সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি


প্রকাশিত : August 14, 2019 ||

মিলন বিশ্বাস

মানুষ ভালো কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে আজীবন। বয়সের মধ্যে নয় কর্মের মাধ্যমে। আমি ছোটবেলা থেকে পিতা মাতার মুখে শুনে এসেছি একাত্তরের। যখন ভালো মন্দ বুঝতে শিখি তখন থেকে ইতিহাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। বঙ্গবন্ধুর নামটি আমার কাছে মনে হয়েছিল প্রত্যেক পিতা মাতা যেভাবে সন্তানের নাম রাখে তেমনি একটি নাম। আমি যখন ভালো মন্দ বুঝতে শিখি তখন জানতে পারি বাঙালি মাতৃভাষার জন্য আন্দোলন করে এই মহান পুরুষ। তাই এই কৃতিত্বের জন্য বঙ্গবন্ধু নামে ভূষিত হয়। শত বছরের বাঙ্গালির মুক্তি সংগ্রামের যিনি সার্বক্ষণিক নেতৃত্ব দিয়েছেন তার পরিচয় শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৭ মার্চ ১৯২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার (যিনি আদালতের হিসাব সংরক্ষণ করেন) ছিলেন এবং মা’র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ও ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের। ১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। নয় বছর বয়সে তথা ১৯২৯ সালে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জে মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হন। ১৯৩৪ থেকে চার বছর তিনি বিদ্যালয়ের পাঠ চালিয়ে যেতে পারেন নি। কারণ তার চোখে জটিল রোগের কারণে সার্জারি করাতে হয়েছিল এবং এ থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠতে বেশ সময় লেগেছিল। গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৩৮ সনে আঠারো বছর বয়সে তার সাথে ফজিলাতুন্নেসার বিয়ে হয়। এই দম্পতির ঘরে দুই কন্যা এবং তিন পুত্রের জন্ম হয়। হচ্ছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের এক মহানায়ক। তিনি অজপাড়াগাঁয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার মধুমতি নদীর তীরে বেড়ে ওঠা দুরন্ত কিশোর শেখ মুজিব আমৃত্যু সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন কালজয়ী নেতার আসনে। যতদিন বাঙালি থাকবে, বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বাঙালি জাতি এই মহান নেতাকে ভুলবে না। তিনি দেশের জন্য অকৃত্রিম ভালবাসা ও বাঙালি জাতির প্রতি নিজেকে বন্ধু হিসাবে সমার্পিত করেছিলেন। সেই জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বর্তমানে বাঙালি জাতির পাশে বঙ্গবন্ধুর মতো এখনো কোন সাহসী নেতার পরিচয় মেলেনি। তাকে আমরা হৃদয়ের মাঝে স্থান দিয়েছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে। আমি একজন চিত্রশিল্পী, ছবি আাঁকার মাধ্যমে সমাজের ভালোমন্দটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। শিশুদের মাঝে একাত্তরের বর্বরতা, বাঙালি জাতির উপর অত্যাচার, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। তাতে শিশুরাও একাত্তর সম্পর্কে অনেক কিছু ছবির মাধ্যমে জানতে ও বুঝতে পারে। আমিও বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি দিবসে তার একটি ছবি আঁকার চেষ্টা করি। বর্তমান সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং শিক্ষা মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় চারুকারু বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করার জন্য। টিভিতে টকশো অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সমাজসেবক আসেন। তাদের আলোচনায় সবার মুখে একটি কথা শিক্ষার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতির চর্চা দরকার। তবে তারা সমাজবিরোধী কাজের সাথে লিপ্ত হবে না। চিত্রশিল্পী এস.এম.সুলতানের সাক্ষাৎকার পেয়েছি যে, শিশু রংতুলির মাধ্যমে ফুলের ছবি আঁকে, দেশের ছবি আঁকে, সে শিশু সমাজের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। কোনো অপরাধ কাজে লিপ্ত হতে পারে না। তাই শিক্ষার সাথে সাথে চারুকারু বিষয়টি যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের সৎ পথে বড় হয়ে ওঠার দিক নির্দেশনা পায়। উপরের গুণী ব্যক্তিদের সাথে আমিও একমত পোষণ করি।আমাদের দেশের গুণী চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন স্যার যিনি বর্তমানে প্যারিসের প্রবাসী। তিনি সবসময় বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকেন। বঙ্গবন্ধু সাহাবুদ্দিন স্যারের ছবি আঁকায় মুগ্ধ হয়ে তাকে পুরুস্কৃত করেন। সেই সময় থেকে সাহাবুদ্দিন স্যার নতুন ভাবে ছবি আঁকার প্রতি আকৃষ্ট হয়। বাঙালি জাতি প্রতি বছর ১৫ই আগস্টে এই মহান নেতাকে মনে প্রাণে স্মরণ করে। এই আগস্ট বাঙালি জাতির কাছে অশ্রæভরা মাস। তাই আমার চিন্তা এবং চেতনা মনের ভাবনা এই দীর্ঘস্থায়ী সময়ে ক্ষণস্থায়ী জীবনে কিছু সমাজের জন্য তথা দেশের জন্য কিছু করা চিন্তা ভাবনা করে ২০০৩ সাল থেকে ছবি আঁকার একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করি। যার নাম খুলনা আর্ট একাডেমী। যেখানে কোমলমতি শিশুরা রংতুলি নিয়ে ছবি আঁকার জন্য আসে। যতসময় আমার কাছে থাকে তখন আমার কোনো প্রকারে অভাব মনে হয় না। ছবি আঁকার সাথে সাথে কবিতা আবৃত্তি, ছড়া ও গান গেয়ে থাকেন শিশুরা। এই সুন্দর পরিবেশে নতুন কিছু খুঁজে পাওয়া যায় শিশুদের কাছ থেকে এবং ২০১০ সাল থেকে চারুকলা পড়ার আগ্রহীদের জন্য প্রতিষ্ঠানে চারুকলা ভর্তি কোচিংটি পরিচালনা করি। খুলনা আর্ট একাডেমি ছাত্র- ছাত্রীরা এ পযন্ত ৯ টা ব্যাচ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ৮ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে যা চারুকলা, নাট্যকলা, সংগীতে ৯ টি ব্যাচের মোট ১৮৫ জন চূড়ান্তভাবে সাফল্য অর্জন করে যা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ টি ব্যাচের ৪ বার-ই ১ম,অন্যান্য বিশ্বনবদ্যালয়ে ও ২য়, ৩য় স্থান অর্জন করে ৯৫% শিক্ষার্থী চান্স পেয়েছে ষভারতের রবীন্দ্রভারতীতে ও আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা স্কলারশীপ নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী। আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই শোক দিবস, ভাষা আন্দোলন, একুশে ফেব্রæয়ারী বিষয় গুলির উপর ছবি আঁকা, প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।আমি একজন চিত্রশিল্পী সমাজে ভালো কিছু কারাই আমার উদ্দেশ্য বা চেষ্টা। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস নিয়ে শিক্ষাথীদের মাঝে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আঁকি ও তার সংক্ষীপ্ত জীবনী লিখি ২০১৫ ও ২০১৬ সালে। আমার লেখা খুলনার দৈনিক তথ্য পত্রিকায় প্রতিকৃতিসহ লেখা ১৫ আগস্ট প্রকাশিত হয়, পত্রিকার সম্পাদক এসএম নুর হাসান জনি ভাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই। আমার লেখা প্রকাশিত হওয়ায় আমি লেখার প্রতি আরো আগ্রহ বিকাশ ঘটে, আমার লেখা অসংখ্য কবিতা অসহায় মানুষের জীবন, সমাজের নানা ধরনের বিরূপ সৃষ্টিকারী মানুষ সমাজের আচরণ ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করি। ২০১৯ সালের ২০ জুলাই খুলনা মিউজিক ক্লাব ১৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আমাকে কবি হিসাবে সম্মাননা স্বারক আমার হাতে তুলে দেয়। আমাকে সবাই আর্শিবাদ করবেন আমি যেন সমাজের ভালো কিছু করার জন্য নিজেকে সবদা নিয়োজিত রাখতে পারি।
মুজিবের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৩৯ সালে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। এ বছর স্কুল পরিদর্শনে এসেছিলেন তদানীন্তন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং পরবর্তিতে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তিনি স্কুলের ছাদ সংস্কারের দাবীর উপর ভিত্তি করে একটি দল নিয়ে তাদের কাছে যান যার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। ১৯৪০ সালে নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনেযোগ দেন। সেখানে তিনি এক বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৪২ সনে ইনটারমিডিয়েট পাশ করার পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে (বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ) আইন পড়ার জন্য ভর্তি হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই কলেজটি তখন বেশ নামকরা ছিল। এই কলেজ থেকে সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অগ্রণী কাশ্মিরী বংশদ্ভুদ বাঙালি মুসলিম নেতা হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সান্নিধ্যে আসেন।এখানে তার ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল একটি পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন। ১৯৪৩ সনে বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ১৯৪৪ সনে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়ায় নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্র লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে শেখ মুজিব বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি কলকাতায় বসবাসকারী ফরিদপুরবাসীদের নিয়ে তৈরি “ফরিদপুর ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের” সেক্রেটারি মনোনীত হন। এর দুই বছর পর ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ১৯৪৭ সনে অর্থাৎ দেশবিভাগের বছর মুজিব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রী লাভ করেন। ভারত ও পাকিস্তান পৃথক হওয়ার সময়ে কলকাতায় ভয়ানক হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়। এসময় মুজিব মুসলিমদের রক্ষা এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সোহরাওয়ার্দীর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় শরিক হন। পাকিস্তান-ভারত পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি ৪ তারিখে প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ যার মাধ্যমে তিনি উক্ত প্রদেশের অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। এ সময় সমাজতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার নিম্নমানের উন্নয়নের জন্য এটিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে মনে করতে থাকেন। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবী নিয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্দোলনে অংশ নেয়ার মাধ্যমেই শেখ মুজিবের রাজনৈতিক তৎপরতার সূচনা ঘটে। ১৯৪৮ সনের ফেব্রæয়ারি ২৩ তারিখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন গণ-পরিষদের অধিবেশনে বলেন যে, উর্দূই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তার এই মন্তব্যে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদী শেখ মুজিব অবিলম্বে মুসলিম লীগের এই পূর্ব পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। ঐ বছরের ২ মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সম্মিলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মিলনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হয় যাতে শেখ মুজিব একটি প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এখান থেকেই সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই পরিষদের আহŸানে ১১ মার্চ ১৯৪৮ তারিখে ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘট পালনকালে শেখ মুজিবসহ আরও কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মীকে সচিবালয় ভবনের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ শেখ মুজিব এবং অন্য ছাত্র নেতাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। এদের মুক্তি উপলক্ষে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় র‌্যালী হয় যাতে মুজিব সভাপতিত্ব করেন। পুলিশ এই র‌্যালী অবরোধ করেছিল। পুলিশী কার্যক্রমের প্রতিবাদে শেখ মুজিব অবিলম্বে ১৭ মার্চ ১৯৪৮তারিখে দেশব্যাপী ছাত্র ধর্মঘটের ঘোষণা দেন। ১৯ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন। এতে ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ তারিখে ধারাবাহিকতায় ২৬ এপ্রিল মুসলিম লীগ বিরোধী প্রার্থী শামসুল হক টাঙ্গাইলে একটি উপ-নির্বাচনে বিজয় লাভ করেন। শেখ মুজিব তার সেই আন্দোলনের সফলতার জন্য উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশনের ধর্মঘট করেন যার জন্য তাকে আবার আটক করা হয়। এ সময়ই তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মাচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান। ২৩ জুন সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করার পর শেখ মুজিব মুসলিম লীগ ছেড়ে দিয়ে এই নতুন দলে যোগ দেন। তাঁকে দলের পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সচিব নির্বাচিত করা হয়। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২১ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। জেল থেকে বেরিয়ে তিনি আবার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দাবী আদায়ের আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন যার জন্য তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু তিনি এই জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করে তা আদায় থেকে বিরত থাকেন। ছাড়া পাওয়ার পরই খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেন। এ বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে আটক করে রাখা হলেও অচিরেই ছাড়া পেয়ে যান। এর পর মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সাথে মিলে লিয়াকত আলি খানের কাছে একটি প্রতিনিধিদল প্রেরণের চেষ্টা করায় ভাসানী এবং তাঁকে আটক করা হয়। এটি ছিল অক্টোবরের শেষদিকের কথা। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসের প্রথমদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের পূর্ব পাকিস্তান আগমনকে উপলক্ষ করে আওয়ামী মুসলিম লীগ ঢাকায় দুর্ভিক্ষবিরোধী মিছিল বের করে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে এবারও শেখ মুজিব আটক হন। সেই সময় ২ বছর জেল হয়েছিল। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন, উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে। এ ঘোষণার পর জেলে থাকা সত্তে¡ও মুজিব প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। জেল থেকে নির্দেশনা দেয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে পরিচালনায় তিনি ভূমিকা রাখেন। এরপরই ২১ ফেব্রæয়ারিকে রাষ্ট্রভাষার দাবী আদায়ের দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সময়ে শেখ মুজিব জেলে থেকে ১৪ ফেব্রæয়ারি থেকে অনশন পালনের সিদ্ধান্ত নেন। তার এই অনশন ১৩ দিন কার্যকর ছিল। ২৬ ফেব্রæয়ারি তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুলাই তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনের শেষে দলের সেক্রেটারী জেনারেল (মহাসচিব) নির্বাচিত হন। একই বছরের ১৪ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্যান্য দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭ টি আসনের মধ্যে ২২৩ টিতে বিপুল ব্যবধানে বিজয় অর্জন করে যার মধ্যে ১৪৩ টি আসনই আওয়ামী লীগ লাভ করেছিল। শেখ মুজিব গোপালগঞ্জে আসনে ১৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করেন। সেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল শক্তিশালী মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামান। ১৫ মে তাকে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। ২৯ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেয়। ৩০ মে করাচি থেকে ঢাকা ফেরার পর বিমান বন্দর থেকেই তাকে আটক করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন শেখ মুজিব আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত হন। ১৭ জুন আওয়ামী লীগ পল্টন ময়দানে আয়োজিত এক সম্মেলনে ২১ দফা দাবী পেশ করে যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২৩ জুন দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অর্জিত না হলে আইন সভার সকল সদস্য পদত্যাগ করবেন। ‘একটা সময় ছিল যখন এই মাটি আর মানচিত্র থেকে ‘বাংলা’ শব্দটি মুছে ফেলার সব ধরণের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। ‘বাংলা’ শব্দটির অস্তিত্ব শুধু বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আজ ঘোষণা করছি যে, এখন থেকে এই দেশকে ‘পূর্ব পাকিস্তানের’ বদলে ‘বাংলাদেশ’ ডাকা হবে’। মুজিবের এই ঘোষণার ফলে সারা দেশে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পশ্চিম পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ এবং সামরিক কর্তারা তাঁকে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে মূল্যায়িত করতে শুরু করেন। মুজিবের বাঙালি সংস্কৃতি ও জাতিগত আত্মপরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসনের বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। অনেক বুদ্ধজীবী ব্যক্তিত্ব্যের মতে, বাঙালিদের আন্দোলন দ্বিজাতিতত্ত¡কে অস্বীকার করার নামান্তর। এই দ্বিজাতিতত্তে¡র মাধ্যমেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাঙালিদের জাতিগত ও সংস্কৃতিগত এই আত্মপরিচয় তাদেরকে একটি আলাদা জাতিসত্ত¡া প্রদান করে। মুজিব পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলতে সমর্থ হন এবং কার্যত ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। মুজিব তার স্বভাবসুলভ ভংগীতে বলেন-‘ভুলে যেওনা আমি মাত্র তিনবছর সময় পেয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তোমরা কোনো দৈব পরিবর্তন আশা করতে পারোনা’। অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন। প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের ‘জাতির জনক’ বা ‘জাতির পিতা’ বলা হয়ে থাকে। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসাবে বেশি পরিচিত ছিলেন এবং তার উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’। তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪৭-এ ভারত বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুন ছাত্রনেতা। সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠীর প্রতি সকল ধরণের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি একসময় ছয় দফা স্বায়ত্ত¡শাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন যাকে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। ছয় দফা দাবীর মধ্যে প্রধান ছিল বর্ধিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন যার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকারের সাথে যোগসাজশ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তার বিচার শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করে। তথাপি তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়া হয় নি।পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মার্চ ২৫ মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।রহিমুদ্দিন খান শেখ মুজিবকে সামরিক আদালতে মৃত্যুদÐ প্রদান করে তবে তা কার্যকর করা হয় নি। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৭২-এর ১২ই জানুয়ারি তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মতাদর্শগতভাবে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন, যা সম্মিলিতভাবে মুজিববাদ নামে পরিচিত। সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্তে¡ও তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। শেষ সময়ে তিনি নিজেই হতাশ ও বিরক্ত হয়ে কোন দৈব পরিবর্তন ঘটানোর জন্য অধৈর্য্য হয়ে পড়েছিলেন। সন্দেহাতীতভাবেই মুজিবের উদ্দেশ্য ছিলো তার দেশ ও দেশের মানুষের উন্নয়ন ঘটানো। কিন্তু তিনি তার কাজ অসমাপ্ত রেখে আমাদের কাছ থেকে মুজিব একটা ‘সোনার বাংলা’ গড়তে চেয়েছিলেন, যে ‘সোনার বাংলা’র উপমা তিনি পেয়েছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে, ভালোবেসে মুজিব সেই ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে তার দেশের জাতীয় সংগীত নির্বাচন করেছিলেন। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দমনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে এক দলীয় রাজনীতি ঘোষণা করেন। এর সাত মাস পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে একদল সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন। মৃত্যু: নিজস্ব বাসভবন, ধানমন্ডি, ঢাকা, বাংলাদেশ মৃত্যুর কারণ: গুপ্তহত্যা, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ (বয়স ৫৫) সংক্ষিপ্তাকারে জীবনী দাম্পত্য সঙ্গী: বেগম ফজিলাতুন্নেসা সন্তান: শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল। ২০০৪ সালে বিবিসির সম্পাদিত একটি জরিপে শেখ মুজিবুর রহমান “সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি” হিসেবে সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত হন। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ৬ খুনির ফাঁসি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাÐের সঙ্গে জড়িত পলাতক ছয় খুনিকে ফাঁসি দেয়া হোক। হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হোক ১২ জন আসামীকে আদালত ২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল মৃত্যু দÐাদেশ দিলেও আব্দুল মাজেদ, রাশেদ চৌধুরী, মোসলেম উদ্দিন, নূর চৌধুরী, আব্দুর রশীদ ও শরিফুল হক ডালিম এরা বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হোক ।বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য কাজ অসমাপ্ত রেখে তিনি মারা যাবেন, তা তিনি বিশ্বাস করতেন না। তাঁর এ বিশ্বাস হয়তো পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি, কিন্তু এ কথা অবশ্যই স্বীকার্য যে যত দিন বাংলাদেশ থাকবে এবং যত দিন বাংলাদেশ বিশ্বের ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে, তত দিন তাঁর মৃত্যু নেই। তাঁর দৈহিক মৃত্যু তাঁর নিজ পরিবারের জন্য বেদনাদায়ক, তাঁর বন্ধুদের জন্য দু:খজনক, কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি বেদনা ও দু:খের ছিল বাংলাদেশের জন্য, যে বাংলাদেশ তাঁর মৃত্যুতে গভীর দু:খ-দুর্দশায় নিমজ্জিত হয়েছিল।’ তাঁর শেষ মন্তব্য ছিল, ‘আমি মনে করি, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই, কেননা দু:খ-দুর্দশার মধ্যেও বাংলাদেশ আবার যখন জেগে উঠবে, জাতিসত্তা পূর্ণতা পাবে, তখন তাঁর আত্মা আমাদের মধ্যে ফিরে এসে বলবে, তোমরা যদি আমার স্মৃতিচিহ্ন চাও, তবে তোমাদের চারদিকে তাকাও। আগামী দিনগুলোয় তাঁর স্মৃতি আমাদের মধ্যে জাগরূক হয়ে থাকবে এবং তা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আমি আশা করি, যে স্বাধীন ও শক্তিশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তার মৃত্যু নেই।বাংলাদেশের শত্রু পাকিস্থান তাদের কথা বা তাদের মানবতা ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা পরিচালনা করে। একই রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীকালে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। রহিমুদ্দিন খান শেখ মুজিবকে সামরিক আদালতে মৃত্যুদÐ প্রদান করে তবে তা কার্যকর করা হয় নি। শেখ মুজিবকে চাইলে হত্যা করতে পারতো কিন্তু করেনি শত্রæ হয়েও বাংলাদেশে মুক্তি দিয়ে পাঠিয়ে দিলো। দেশ প্রেমী মুজিবকে বাঙ্গালিরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। কতটা খারাপ এই দেশের মানুষ চিন্তা করা যায় যে দেশের জন্য প্রধান ভুমিকা রাখছেন তাকেই গভীর রাতে পরিবারের সবাইকে মেরে ফেললো। শেখ মুজিবুর রহমান সমাজের প্রত্যেকটি মানুষের হৃদয়ে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে। ‘দিনের আলোতে যিনি দেশের জন্য আন্দোলন করেছেন রাতের আঁধারে তাকে কেড়ে নিল’। দুই মেয়ে দেশের বাহিরে থাকায় তারা বেঁচে গেলো। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা পিতার সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলছে স্যাটেলাইট চালু, ডিজিটাল বাংলাদেশ, যমুনা সেতুর কাজ চলছে সোনার বাংলা গড়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। আজও কোন পুরুষ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জন্ম নেয়নি আমরা বঙ্গবন্ধুর পুনর জন্ম চাই সৃস্টি কর্তার কাছে। আমাদের কাছে আগস্ট মাস শোকের মাস…।