মালয়েশিয়ায় ছেলে নিখোঁজের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় ছেলে নিখোঁজের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে প্রবাসীকে জড়িয়ে মিথ্যা হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, পাটকেলঘাটা থানার ছোট কাশিপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আব্দুর রাজ্জাক মধু ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, পারিবারিক স্বচ্ছলতা ফিরাতে গত ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আমি মালয়েশিয়া যাই। সেখানে দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর যাবৎ অত্যন্ত সুনামের সাথে বিল্ডিং এর কনট্রাকশন কাজ করে আসছিলাম। গত ২০১৮ সালের অক্টোবরে আমার প্রতিবেশী মৃত বজলুর রহমানের পুত্র লিপটন বিশ^াস ফোনে আমাকে জানায়, পাটকেলঘাটার খোর্দ্দ এলাকার কওছার আলী খানের পুত্র হযরত আলী খান মালয়েশিয়ায় কয়েকমাস যাবত নিখোঁজ রয়েছে। যদি পারেন সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করবেন। নিজ এলাকার সন্তান হওয়ায় আমি হযরতকে বিভিন্ন মাধ্যমে সন্ধান করতে থাকি। এক পর্যায়ে নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের নওয়াখালী এলাকার এক বন্ধুর সাথে দেখা হলে, সে আমাকে বলে তোমাদের এলাকার একটি ছেলে জেলখানায় রয়েছে। তখন হযরত নিখোঁজের কথাটি আমি লিপটনকে বলি। তখন সে হযরতের পাসপোর্টের ফটোকপিটা পাঠাতে বলে জেল খানায় খোঁজ করার জন্য। আমি তাকে দিয়ে দুটি জেলখানায় খোঁজ করেও তাকে পায়নি।
এদিকে, হযরত আলীর মা আমার ফোনে বাংলাদেশ থেকে ফোন করে কান্নাকাটি করে তার সন্ধান করতে বলেন। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেও যখন তার কোন সন্ধান পায়নি তখন বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি অফিসে কর্মরত সেলিনা আক্তার শেলির কাছে যান হযরতের মা। শেলি আমাকে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ এ্যামবিসিতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। দ্বিতীয় বার শেলি কথামত সেখান গিয়েও তার কোন সন্ধান পায়নি।
এরপর গত ২৭ জুলাই ২০১৯ তারিখ রাতে আমি বাড়ি ফিরে আসি। পরদিন ২৮ তারিখ ভোরে হযরত আলীর মা সুফিয়া, লাভু খাঁ, ইব্রাহিম খাঁ, ইশারত খাঁসহ ১৫/২০ জন আমার বাড়িতে গিয়ে বলে হযরত কৈ? তার সন্ধান না দিলে তোকে ধরে নিয়ে যাবো, রাস্তাঘাটে পেলে খুন করবো, মিথ্যা মামলায় জেল খাটাবো বলে বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে। পরে তারা পাটকেলঘাটা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। থানা পুলিশ দুইবার মিমাংসা করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত ১৭ আগষ্ট সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে একটি মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করে তার মা সুফিয়া। সেখানে আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। এছাড়া বিষয়টি মিমাংসার জন্য শফি শেখ ও মধু বিশ^াসকে দিয়ে ৫লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়টিও মিথ্যা ভিত্তিহীন। যদি আমি হযরত নিখোঁজ হওয়ার সাথে জড়িত থাকবো, তাহলে দেশে ফিরে কেন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবো? প্রতিবেশি নিখোঁজ হওয়ায় আমি তাকে শুধু সন্ধানের চেষ্টা করেছি। অথচ তার পরিবারের সদস্যরা আমাকে ওই ঘটনায় জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন। আমি ওই মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে আমাকে মিথ্যা ঘটনায় জড়িয়ে যারা হয়রানির চেষ্টা করছেন তাদেকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ভাই আব্দুল কুদ্দুস, প্রতিবেশী রফিকুল বিশ্বাস, শেখ আলাউদ্দীন, আসাদুজ্জামান, আলমগীর হোসেন ও আতিয়ার রহমান।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে আবাসিক এলাকায় জনসচেতনতা তৈরি প্রয়োজন: খুলনার সিভিল সার্জন
খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আগস্ট মাসের সভা আজ (রবিবার) সকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সিভিল সার্জন এএসএম আব্দুর রাজ্জাক জানান, ডেঙ্গুজ¦রের প্রকোপ মোকাবেলায় নগরীর আবাসিক এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা প্রয়োজন। সরকারের সকল বিভাগের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। খুলনায় এপর্যন্ত পাঁচশত ৩৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ৯২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। খুলনায় ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কোন স্বল্পতা নেই। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সংগ্রহের জন্য জেলা হাসপাতালে ১০ লাখ এবং প্রতি উপজেলা হাসপাতালকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এর আলোকে সরকারি দপ্তরসমূহে গৃহীত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার তথ্য জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়ার আহবান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে সরকারি দপ্তরসমূহ অধিকতর জনবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রাপ্ত আবেদন এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের তথ্য নিয়মিত জেলা প্রশাসনকে অবিহিত করতে হবে। পাশাপাশি সকল দপ্তরে ই-নথি ব্যবস্থাপনা চালু করা এখন সময়ের দাবি। শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা সমূহে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয় উল্লেখ করে বিদ্যুৎ বিভাগকে জনভোগান্তি দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক। সভায় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তথ্য বিবরণী