পাওনা টাকা না নিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : আগস্ট ২১, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাওনা টাকা না নিয়ে উল্টো এক যুবককে অপর দুই যুবক কর্তৃক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা, খুন জখমের হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে উক্ত সংবাদ সম্মেলন করেন, আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের রামেশ্বর গাইনের ছেলে নবমুসলিম সিদ্দিকুর রহমান ওরফে যুগোল।
তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি ৯/১০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে একজন মুসলিম মেয়ের সাথে বিবাহ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলাম। আমার একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। ইসলাম গ্রহণ করায় আমার পিতা-মাতাসহ পরিবারের সকলেই আমাকে ত্যাগ করে। জীবিকা নির্বাহের জন্য আমি শহরের সংগ্রাম হাসপাতালে চাকরি করতাম। হাসপাতালে যাওয়ার আসার সুবাদে পরিচয় ঘটে পুরাতন সাতক্ষীরা বদ্দীপুর কলোনী এলাকার নাসির উদ্দীনের পুত্র কাজী ফখরুল ইসলাম রিপনের সাথে। রিপনের মিষ্টি মধুর কথায় তাকে বিশ^াস করে ধীরে ধীরে সম্পর্ক তৈরি হয়। এদিকে, হাসপাতালের বেতনের টাকায় সংসার ভালো চলছিলনা। সে কারণে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি ফার্মেসী করার সিদ্ধান্ত নিলে রিপন আমাকে সহযোগিতা করার আশ^াস দেয়। সরল বিশ^াসে তার কাছে ট্রেড লাইসেন্স করার দায়িত্ব দিয়ে আমি চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রাজশাহীতে যাই। ফিরে এসে দেখি আমার ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ডেকোরেশন করা দোকান সে নিজের নামে ট্রেড লাইসেন্স করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমি এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিপন আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, খুন জখম ও বাড়িতে মাদকদ্রব্য রেখে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার হুমকি প্রদর্শন করে। আমি কোন উপায় না পেয়ে আওয়ামী লীগের কিছু বড় ভাইকে জানানোর পর তারা রিপনকে বিষযটি নিয়ে বসলে রিপন ওই জায়গা এবং ডেকোরেশন বাবদ আমাকে ৪৫ হাজার টাকা দেওয়ার আশ^াস দিলেও টাকা না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে এবং রাস্তা-ঘাটে আমাকে খুন জখমের হুমকি প্রদর্শন করে এবং ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমার বাড়িতে পাঠিয়ে হয়রানির চেষ্টা চালায়।
এরমধ্যে সংগ্রাম হাসপাতাল থেকে আমার চাকরিটাও চলে যায়। কষ্টে উপার্জিত টাকা হারিয়ে নিঃম্ব হয়ে যখন বাড়ি বসে আছি। ঠিক তখনই আর এক প্রতারক যুবক, বহু বিবাহের নায়ক রসুলপুর মতলেবের মোড় এলাকার সাইফুল ইসলাম ওরফে হকার সাইফুল তার সাথে একসাথে টায়ারের ব্যবসা করার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা নেয়। আমি টাকা চাইলে সে বিভিন্ন টালবাহানা শুরু করে। কিছুদিনপর সাইফুলও প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে, কোন টাকা দিতে পারবো না, পারলে আদায় করে নিস। এরপর থেকে প্রায়ই পুলিশ আমার বাড়ি গিয়ে আমার বিরুদ্ধে মাদকের অভিযোগ আছে বলে জানান। আমি দীর্ঘ ১৪ বছর সাতক্ষীরায় বসবাস করছি কোন দিন পুলিশ আমার বাড়িতে যায়নি। অথচ রিপন ও সাইফুলের সাথে বিরোধ হওয়ার পর থেকে প্রায়ই পুলিশ আমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। যদিও তারা অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, রিপন ও সাইফুল দুইজনই মাদকাসক্ত। এমতাবস্থায় আমি একজন নব মুসলিম যুবক হিসেবে ওই দুই মাদকাসক্তের হাত থেকে টাকা উদ্ধার ও জীবনের নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।