১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস: কালিগঞ্জে, কে কিভাবে পালন করলেন


প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৯ ||

এড. শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু:
আগষ্ট মাস বাঙালী জাতির জন্য শোকের মাস। ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট কালো রাত্রে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় বিপদগামী সদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাংলার রাখাল রাজা, বাঙালীর প্রিয় বঙ্গবন্ধু, বাংলার স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বাঙালী জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান নিজ বাসভবনে পরিবারের উপস্থিত সকল সদস্যসহ শাহাদাৎ বরণ করেন।
সেই থেকেই কলঙ্কিত ১৫ই আগষ্ট বাঙালী জাতির কাছে শোক দিবস এবং আগষ্ট মাসটি বাঙালী জাতির জন্য শোকের মাস হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এই মাসে এবং বিশেষ করে এই দিনে বাংলার সর্বস্তরের জনগণ গভীর শোকে মূহ্যমান থাকে এবং জাতির জনক শেখ মুজিবসহ সকল শহীদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে থাকে।
জাতীয় এই শোক দিবসে, কালিগঞ্জবাসীও দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর সাথে একাত্ম হয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে থাকে। ২০১৯ সালের ১৫ই আগষ্ট, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিল, কালিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন (সিভিল ও পুলিশ), প্রায় সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং ঐসকল রাজনৈতিক দল সমূহের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মহাবিদ্যালয় সমূহে মসজিদে, মন্দির সর্বত্র এই শোক অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র কোরআন মাজিদ তেলওয়াত, আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে শোক র‌্যালী শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে কাঁকশিয়ালী ব্রীজের দক্ষিণ পারে বঙ্গবন্ধু মূর‌্যালের পাদদেশে আলোচনা সভা, যোহর নামাজবাদ দলীয় কার্যালয়ে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান এবং কালিগঞ্জ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গণ আপ্যায়নের (মধ্যাহ্নভোজ) মাধ্যমে দিবসের কার্য্যক্রম সমাপ্তি করে।
অপরপক্ষে দেখা যায়, কালিগঞ্জ কাঁকশিয়ালী নদীর দক্ষিণ পারে, মুক্তিযোদ্ধা ইকো পার্কে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিগত উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রার্থনা করে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে “ঘোড়া” প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী, উপজেলা ৯নং মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক না পেয়ে “ঘোড়া” প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন এবং ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ৫নং কুশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে পরাজিত হয়ে ২০১৯ সালের ২৫ শে জুলাই অনুষ্ঠিত ৫নং কুশুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী অসংখ্য নাশকতা মামলার আসামী স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে “ঘোড়া” প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান (অদ্যবধি দায়িত্বপ্রাপ্ত না হওয়া) শেখ এবাদুল ইসলামগণ, এক শোক সভা করেছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের পরিভাষায়, সাঈদ মেহেদীর আয়োজনে আওয়ামী লীগ বিরোধী ও নৌকা বিদ্বেষী “ঘোড়া” সমিতি কালিগঞ্জ শাখা, শোকসভার নামে,২০১৩ সালের পর এই প্রথম কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে, প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ও জামাত শিবির এবং স্বাধীনতা বিরোধী জাতীয়তাবাদী দলের সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্য সমাবেশ করেছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের এরূপ উক্তির কারণ হচ্ছে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে ঐ সমাবেশে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে নাশকতা মামলার আসামী জঙ্গি মোস্তফা মেম্বর, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিতর্কিত ব্যক্তির পুত্র খায়রুল মেম্বর, জাতীয়তাবাদী দলের নেতা সাত্তার মেম্বর, নাশকতা মামলার আসামী জঙ্গি এবাদুল ইসলাম, শিবির ক্যাডার ও নাশকতা মামলার আসামী নাজমুল ইসলাম, চৌদ্দটি নাশকতা মামলার বিচারাধীন আসামী জামাত নেতা কাদের হেলালী, নাশকতা মামলার আসামী মাওঃ আব্দুর রহমান, শিবিরের স্বশস্ত্র ক্যাডার, নাশকতা মামলার আসামী রোকনুজ্জামান, মিজানুর রহমান, ফারুক হোসেন, জঙ্গি জামাত নেতা সিরাজুল মেম্বরসহ অসংখ্য বিচারাধীন নাশকতা মামলার আসামী, জঙ্গি জামাত ও শিবির নেতা এবং নাশকতা মামলার আসামী, জাতীয়তাবাদী দলের অসংখ্য নেতা ও কর্মীদেরকে। লেখক: এড. মোজাহার হোসেন কান্টু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের নেতা।