সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি কবুতর পালনে অভির সাফল্য


প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৯ ||

রাহাত রাজা: হাঁস-মুরগী-ছাগল কিংবা গবাদি পশু পালন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জনের কথা অনেক শুনেছি। আমাদের দেশে কবুতর পালন করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন খুব একটা শোনা না গেলেও নীরবে নিভৃতে এই সাফল্য অর্জন করে চলেছে নূরুস সালাম অভি নামের এক যুবক। এলাকায় তিনি কবুতর প্রেমি নামেও বেশ পরিচিত। অভির এ কবুতর পালনের সাফল্য দেখে এলাকায় আরোও বেশ কিছু কবুতরের খামার গড়ে উঠেছে।
সুলতানপুর টিপিআই মাঠ এলাকার বাসিন্দা অভি। বয়স প্রায় ২৭ বছরের কাছাকাছি। নিজ বাড়ির ছাদে খুব সুন্দর পরিবেশে খাচায় গড়ে তুলেছেন কবুতর খামারটি। প্রচার বিমুখ হবার কারণে সাফল্যের খবরটি সংবাদ মাধ্যমে আসেনি।
শখের বশেই ২০০৫ সালে মাত্র ১৬ টি কবুতর দিয়ে তার যাত্রা শুরু। বর্তমানে আলাদা আলাদা ৯০ টি খাঁচায় ২০০ টি কবুতর রয়েছে তার। উন্নত জাতের কবুতরগুলোকে খাবার সরবরাহে ব্যস্ত থাকেন তিনি। দেশি বিদেশী ২০ প্রজাতির কবুতরের মধ্যে সো কিং, লক্ষ্যাই, মুক্ষি, পুটার, সিরাজী, সট পিস, শাটিং, হোমার, সো কিং, মুন্ডিয়ান, গ্রিবাজ কবুতর পালন করেন তিনি।
এই কবুতর পালনে তার ছোট ভাই তাকে সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন সময় রোগবালায় বেড়ে গেলে কবুতর পালন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সে সময় খাবার ও ঔষুধের দিকে বেশ নজর রাখতে হয়। খাবারের মধ্যে, সূর্য্যমুখির ফল, গম, ভুট্টা, কলায়, বাজারী, মুসরি, মুগডাল, মাসকলায় প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ১০০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় প্রতি জোড়া দেশি বিদেশী কবুতর বিক্রয় করেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অভির মতই অনেক খামারি রয়েছে। যে খামার গুলো থেকে পছন্দ অনুযায়ী এ সব উন্নত জাতের কবুতর সংগ্রহ করা হয়।
নূরুস সালাম অভি জানান, তার খামারের কবুতরকে তিনি কোন টিকা প্রদান করেন না। প্রতি দিন সকাল ৯ টা থেকে ১০টা এবং ৫ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত কবুতরের খাবার পানি দিয়ে থাকেন তিনি। অভি জানান অনেক দিন হল কবুতরের সাথে আছেন এ কারনে মাত্র ২ ঘন্টা সময় দিলেই খামারের কাজ হয়ে যায়। তবে নতুনদের বেশি সময় দেওয়া ভালো।
তার খামারে এখন প্রায় ৫ থেকে ৬ লাক্ষ টাকার কবুতর রয়েছে। প্রতি মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার কবুতরের বাচ্চা ও কবুতর বিক্রয় করেন তিনি। যারা নতুনভাবে কবুতর খামার করতে চান প্রথমে অল্প করে পালন করে বুঝে শুনে শুরু করা ভালো। তবে কবুতর পালন কে প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নেয়া ঠিক নয়। কবুতর খামার হল একটা বাড়তি আয়। পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শখ পূরণ ও আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এই কবুতর পালন শুরু করতে পারেন।