মানবাধিকার কর্মী অপারেশ পালের ছেলের বৌয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু, হত্যা না আত্মহত্যা?


প্রকাশিত : August 13, 2019 ||

পত্রদূত ডেস্ক: মানবাধিকার কর্মী অপারেশ পালের ছেলের বৌয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১২ আগস্ট) বেলা তিনটার দিকে শহরের সুলতানপুর পালপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। তাকে ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্বামীকূলের দাবী সে আত্মহত্যা করেছে। অপরদিকে মেয়ের পিতা-মাতার দাবী যৗতুকের দাবিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার দেওয়া হচ্ছে। নিহত গৃহবধূ দিপিকা হাজরা কালিগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর গ্রামের অমিয় হাজরার মেয়ে।
নিহত গৃহবধূর মা কল্পনা হাজরা সাংবাদিকদের জানান, ২০১৮ সালে সুলতানপুর পালপাড়া গ্রামের অপারেশ পালের ছেলে অনিমেষ পালের সাথে তার মেয়ের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার মেয়েকে যৌতুকের দাবিতে তাকে প্রায় মারধর করা হতো বলে তিনি অভিযোগ করেন। চাহিদামত তাকে কয়েকদফা যৌতুকের টাকাও দেওয়া হয়। তার মেয়ে জামাই অনিমেষ পাল বাগেরহাটে চাকুরি করতো। মেয়েকে সেখানে যেতে দিত না শ্বাশুড়ি নিয়তি পাল ও শ্বশুর অপারেশ পাল। এমনকি মোবাইলেও জামাইয়ের সাথে কথা বলতো দিত না। গত কয়েকদিন আগে তার বাড়িতে (পিত্রালয়) মেয়েকে নিয়ে যায় জামাই অনিমেষ। ঈদের আগের দিন মেয়ে প্রথমে যেতে না চাইলে তাকে মারধর করে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার জামাই ফোন করে বলে আপনার মেয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনা শোনার পর আমরা আসলে জামাই বাড়ির লোকজন বলতে থাকে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন মেয়ের শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহৃ আছে। তিনি আরো বলেন, তার মেয়েকে প্রথমে হত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচার দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে অপারেশ পাল জানান, ছেলে অনিমেষ বাগেরহাটে চাকুরী করে। ঈদের ছুটিতে সে বাড়ি এসে বৌমাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যায়। কিন্তু সেখানে শ্বাশুড়ির সাথে মনোমালিন্যের কারণে ছেলে ও ছেলের বৌ ঈদের আগেই সাতক্ষীরায় ফিরে আসে। ঈদের দিন তার ছেলে অনিমেষ দুপুরে বন্ধুদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যেতে চাইলে বৌমা আপত্তি করে। এদিয়ে ছেলে ও বৌমার মধ্যে মনোমালিন্য হয় বলে তিনি শুনেছেন। অপারেশ পাল দুপুরের পর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে একটি মিটিংয়ে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীর ফোন পেয়ে ঘটনা জানতে পারেন। তিনি দিপিকা হাজরার মায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।