শ্যামনগরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৩০ জনেরও বেশি আহত: গুলিবিদ্ধ ১৭


প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৯ ||

শ্যামনগর প্রতিনিধি: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যকার সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। ১৮ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে ওই সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশের তড়িৎ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ১৭ জন গুলিবিদ্ধ হলেও আহত অনন্ত ১৩ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঈশ^রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এড. শোকর আলী এবং সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকৃত (উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান) সাদেকুর রহমান সাদেমের সমর্থকদের মধ্যে ঐ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বেলা দেড়টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের প্রায় ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়।
আহতদের মধ্যে আফছার আলী, আব্দুস সালাম, মো. আলম, আবু সাইদ, নুর মোহাম্মদ, আব্দুল বারেক, আওছাফুর রহমান, সফিকুল এবং শাহআলমকে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে সত্তোরোর্ধ্ব বয়সী নারী আয়েশা, ১০ বছরের আবজাল হোসেন এবং আকলিমা (১৮) ও ফতেমা বেগম (৪০)সহ গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েক নারী পুরুষ ও শিশুকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে পুলিশি হয়রানী এড়াতে তারা আহতদের হাসপাতালে নিচ্ছেন না।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীসহ স্থানীয়রা জানায়, বেলা সাড়ে দশটার দিকে শোকর আলী গ্রুপের আলিম প্রতিপক্ষ সাদেম গ্রুপের মুজিবর রহমানকে মারধর করে। মটর সাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে ঐ মারধরের পর দুই পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং বেলা দেড়টার দিকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এসময় দুই পক্ষ রামদাসহ দেশীয় নানা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে।
এক পর্যায়ে শোকর আলীর সমর্থকরা সাদেম সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে হামলা করে বলে দাবি করেন বৃদ্ধা আয়েশা, আশরাফ আলীসহ অনেকে। শোকর আলী সমর্থকদের হামলায় সাদেম গ্রুপের আব্দুল আলিম নামের এক ব্যক্তির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই জানান, বৃদ্ধা আয়েশা রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হলেও অন্য নারী ও শিশুরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সংঘর্ষের ঘটনা দেখছিলেন। এসময় পুলিশ দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গের চেষ্টায় গুলি ছুড়লে তারা চোখ, মুখ, কপালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শোকর আলী সমর্থকদের দাবি বিনা উস্কানিতে সাদেম সমর্থকরা তাদের লোকদের উপর হামলা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্যা আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্ট গানের গুলি চালায়। পরিস্থিতি বিকালের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।