মামা ও গরু


প্রকাশিত : আগস্ট ১১, ২০১৯ ||

হিমাদ্রি হাবীব

ঈদের আগের দিন বেলা তিনটে
মামা আর আমি যাই গরু কিনতে।
জমে গেছে বেশ! বেশ! গরুর বাজার,
দিশি গরু মোটাতাজা হাজার হাজার।
হঠাৎ মামায় কয়, ‘গরুয়াল ভাই-
আমার যে অ্যাকখান গরু কেনা চাই!
গরু হবে উঁচুতাজা, বেশি হবে গোস,
রেগে গেলে গরু যেন করে ফোঁসফোঁস।
হালুম-হালুম করে ছাড়বে সে ডাক,
সাত হাত লেজ হবে, আর উঁচু নাক।
নাট নয়; বল্টুর মতো হবে মোটা,
মটুর সমান যার ঠ্যাং গোটাগোটা,
ছুটলে সে মনে হবে জেরি আর টম;
আর হবে গরুটার খুব দাম কম।”
দর করে কষাকষি গরু কেনা শেষ,
মামায় কিনেছে ভাই সরু গরু বেশ!
গরু নয়; যেন এক উঁচু থাম্বা-
খিদে পেলে গরু ডাকে ‘হাম্-হাম্-ব্’া।
পাতলুর মতো রোগা গরু নিয়ে ভাই,
ঢ্যাং-ঢ্যাং করে হেঁটে বাড়ি ফিরে যাই।
গরুর পিছনে মামা চলে আর বলে-
‘গরু কেনা হলো আজ বড় কৌশলে।
নাক-মুখ সব আছে; ভাঙা শুধু শিং
শিং ভাঙা গরু যায় টিং-টিং-টিং।’
গরুর লেজেতে মামা দেয় সুড়সুড়ি,
গরুটার আগে চলে মামাটার ভুঁড়ি।
বাড়ি গিয়ে মামা দেখি মারে শুধু হাঁক-
‘কোথায় রে পড়শিরা ? ডাক সব ডাক-
মস্ত এ গরুটাই চোখে দেখে যাক।’
আমাকেও বলে মামা “আন ব্যাটা পান”
পান খেয়ে মামা দেয় ছুরিতেই শান-
কাল হবে গরুটার জান কোরবান।
খড় এনে মামা কয়, ‘আহ্ ! গরু খা’
তবুও খায় না গরু- হাঃ হাঃ হাঃ!
রেগে গিয়ে ধরে মামা গরুটার কান,
বাম হাতে লেজ ধরে দেয় জোরে টান-
কুঁকিয়ে যে মরে গরু, যেন লবেজান!
রেগে গিয়ে মারে গরু এমন এক গুঁতো-
ছিটকিয়ে পড়ে মামা, ছিঁড়ে যায় জুতো।
অমনি এসেই গরু দেয় এক লাথি-
মামার বুকের যেন ভেঙে গেল ছাতি!
ঐখানে পড়ে মামা দেয় শুধু হামা
গরুর পায়ের খুরে ছিঁড়ে গেছে জামা!
থরথর কাঁপে মামা, গায় আসে জ্বর
সেই জ্বরে শুয়ে থাকে তিন দিন ভর।