আজ পবিত্র ঈদুল আযহা


প্রকাশিত : August 12, 2019 ||

এসএম শহীদুল ইসলাম: ডেঙ্গু আতঙ্ক আর বৈরি আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়েই আজ সোমবার উদযাপিত হবে মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আযহা। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১০ জিলহজ্ব (১২ আগস্ট) সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরা তাদের অন্যতম এ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করবেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা ঈদের নামাজ ও পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে পালন করবে ধর্মীয় দ্বিতীয় বৃহত্তম এ উৎসব। ঈদ উদযাপনে জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার ঈদগাহ ময়দান সমূহ নামাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঈদের দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে ঈদগাহের পাশাপাশি মসজিদগুলোও ঈদ নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার ১৬ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলিম এবারের পবিত্র ঈদুল আযহার উৎসবে মেতে উঠবে।
প্রধান প্রধান সড়কসহ ঈদগাহ ময়দানের প্রধান ফটকে সুসজ্জিত দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়ে ঈদ কার্ড বিতরণ, দেওয়ালে পোস্টার সাটানোসহ নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গরীব, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। প্রিয়জনদের সঙ্গে সে আনন্দ ভাগ করে নিতে অনেকেই দূর-দূরান্ত হতে পথের ক্লান্তি ভুলে নাড়ির টানে ছুটে এসেছেন নিজ জেলায়। ছোট-বড় সবারই অধীর অপেক্ষা এখন ঈদের দিনটির জন্য। ইতোমধ্যে কোরবানির পশু কেনা সম্পন্ন হয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা, সারাদেশে ডেঙ্গু আর বৈরি আবহাওয়ার মধ্যদিয়ে এবারের ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভবিক হলেও রয়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, শিক্ষা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ ডেঙ্গু দমনে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঈদ উপলক্ষে বাইরে থেকে আসা পরিবারের স্বজনদের শরীরে ডেঙ্গু জীবানু আছে কীনা তা পরীক্ষা করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সচেতন করা হয়েছে। একই সাথে বাড়ির আঙিনা ও আশেপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্যও বলা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও এসব প্রচারণার সাথে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েকটি স্তরে ভাগ হয়ে জননিরাপত্তা জোরদার করেছে।
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীক নিদর্শন হিসেবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর আগে থেকে শুরু হয় কোরবানির এ প্রচলন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। ওই অনন্য ঘটনার স্মরণেই ঈদুল আযহায় পশু কোরবানির এ রেওয়াজ চালু হয়। মহান আল্লাহপাকের প্রতি আনুগত্য এবং তাঁরই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের এ ঐতিহাসিক ঘটনার ধারাবাহিকতায় মুসলিম বিশ্বে কোরবানী ও ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়ে আসছে।
কোরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের পশুত্বকে পরিহার করা ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সোমবার সকালেই মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে যাবেন ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। নামাজের খুতবায় তুলে ধরা হবে কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করবেন ঈদের নামাজ। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন কোলাকুলির মাধ্যমে। নামাজ শেষে আল্লাহতায়ালার উদ্দেশে করা হবে পশু কোরবানি। সরকারি হিসাব মতে জেলাতে এবছর সব মিলিয়ে ৮০ হাজার পশু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলার বিনোদন পার্ক, সিনেমাহলসহ দর্শনীয় স্থান সমূহ বিশেষভাবে সজ্জ্বিত করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভাগুলো ও ইউনিয়ন পরিষদ ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
সাতক্ষীরা পৌরসভার উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণে জন্যপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রেখেছে। ঈদের দিন বেলা দু’টোর পর থেকে পরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে পৌর মেয়র তাজকিম আহম্মেদ চিশতি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঈদুল আযহা উপলক্ষে জেলা কারাগারসহ, সরকারি হাসপাতাল, শিশুসদনসহ বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে, সাতক্ষীরা পাওয়ার হাউজ জামে মসজিদে, সাতক্ষীরা কালেক্টরেট জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে জেলার সবকটি স্থানে ঈদুল আযহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে সূত্র জানায়।