কলারোয়া হাজী নাছিরউদ্দিন কলেজের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন


প্রকাশিত : আগস্ট ২৪, ২০১৯ ||

আরিফ মাহমুদ: কলারোয়া উপজেলার ছলিমপুরের হাজী নাছির উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কয়েকজন শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতি কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।
শনিবার (২৪আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে কলেজ প্রধান গেটের সামনে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। সেসময় প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে সেখানে অবস্থান নেন। বর্তমানে কলেজ কর্তৃপক্ষের সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা ফুসে উঠে পোস্টার, প্লাকার্ড হাতে নিয়ে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে। দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় বিক্ষোভকালে সুশীতল কলেজ ক্যাম্পাস ও সামনের খোরদো-কলারোয়া সড়ক উত্তাল হয়ে ওঠে। তাদের বিভিন্ন দাবির স্লোগানে সেখানকার পরিবেশ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
তবে এসময় কোন অপ্রীতিক ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিক্ষোভকালে কলেজ ভবনে উপস্থিত শিক্ষকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ছাত্র-ছাত্রীদের দাবির মধ্যে ছিল- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, কলেজের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব প্রকাশ, বিভিন্ন অনিয়মে জড়িতদের বিচারের ব্যবস্থা করা, অস্বচ্ছল ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা, সঠিক সময়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান নিশ্চিত করা, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা, কলেজের প্রতিষ্ঠাতাসহ অত্র অঞ্চলের সম্মানিত ব্যক্তি, দাতাদের মূল্যায়ন ও মতামতের প্রাধান্য দেয়া, পরীক্ষার ফি ও ফরম ফিলাপের ফি বাড়তি না নেয়া, কলেজের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠাতাদের অগ্রাধিকার দেয়া, সিগারেটসহ মাদক সেবন রোধ ইত্যাদি।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে ছাত্রছাত্রীরা জানান- ‘কলেজ ক্যাম্পাসে অনেকে প্রকাশ্যে ধূমপান করেন। অথচ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের এ ব্যাপারে কোন মাথা ব্যাথা নাই বরং তারা এটিকে সমর্থন করেন।’
কলেজের ছাত্র রহমত, জনি, মেহেদী হাসান, রায়হান খানসহ আরও অনেকে বলেন- ‘আমরা কলেজে নানাভাবে লাঞ্ছিত হচ্ছি। অধ্যক্ষের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আমাদের পেটানো হয়েছে। আরোও নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়া হয়েছে। আমাদের পোস্টার ছিড়ে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।’
প্রাক্তন কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন- ‘অতীতে কলেজের সকল ছাত্র/ছাত্রীদের জন্য পরীক্ষার ফি ও বিনা বেতনে শিক্ষা গ্রহনের যে সুযোগ ছিলো তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কলেজের সার্বিক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠাতার অংশ গ্রহনের সুযোগ দিতে হবে।’
দুর্নীতিমুক্ত কলেজ প্রত্যাশা করে তারা আরো বলেন- ‘রিজার্ভ ফান্ডের টাকা গেল কৈ? এর জবাব দিতে হবে। জালিয়াতী নিয়োগ বাতিল ও বহিরাগতদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বলেন- ‘অধ্যক্ষের নিজের খামখেয়ালির শিকার আমাদের এই হাজী নাছির উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ। বর্তমান ভুতুড়ে ম্যানেজিং কমিটিতে প্রতিষ্ঠাতা পরিবারকে চরমভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।’
আদিত্য বিশ্বাস নামে উপস্থিত এক ব্যক্তি জানান- ‘যারা নিজেদের অর্থ, মেধা, শ্রম ব্যয় করে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই এনাম হকের পরিবারকে বর্তমান কলেজ প্রশাসন চরমভাবে অবমূল্যায়ন করে চলেছে, যেটা কোনভাবেই সমীচীন নয়।’
ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনের বিষয়ে হাজী নাছির উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আলিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান- ‘এগুলো ভিত্তিহীন বানোয়াট। ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসীরা আমার ও কলেজের বিরুদ্ধে কালিমা লেপে দেয়ার অপচেষ্টা করছে। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত। আমি দুর্নীতি ও ধুমপানের মত জঘন্য কাজকে কোনো ভাবেই প্রশ্রয় দেই না।’
কলেজের প্রতিষ্ঠাতার প্রতি ইঙ্গিত করে অধ্যক্ষ আরোও বলেন- ‘তিনি সভাপতি থাকাকালীন কলেজের সম্পদ লুটেপুটে খেয়েছে। এখন আর তা পারছেন না বলে স্থানীয় জনসাধারণ ও কিছু ছাত্রদের উসকানি দিয়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন।’
এদিকে, ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ’ধরণের পরিস্থিতি কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে হুমকিতে ফেলছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন জনতা।