আশাশুনির তালবাড়িয়া প্রাইমারী স্কুল নানাবিধ সমস্যা জর্জরিত


প্রকাশিত : আগস্ট ২২, ২০১৯ ||

আশাশুনি ব্যুরো: আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের ১১৭নং তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানবিধ সমস্যা জর্জরিত। এতে স্কুল পরিচালনা করতে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। নতুন বিল্ডিং (সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন) নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তালবাড়িয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্কুলটি ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার মানুষের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটির উপর ছাউনি দিয়ে ঘর নির্মান করে কোন রকমে ক্লাশ পরিচালনা কওে আসা হচ্ছিল। স্কুলের অবস্থান সন্তোষজনক হওয়ায় সরকার ২০০০ সালে ৩টি শ্রেণি কক্ষ ও একটি অফিস কক্ষ সম্বলিত একতলা বিল্ডিং এর ভবন নির্মাণ করে দেয়। সেখানেই স্কুল চলে আসছে। কক্ষ সংকটের কারণে দুই শিফটে স্কুল বসে আসছে। এতে সংকট কিছুটা কমলেও একটি শ্রেণির জন্য কোন কক্ষ অবশিষ্ট না থাকায় বিকল্পভাবে ক্লাশ পরিচালনা করা হচ্ছে। ১-১-২০১৩ তারিখে স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়। কিন্তু ক্লাশ রুম সংকটের কোন সুরাহা এখনো করা হয়নি। এদিকে ২০০০ সালে নির্মিত ভবনটির ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া, দরজা জানালা নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লে সেটি ২ বছর আগে সংস্কারের মাধমে কোন রকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। এতকিছুর পরও বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মোটামুটি ভাল। বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার হার বরাবরই ১০০%। তবে বিদ্যালয়ের সামনের মাঠটি বছরের বেশীর ভাগ সময় পানিয়ে তলিয়ে থাকে। খেলাধুলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে আছে। স্কুলে যাতয়াতেও বিকল্প পথ দিয়ে যাতয়াত করতে হয়। ভারি বৃষ্টি হলে খাল বিলের মধ্যেও এই স্কুলটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। স্কুলের করুণ অবস্থার কারণে অভিভাকরা তাদেও সন্তানকে এ স্কুলে পাঠাতে চাননা। ফলে স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। এছাড়া টয়লেট ব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য মাত্র একটিই টয়লেট রয়েছে। টিউবওয়েল ব্যবস্থা নেই। রেইন ওয়াটার হারবেষ্টিং এর মাধ্যমে খাবার পানির ব্যবস্থা করতে হয়। সবদিক মিলে স্কুলের অবস্থা করুন হলেও সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রিতা সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। দ্রুত স্কুলকে এগিয়ে নিতে সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল বিল্ডিং নির্মান ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে সাইক্লোন শেল্টার, মাঠ ভরাট, ল্যাট্রিন ব্যবস্থা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন অভিভাকমহলসহ এলাকাবাসী।