আরেকজন ভুমিহীনকে দিয়েছি। তারা সেখানে বসবাস করছে।’ বর্তমানে ভূমিদস্যুরা যেভাবে ভূমি দখল করার জন্য মরিয়া, ঠিক সেই সময় এক গরীব হকার বিনামূল্যে আরেকজন গরীব ভূমিহীনকে তাঁর জমি দিয়ে দিয়েছে যেটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
রফিকুল জানান আল্লাহ আমাকে অনেক সুখী রেখেছেন।’ আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন বলে আবারও তাঁর বেচাকেনা শুরু করলো- ‘লাগবে জম ইঁদুর খায় আর মরে তেলাপোকা মাছি মরে…।’